আজকাল ওয়েবডেস্ক: কংগ্রেস এবং তৃণমূলের মধ্যে সম্ভাব্য সংযুক্তির জল্পনা বৃহস্পতিবার সাফ খারিজ করে দিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল। তিনি এই ধরনের গুজবকে "সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন" বলে অভিহিত করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক জানান, দল ইতিমধ্যেই অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং এই সংক্রান্ত খবরগুলিকে "নিছক গুজব" বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, "এটা সম্পূর্ণ গুজব। আমরা বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। সংযুক্তির খবর পুরোপুরি ভুল।"
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেকের সঙ্গে যথাক্রমে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সনিয়া ও রাহুল গান্ধীর বৈঠকের পর যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন কেসি বেণুগোপাল।
কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা জানান, মমতা-সনিয়া সাক্ষাৎ বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের অভ্যন্তরীণ আলোচনার অংশ ছিল। একে দুই দলের মধ্যে সংযুক্তির আলোচনা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
বেণুগোপাল বলেন, "অভিষেক ও মমতা জি, সোনিয়া জি এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এটা 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠকেরই একটি অংশ।"
মঙ্গলবার নয়াদিল্লির ১০ জনপথে সোনিয়া গান্ধী ও মমতা ব্যানার্জির মধ্যে বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, সোনিয়া গান্ধী তৃণমূল প্রধানকে কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্য শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
দিল্লিতে 'ইন্ডিয়া' জোটের নেতাদের বৈঠকের দু'দিন পর এই সাক্ষাৎটি হয়। ওই বৈঠকে জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে আরও ভাল সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এর ঠিক পরের দিনই তৃণমূলের-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি ১০ জনপথে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। এই সাক্ষাতই কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের মিশে যাওয়ার জল্পনাকে আরও উস্কে দেয়।
তবে কংগ্রেস এবং তৃণমূল - উভয় দলই সম্ভাব্য সংযুক্তির খবর খারিজ করে দিয়েছে।
তৃণমূল সূত্র এই জল্পনাকে ভিত্তিহীন বলেছে এবং জানিয়েছে যে- কংগ্রেসের সঙ্গে সংযুক্তির বিষয়ে কোনও প্রস্তাব বা আলোচনা হয়নি। জোড়া-ফুল শিবিরের এক প্রবীণ নেতা বলেন, "আমাদের কাছে এমন কোনও তথ্য নেই। এটা ভিত্তিহীন।"
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও সনিয়া গান্ধী ও মমতা ব্যানার্জির বৈঠককে দুই দলের সংযুক্তিবলে মানতে নারাজ। 'এক্স'-এ এক পোস্টে রমেশ জানান, বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল তা নিয়ে প্রকাশিত খবরগুলো "সম্পূর্ণ ভুল"। তিনি বলেন, এই সাক্ষাৎটি ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং এতে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা দুই নেত্রীর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রতিফলন। রমেশ বলেন, "সোনিয়া গান্ধী ও মমতা ব্যানার্জির বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল তা নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভুল। বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে অনেক ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।"
তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই বিধানসভা ও সংসদ, উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য ভাঙনের মুখে পড়েছে। বিদ্রোহী বিধায়কদের দাবি, তাঁদের পক্ষে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। তাঁরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করে তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক বিরোধী নেতা পদে প্রার্থী শোভনদেব চ্যাটার্জির পরিবর্তে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত ব্যানার্জিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
সংসদের ক্ষেত্রে, তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একটি পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী গঠনের কথা জানিয়েছেন এবং এনডিএ-কে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই বিদ্রোহ দলের ওপর মমতা ব্য়ানার্জির সাংগঠনিক কর্তৃত্বে বড়সড় ধাক্কা। তাঁর প্রতি অনুগত থাকা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।















