‘কমেডি নাইটস উইল কপিল’-এর ‘দাদি’ হিসেবে আলি আসগরের জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। টিভির পর্দায় তাঁর হাস্যরস আর নারীচরিত্রে অভিনয়ের দক্ষতায় মুগ্ধ ছিলেন দর্শক। কিন্তু সেই তুমুল জনপ্রিয়তাই একসময় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি মণীশ পলের পডকাস্টে এসে আলি আসগর ফাঁস করলেন, কেন তিনি কপিলের শো-তে ‘দাদি’র চরিত্রে অভিনয় করা চিরতরে বন্ধ করে দিলেন।

 

 

পর্দায় হাসির রোল তোলা আলি আসগরের ব্যক্তিগত জীবনে তখন উঠেছে কান্নার রোল। মণীশ পলের পডকাস্টে আলি জানালেন, ‘দাদি’ বা ‘নানি’-র চরিত্র তাঁকে খ্যাতি দিলেও, তাঁর সন্তানদের স্কুলের বন্ধুদের দ্বারা বুলিং-এর শিকার হতে হয়েছিল। তাদের চূড়ান্ত খ্যাপানো হত।  তিনি বলেন, “‘দিওয়ার’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের হাতে লেখা ছিল ‘মেরা বাপ চোর হ্যায়’। আমার তখন মনে হতো, আমার সন্তানের হাতে কেউ যেন না লিখে দেয় ‘মেরা বাপ অওরত হ্যায়’ (আমার বাবা একজন মহিলা)!”

শুধু সন্তানরাই নয়, পেশাগত জীবনেও একঘেয়েমি গ্রাস করেছিল আলিকে। তিনি জানান, ‘কমেডি সার্কাস’ বা অন্য শো-গুলোতে লেখকরা তাকে সবসময়ই নারী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বাধ্য করতেন। আলি বলেন, “আমি কি প্রতিদিন শুধু ডাল-ভাত খাব? আমি তো পুরি-ভাজিও খেতে চাই! কিন্তু লেখকদের জন্য আমার চরিত্রটা একই জায়গায় আটকে গিয়েছিল। আমি তো নায়ক নই যে নিজের ইচ্ছেমতো চরিত্র বদলাব। কিন্তু আমি রোজ একই কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম।”


২০১৭ সালে ‘দ্য কপিল শর্মা শো’ ছাড়ার পর থেকেই আলি আসগরকে সেভাবে আর নিয়মিত নারীচরিত্রে দেখা যায়নি। ‘কাহানি ঘর ঘর কি’ দিয়ে কেরিয়ার শুরু করা আলি ‘পার্টনার’, ‘তিস মার খান’, ‘জুড়ুয়া ২’ এবং সাম্প্রতিক ‘শেহজাদা’-র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যা করেছেন তা কেরিয়ারের জন্য উজ্জ্বল ছিল, কিন্তু জীবনের কোনও পর্যায়ে দাঁড়িয়ে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলার ভয় তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছিল।