আজকাল ওয়েবডেস্ক: অজিত আগরকরের মেয়াদ আগামী সেপ্টেম্বরেই শেষ। যদিও শুরুতে ধারণা করা হচ্ছিল, ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন, তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় পরিস্থিতি বদলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইংল্যান্ড সফরে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে রোহিত শর্মার আউট হওয়ার পর তাঁর অবসর নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রয়েছেন রোহিত। সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচে রোহিতের ১৩৮ রানের ইনিংসের পরও এই বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনাই আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগরকরের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন ভারতের প্রাক্তন তারকা ব্যাটার ভিভিএস লক্ষ্মণ। বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অব এক্সেলেন্স-এর প্রধান। গত কয়েক বছরে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর অনুপস্থিত থাকলে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্বও সামলেছেন লক্ষ্মণ।
তবে আগরকরের বিদায় বা লক্ষ্মণের নিয়োগ, কোনও বিষয়েই এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সেপ্টেম্বরে বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভাতে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সিনিয়র ক্রিকেটার রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিও লক্ষ্মণের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার মাটিতে ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হতে চলা টেস্ট সিরিজে ভারতের পারফরম্যান্স আগরকরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এই সিরিজে চোটের কারণে দলে নেই জশপ্রীত বুমরাহ ও ওয়াশিংটন সুন্দর। তাঁদের পরিবর্তে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন সারাংশ জৈন ও আকিব নবি। এছাড়া সাই সুদর্শনের খেলাও নির্ভর করছে তাঁর ফিটনেস ছাড়পত্রের উপর।
আগরকর প্রধান নির্বাচক থাকাকালীন ভারত ২০২৩ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছিল। এছাড়া ২০২৪ ও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জিতেছে দল। তবে টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের মুখে পড়তে হয়েছে ভারতকে। পাশাপাশি মহম্মদ সামিকে ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করার মতো কয়েকটি নির্বাচনী সিদ্ধান্তও সমালোচনার মুখে পড়েছে।
এবারের শ্রীলঙ্কা সফরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল পারফরম্যান্স করা একাধিক ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত আগরকরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। এমনও হতে পারে, এটাই প্রধান নির্বাচক হিসেবে তাঁর শেষ টেস্ট দল নির্বাচন।
















