আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল ভেঙে খানখান। নেতারা যে যেদিকে পারছেন যাচ্ছেন। বহু নেতা কারাগারে। একাধিক নেতা নেত্রী দলীয় পদ থেকে দলত্যাগ করছেন। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা ইতিমধ্যেই পৃথক গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। অন্যদিকে সাংসদরা ইতিমধ্যেই সংসদে বিদ্রোহী ব্লক তৈরি করে, এনসিপিআই নামের এক দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে জুন মাসের আট তারিখে, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের পরে, মমতা-সোনিয়া এবং রাহুল-অভিষেকের বৈঠকের পরে জল্পনা ছাড়ায়, দলের ডামাডোল পরিস্থিতিতে কি এবার কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাবে মমতা-পন্থী তৃণমূল?

অন্যদিকে দলের অ্যাকাউন্ট, বিপুল অঙ্কের অর্থের ভবিষ্যৎ কী? দলের প্রতীক, নাম নিয়েও আইনি টানাপোড়েন শুরু হবে কি না, তা নিয়েও তুমুল জল্পনা। যদিও তৃণমূল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মিশে যাওয়ার  প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি যেমন যে কোনও নেতা-নেত্রীর দলে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সরাসরি শর্ত দিয়ে রেখেছেন, অন্যদিকে প্রদীপ ভট্টাচার্য, আব্দুল মান্নানের মতো বর্ষীয়ান নেতারা নিজেদের মন্তব্য প্রকাশ করেছেন।

দিনকয়েক আগেই, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের মধ্যে সম্ভাব্য সংযুক্তির জল্পনা সাফ খারিজ করে দিয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল। তিনি এই ধরনের গুজবকে "সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন" বলে অভিহিত করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক জানান, দল ইতিমধ্যেই অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং এই সংক্রান্ত খবরগুলিকে "নিছক গুজব" বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, "এটা সম্পূর্ণ গুজব। আমরা বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। সংযুক্তির খবর পুরোপুরি ভুল।" তাঁর মতে, মমতা-সনিয়া সাক্ষাৎ বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের অভ্যন্তরীণ আলোচনার অংশ ছিল। একে দুই দলের মধ্যে সংযুক্তির আলোচনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বেণুগোপাল বলেন, "অভিষেক ও মমতা জি, সোনিয়া জি এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এটা 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠকেরই একটি অংশ।"

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেকের সঙ্গে যথাক্রমে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সনিয়া ও রাহুল গান্ধীর বৈঠকের পর যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন কেসি বেণুগোপাল। অন্যদিকে, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও সনিয়া গান্ধী ও মমতা ব্যানার্জির বৈঠককে দুই দলের সংযুক্তিবলে মানতে নারাজ। 'এক্স'-এ এক পোস্টে রমেশ জানান, বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল তা নিয়ে প্রকাশিত খবরগুলো "সম্পূর্ণ ভুল"। তিনি বলেন, এই সাক্ষাৎটি ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং এতে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা দুই নেত্রীর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রতিফলন। তৃণমূলের তরফেও এই জল্পনাকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

এই পরিস্থিতিতে কী বলছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়? আজকাল ডট ইন-এর তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানান, 'আমি এই ধরনের কিছুই শুনিনি। তাই যে বিষয়ে কিছু শুনিনি, নিজে জানি না, সেই বিষয়ে মন্তব্য করি কী করে?'