আজকাল ওয়েবডেস্ক: আধুনিক সময়ে আধুনিক চোরের হানা। ঘটনাটি বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির চত্বরের। সেখানে অভিনব পদ্ধতিতে ইউটিউব দেখে মন্দিরের প্রণামী বাক্স থেকে হাতসাফাই করেছে চোরেরা। পেশাদার চোরেদের কায়দায় মন্দিরে আগে থেকে মন্দিরের রেইকিও করেছিল ওই দুই চোর! সমাজমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে যখন বিস্তর আলোচনা, তখন চুরির কিনারা করতে গিয়ে উঠে এল নানাবিধ চাঞ্চল্যকর অথচ মজার তথ্য।
সূত্রের খবর, গত ১৪ জুলাই বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির চত্বরে চুরির ঘটনা ঘটে। দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের চারটি দানবাক্স ভেঙে নগদ টাকা চুরি করে দুষ্কৃতীরা। মন্দির চত্বরে থাকা শিবমন্দির থেকে পুজোর বাসনসামগ্রী ও সোনার গহনা নিয়ে চম্পটও দেয় তাঁরা। সেইদিনই দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ অভিযোগ জানান। তার পরিপেক্ষিতে তদন্তে নেমে সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখেন পুলিশ।
পুলিশি তদন্তের পর গত ২৭ শে জুলাই মহম্মদ আলমগীর সর্দার ও মনিরুল মন্ডলকে যথাক্রমে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর থানা এলাকার ও আমডাঙ্গা থানা এলাকার দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বর্ধমান আদালতে পেশ করে বর্ধমান থানার পুলিশ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ধৃত চোর মনিরুল স্বীকার করে, ইউটিউবে মন্দিরের ভিডিও দেখেই চুরির পরিকল্পনা করেন তাঁরা। তারপর রেইকিও করে মন্দিরে এসে! রাঢ়বঙ্গের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের চুরির ঘটনার পুলিশ কতৃক পুণনির্মাণের সময় এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি মেলে দুস্কৃতকারীদের কাছ থেকে ।
এরপর বুধবার চুরির ঘটনার পুননির্মাণ করা হয়। এ জন্য বর্ধমান থানার আইসি দেবব্রত মুখার্জীর নেতৃত্বে দুই অভিযুক্তকেই সর্বমঙ্গলা মন্দিরে নিয়ে নিয়ে আসা হয়। ঘুরে ঘুরে ঠিক কী ভাবে তালা ভেঙেছে, বাক্স ভেঙেছে সবই দেখান দুই চোর। চুরির পর মন্দির কমিটির তরফে জানানো হয়, আনুমানিক লক্ষাধিক টাকা চুরি হয়েছে প্রণামী বাক্স থেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রবীর ঘোষ জানান, পুলিশ খুবই তৎপর। খুব দ্রুত কিনারা করেছে এই চুরির। আর এক বাসিন্দা জগন্নাথ দে জানান, ছোটবেলায় শুনেছিলাম, ঘন্টা চুরি করতে এসে চোর মন্দিরে আটকে যায়। এবারে তেমন ঘটেনি।
















