শনিবার ২০ জুলাই ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

EXCLUSIVE: সুজাতা আদৌ রাজনীতিক নয়, আগের বার জিতেছিলাম ব্র্যান্ড মোদির জোরে: সৌমিত্র

Riya Patra | ১৭ এপ্রিল ২০২৪ ১৭ : ৫৫


রিয়া পাত্র 
কংগ্রেসের হাত ধরেই রাজনীতির ময়দানে, পরে তৃণমূল ঘুরে গেরুয়া শিবিরে। একই কেন্দ্র থেকে পরপর দু"বার ভিন্ন দলের হয়ে লোকসভা ভোট জিতেছেন। দ্বিতীয় দফায় ভোট জিতে বলেছিলেন, স্ত্রীর জন্যই তাঁর এই জয়। সেই স্ত্রী বনিবনা না হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নিলে জনসমক্ষে ডুকরে কেঁদে বলেছিলেন, "রাজনীতি করতে করতে বুঝতে পারলাম না কখন ঘরের লক্ষ্মীটাই চুরি হয়ে গেল।" প্রাক্তন স্ত্রী এখন তাঁর বিরুদ্ধে সেই লোকসভা কেন্দ্রেই প্রার্থী। সব মিলিয়ে লড়াই কেমন এবার সৌমিত্র খাঁয়ের? 

* বেশ অনেকটা সময় রাজনীতির ময়দানে, এই নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য লোকসভা ভোট লড়বেন, পরিস্থিতি কী মনে হচ্ছে?
সৌমিত্র: সারাবছর মানুষের সঙ্গে থাকলে ভোটের সময় আলাদা কিছু মনে হয় না। রাজনৈতিক নেতারা সারাবছর রাজনীতিটাই করে। আমাদের ৫ বছরে গ্রামপঞ্চায়েত, বিধানসভা, পুরসভা এসব মিলিয়ে অন্তত ৪টা ভোট করাতে হয়। ২০০৬ থেকে রাজনীতিতে। তার আগে কলেজেও রাজনীতি করেছি। জানেন তো, বিষ্ণুপুরের মানুষের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন যুক্ত। মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টি, মোদি গ্যারান্টি দেখে ভোট দেবে।

* সৌমিত্র খাঁয়ের রাজনীতির গ্রাফ দেখলে প্রশ্ন জাগে, মানুষ দল দেখে ভোট দেন, নাকি ব্যক্তি সৌমিত্রকে? 
সৌমিত্র: মানুষ ভোট দেন দল দেখেই।

* কিন্তু একই কেন্দ্রে আপনি একবার জিতলেন তৃণমূল থেকে, ওই কেন্দ্র থেকেই আবার বিজেপির প্রতীকে জিতলেন...
সৌমিত্র: সারাবছর জনসংযোগ থাকলে, মানুষ আমার থেকে মুখ না ফেরালে, তাদের প্রশ্নের উত্তর পেলে মানুষের কাছে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। পার্সেন্টেজ অফ ভোট থাকে একটা। সেখানে ৪-৫ শতাংশ ভোট থাকে প্রার্থীর নিজের ব্যক্তি ইমেজের ওপর। এটাও খুব দরকার যাঁরা দ্বিতীয় দফায় ভোট লড়েন। 

* পরপর তিনটে আলাদা রাজনৈতিক দল, দুই পৃথক দলের হয়ে ভোট জেতা। শেষবার মানুষ দলকে ভোট দিল, নাকি ব্যক্তি আপনাকে?
সৌমিত্র: দল শেষ কথা। তার সঙ্গে লক্ষ্য থাকে প্রার্থীর উপস্থিতির ওপরেও। এলাকায় কাজ, কাজের চেষ্টা দেখেন মানুষ সবসময়। নিশ্চয় সেই জায়গাটা আমি অর্জন করেছি, গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়নি।

* ২০১৯-এর লোকসভা ভোট, আপনাকে জিতিয়ে দিয়েছিলেন যিনি, সেই "লক্ষ্মী চুরি" গেছে বলেছিলেন। এই ভোটে আবার তিনিই আপনার বিপক্ষে প্রার্থী। সমীকরণ ঘেঁটে যাচ্ছে না?
সৌমিত্র: নরেন্দ্র মোদিকে দেখে ভোট হয়েছিল রাঢ় বাংলায় এবং গোটা দেশে। ভারতীয় জনতা পার্টির প্রভাব ছিল অনেক। বিধায়করা পাশে ছিলেন। স্ত্রী সামনে থেকে ঘুরেছেন, তবে মোদির দলের ব্র্যান্ড ছিল। আমি আগেও বলেছি, আবার বলছি সুজাতাকে আমি রাজনীতিবিদ বলে মনে করি না। ওঁর মানুষের সঙ্গে সংযোগ নেই, আরামবাগে বিধানসভা ভোট হারার পরেও মানুষের সঙ্গে সংযোগ রাখেনি। সমাজসেবী হিসেবেও আমি ওঁকে বড় কিছু মনে করি না। এটা ব্যক্তিগত সম্পর্কের নয়, মানুষের জন্য কাজ করার জায়গা। 

* এই দফাতে ভোট জিতে গেলে মানুষের জন্য কাজের তালিকা কী?
সৌমিত্র: বিষ্ণুপুরে একটা ২হাজার একর জমি আছে। ফাঁকা রয়েছে, সেখানে ইন্ডাস্ট্রি তৈরির ভাবনা চলছে। নতুন হাইওয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। সোনামুখীর বালুচরিকে আরও উন্নত জায়গায় আনার এবং বিষ্ণুপুরের ১২টি মন্দিরকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য যথাসাধ্য লড়াই করে যাব। জোর দেব শিল্পতে। বড় বড় শিল্পপতিদের কাছে গিয়ে কথা বলব। প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েও অনুরোধ জানাব।

* গত ১০ বছর এই কেন্দ্রের সাংসদ আপনিই, তাহলে এই কাজগুলির কথা আগে ভাবেননি?
সৌমিত্র: ১০ বছরে কাজও করেছি অনেক। ষাঁড়েশ্বর মন্দির থেকে বিষ্ণুপুর-জয়রামবাটি রেলপথ, এসবের জন্য বিপুল অঙ্কের অনুমোদন আনিয়েছি। সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বাঁকুড়া -হাওড়া ভায়া মসাগ্রামের সংযুক্তি করাতে পেরেছি রেলপথে, এটাই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বাঁকুড়া, বেলিয়াতোড় সহ এদিকের বহু মানুষ সহজে হাওড়া যেতে পারবেন। এমন অনেক কাজ করিয়েছি যেগুলো প্রায় ৭০ বছর আটকে ছিল।কেন্দ্র সরকারের ১১খানা প্রকল্প করিয়েছি আমি। 

এই ভোটে সৌমিত্রর ইউএসপি কী?
সৌমিত্র: যুবকদের স্বার্থে কাজ, সত্যি কথাকে সত্যিভাবে বলি।

* আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী, নাকি লড়াই নিজের সঙ্গেই?
সৌমিত্র: সত্যি বলতে আমার টার্গেট আগের বারের পাওয়া ভোট। গতবার আমি ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬৮৫ ভোটে জিতেছিলাম। এটা পেরিয়ে যাওয়াই আমার কাছে চ্যালেঞ্জ। ভারতীয় জনতা পার্টির বিধায়ক, কর্মীরা এর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন যথেষ্ট।




বিশেষ খবর

নানান খবর

Advertise with us


রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া