আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার রবিন উথাপ্পার বিশ্বাস, কিশোর ব্যাটিং প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী ভবিষ্যতে সাদা বলের ক্রিকেটে শচীন তেণ্ডুলকরের চেয়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক বছরে বৈভবকে কীভাবে পরিচালনা করা হয়, সেটিই তাঁর কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

কমবক্সটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উথাপ্পা বলেন, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বৈভব অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। তবে ভারতীয় ক্রিকেটে এর আগেও অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার দুর্দান্ত সূচনা করেও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। 

তিনি বলেন, “বৈভব সাদা বলের ক্রিকেটে শচীন তেণ্ডুলকরের চেয়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু তাকে কীভাবে গড়ে তোলা হয়, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেখেছি, বিনোদ কাম্বলি কিংবা পৃথ্বী শ’র মতো ক্রিকেটারদের নিয়ে ১৭-১৮ বছর বয়সে বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে তারা পথ হারিয়ে ফেলেছে।”

সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও স্বপ্নের সূচনা করেছেন বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তাঁর নির্ভীক ব্যাটিং, পরিণত মানসিকতা এবং বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের ক্ষমতা তাঁকে ভারতের অন্যতম আলোচিত তরুণ ক্রিকেটারে পরিণত করেছে।

উথাপ্পার মতে, শুধুমাত্র প্রতিভা নয়, দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য পেতে হলে বৈভবকে নিজের লক্ষ্য ও মানসিকতা অটুট রাখতে হবে।

তিনি বলেন, “আগামী পাঁচ বছরই হবে বৈভবের প্রথম বড় পরীক্ষা। এখন বয়স ১৫। বৈভব কি ২০ বছর পর্যন্ত ক্রিকেটের প্রতি একই রকম নিষ্ঠা ও নিষ্পাপ মনোভাব ধরে রাখতে পারবে? বৈভবের মধ্যে যে সারল্য রয়েছে, সেটি যেন সুরক্ষিত থাকে।”

বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন উথাপ্পা। তবে তিনি মনে করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খ্যাতি ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা আকর্ষণ তরুণ ক্রিকেটারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, “আমি ভালবাসি যে বৈভব এখন সব ধরনের বিজ্ঞাপন থেকে দূরে থেকে শুধু ক্রিকেটে মনোযোগ দিচ্ছে। তবে ১৮ বছর বয়সে মানুষ  বৈভবকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখবে। তখন জনপ্রিয়তা, সামাজিক আকর্ষণ—এসবই বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে।”

উথাপ্পা আরও বলেন, যে কোনও ক্রিকেটারের কেরিয়ারেই উত্থান-পতন থাকে। সেই কঠিন সময়গুলো সামাল দিতে বৈভবের পাশে শক্তিশালী পরিবার, পরামর্শদাতা ও সহায়ক পরিবেশ থাকা জরুরি।

তার ভাষায়, “কেরিয়ারে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে। সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করবে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু আশা করি, তার পাশে এমন মানুষ থাকবেন যারা ওকে বাইরের চাপ থেকে রক্ষা করবেন এবং সঠিক সময় পর্যন্ত তাকে নিরাপদ পরিবেশে রাখবেন।”

সবশেষে তিনি বলেন, “আমরা যতই চাই না কেন, বৈভবের কেরিয়ার একেবারে মসৃণ হবে না। উত্থান-পতন থাকবেই। সেটাই একজন ক্রিকেটারের যাত্রার অংশ।”

বৈভব সূর্যবংশীর প্রতিভার প্রশংসা করলেও, উথাপ্পার বার্তা ছিল সতর্কতার। তাঁর মতে, সঠিক দিকনির্দেশ, ধৈর্য এবং সুরক্ষিত পরিবেশ পেলে বৈভব ভবিষ্যতে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়তে সক্ষম হবেন।