আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস নিয়ে উত্তাল দিল্লি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি উঠছে চারিদিকে। ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীরা যোগ দিয়েছেন বিক্ষোভে। সংসদ অভিযানে পড়ুয়াদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের পর প্রতিবাদে সামিল হয়েছে গোটা দেশ। বাদ যায়নি ক্রীড়াবিদরাও। এবার দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সওয়াল করলেন শচীন তেন্ডুলকার। এই প্রসঙ্গে নিজের ফেসবুক পেজে একটি বড়সড় পোস্ট করেন মাস্টার ব্লাস্টার। 

শচীন লেখেন, 'আমার বাবা প্রফেসর ছিলেন। বহু ছাত্র-ছাত্রীদের মেন্টর এবং গাইড ছিলেন। তাঁদের মধ্যে শুরুতেই একটা শিক্ষার বীজ বপন করতেন। সেটা হল, 'ব্যর্থতা মানা যায়, প্রতারণা নয়। কখনও শর্টকাট নেওয়া উচিত নয়।' সমাজের একজন প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে, সংস্কৃতি গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। যে সমাজ প্রচেষ্টার থেকে রেজাল্টকে বেশি গুরুত্ব দেয়, সেখানে মেধার থেকে শর্টকাটের দিকেই এগোবে। পরিশ্রমের মূল্য না পেলে ছাত্রছাত্রীদের হতাশা বোধগম্য। সামগ্রিকভাবে আমাদের চেষ্টা করতে হবে, যাতে ওদের আর এই অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যেতে না হয়।' 

খেলাধুলোর পাশাপাশি যেকোনও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মনোভাব ব্যক্ত করেন শচীন। এবারও ব্যতিক্রম নয়। পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাস্টার ব্লাস্টার আরও লেখেন, 'তরুণ ভারত স্বপ্ন এবং প্রাণশক্তিতে ভরপুর। ওরাই আমাদের সাফল্যের চালিকাশক্তি। সমাজের অঙ্গ হিসেবে অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, স্কুলের একটা বড় দায়িত্ব আছে। তরুণদের উৎসাহিত এবং প্রাণবন্ত রাখার জন্য আমাদের সবার বিভিন্ন ভূমিকা আছে। এমন একটা সংস্কৃতি গড়তে হবে, যেখানে পরিশ্রমের স্বীকৃতি পাওয়া যায়। সততাকে উৎসাহিত করা হয়, এবং মেধা জেতে। আমি নিশ্চিত, আমরা এমন সমাধান খুঁজে বের করতে পারব, যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে সুদৃঢ় করবে এবং তাঁদের আকাঙ্ক্ষাকে সুরক্ষিত রাখবে।' 

প্রসঙ্গত, মাস দুয়েক আগে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ছাত্রবিক্ষোভের মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজপথে নেমেছে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী। সরকার এখনও কোনও নমনীয়তা না দেখালেও, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছাত্রছাত্রীরা।