সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Tollywood: ‘সোনার কেল্লা’ বাঙালির আবেগ, ওর সিক্যুয়েল হয় না: সন্দীপ।। পরিচিতির জন্য ওই ছবিই যথেষ্ট: কুশল

নিজস্ব সংবাদদাতা | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৭ : ৪৩


রাজস্থানের জয়সলমীর বাসিন্দাদের কাছে সত্যজিৎ রায় ইক্যয়াল্টু ভাস্কো দ্য গামা। তিনি না থাকলে, তাঁর পরিচালিত ছবি ‘সোনার কেল্লা’ না থাকলে মরুরাজ্যের এই প্রত্যন্ত শহরকে কে চিনত? সেই গৌরব ধারণ করে ছবিটির ৫০ বছর। ‘দ্য ড্রিমার্স’-এর সুদীপ্ত চন্দ মঙ্গলবার তারই উদযাপনের আয়োজন করেছিলেন। ছবির নানা দৃশ্য, পোস্টার দিয়ে তৈরি বর্ণময় ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে। সহযোগিতায় শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স। অন্যতম প্রধান চরিত্র ‘মুকুল’ ৫০ বছর পরে এদিন পা রাখলেন, ২২১, পদ্মপুকুর রোডে। যে পাড়া প্রথম ক্যামেরায় ধরেছিলেন কিংবদন্তি পরিচালক। অনুষ্ঠান সমৃদ্ধ সন্দীপ রায়, সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়, সত্যজিৎ-সংগ্রাহক দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের কর্ণধার রূপক সাহা এবং কুশলের উপস্থিতিতে। সেখানেই আজকাল ডট ইন সন্দীপের কাছে প্রশ্ন রেখেছিল, ৫০ বছর পরের মুকুল, সোনার কেল্লা, জয়সলমীর কি সিক্যুয়েলে ধরার কথা কখনও ভেবেছেন পরিচালক? জবাবে সত্যজিৎ-পুত্র বলেন, ‘‘কিছু ছবির সিক্যুয়েল হয় না। ‘সোনার কেল্লা’ও তেমনই ছবি। এই ছবি বাঙালির আবেগ। দ্বিতীয় সংস্করণ আনতে গেলে খুব নিখুঁত ভাবে তাকে তৈরি করতে হবে। তার চেয়ে ‘সোনার কেল্লা’ স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে থাক।’’ কুশলের দাবি, ৫০ বছর পরেও তাঁকে একডাকে মুকুল হিসেবে চেনেন সবাই। এমন ছবিই যে কোনও অভিনেতার স্বপ্ন। যা তাঁকে আজীবনের পরিচয় তৈরি করে দেবে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় দেবাশিস বসু।



বাড়ির বর্তমান মালিক রাতুলকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় সামিল হয়েছিলেন উদযাপনে। জানান, তিনি তখন স্নাতক পরীক্ষা দিয়েছেন। অবাক দৃষ্টিতে দেখতেন তাঁদের পাড়ায় স্বনামধন্য পরিচালক কীভাবে শুট করছেন। ছবির শেষদৃশ্যে ‘মুকুল’ কুশল চক্রবর্তীর হা হা হাসি মনে পড়লে আজও তাঁর গায়ে কাঁটা দেয়। এদিনের আড্ডায় ‘ফেলুদা’, ‘জটায়ু’ অনুপস্থিত। সেই অভাব পূরণ করে দিয়েছেন ‘তোপসে’ সিদ্ধার্থ। তাঁর সংযোজন, ‘‘পর্দায় সবাই ‘জটায়ু’ ওরফে সন্তোষ দত্তকে মজার লোক বলে চেনেন। বাস্তবে তিনি বেশ গম্ভীর ছিলেন। আইনজীবী, তাই শুটের অবসরে আইনের বই ঘাঁটতেন। মামলার কাগজপত্র তৈরি করতেন। বিপরীত ছিলেন ছবির দুষ্টু লোক ‘মন্দার’ ওরফে কামু মুখোপাধ্যায়। নানা কাণ্ড করে সেট মাতিয়ে রাখতেন।’’



সিদ্ধার্থের কথার সুর কুশলের কথায়, ‘‘আমাদের সকালে দুটো করে হাফ বয়েলড ডিম দেওয়া হত। আমার একটি কামুকাকুর জন্য বরাদ্দ থাকত। একদিন শুটের পরে দেখি দূরে কামুকাকু মুখ বেজার করে দাঁড়িয়ে। দুপুরের খাবার খেতে যাচ্ছেন না। তার আগে মানিক জেঠুর কাছে জোর বকুনি খেয়েছেন। ভেবেছিলাম, তার জন্য বোধহয় মনখারাপ। জিজ্ঞেস করতেই কামুকাকু জানিয়েছিলেন, সেদিন বাড়তি ডিম তিনি জ্যাকেটের পকেটে নিয়ে শট দিচ্ছিলেন। মানিক জেঠু আচমকা ঘুষিতে ডিম ফেটে জ্যাকেটে মাখামাখি! তাঁর আর খাওয়াই হল না।’’ সন্দীপ জানান, প্রচণ্ড শীতে শুট হয়েছিল জয়সলমীরে। তিনি নিজে শুটের অনেক স্থির চিত্র তুলেছিলেন। সত্যজিৎ রায় কেবলই এক কিংবদন্তি ছবির স্রষ্টা নন, একটি প্রত্যন্ত জনপদে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছিলেন। জয়সলমীরকে আজও পর্যটকেরা জানেন ‘সত্যজিতের শহর’। যেখানে মুকুলের নামে আস্ত একটা বাড়ি রয়েছে। দেবাশিস জানান, এই ছবির আগেও গুপী গাইন বাঘা বাইন সিরিজের একটি ছবির শুট সত্যজিৎ জয়সলমীরে করেছেন। কিন্তু শহর বিখ্যাত ‘সোনার কেল্লা’র কারণে।   



বিশেষ খবর

নানান খবর

Earth day 2024 #Aajkaal #EarthDay2024 #EarthDay #aajkaalonline

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া