গণপরিবহন ও পাবলিক প্লেসে নারীদের নিরাপত্তা এবং শ্লীলতাহানির ঘটনা নিয়ে সারাদেশে প্রতিনিয়ত উদ্বেগ বাড়ছে। তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ, এক ব্যক্তি আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করায় চুপ না থেকে নিজেই ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এক তরুণী।
তবে সেই সংঘাতের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনরা দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। 'এক্স'-এ পোস্ট হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ এক তরুণী অভিযুক্ত ব্যক্তির কলার ও গলা চেপে ধরে জবাবদিহি চাইছেন। “বলো, তুমি কী করলে?”—বারবার চেঁচিয়ে এই প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় তাঁকে। চীৎকার শুনে চারপাশে ভিড় জমানো পথচারীরা বিষয়টি জানতে চাইলে ওই তরুণী অভিযোগ করেন, ব্যক্তিটি ইচ্ছা করে তাঁর উরুতে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেছেন!
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই ব্যক্তি অনবরত নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি কেবল পাশ কাটিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ইতিমধ্যে উপস্থিত পথচারীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তরুণীকে জানান যে ওই ব্যক্তি শারীরিক প্রতিবন্ধী। ভিড়ের মধ্যে থেকে অনেকেই বলতে থাকেন, "উনি প্রতিবন্ধী, বিষয়টিকে এভাবে না বাড়িয়ে শান্ত হন।" কিন্তু ক্ষুব্ধ তরুণী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কারও শারীরিক সীমাবদ্ধতা এই ধরনের আচরণের অজুহাত হতে পারে না!
This lady grabbed a man's throat and publicaly accused him of touching her thighs inapproximately.
— Pankaj (@Ragepkj)
She repeatedly demanded that he should apologize, while the man insisted he had done nothing wrong.
Moments later, it was revealed that the man was physically disabled. pic.twitter.com/XVYSygACRSTweet by @Ragepkj
অবশেষে পথচারীদের মধ্যস্থতায় অভিযুক্তকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দিয়ে তরুণী সেখান থেকে চলে যান। যদিও ঘটনাটি ঠিক কোথায় ঘটেছে এবং এর পিছনের সম্পূর্ণ সত্যি কী, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদল মানুষ তরুণীর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলছেন, কোনো
ও ধরনের হেনস্থাই মুখ বুজে সহ্য করা উচিত নয়। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "প্রতিবন্ধী হওয়া মানেই কাউকে অশালীনভাবে স্পর্শ করার ছাড়পত্র পাওয়া নয়।" অন্য একজন মন্তব্য করেন, "মেয়েটি একদম ঠিক করেছে। কারণ ছাড়া কোনো নারী মাঝরাস্তায় এভাবে গর্জে ওঠেন না।"
অন্যদিকে, নেটপাড়ার আরেকটি অংশ মনে করছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং প্রকাশ্যে কাউকে বিচার করার আগে পরিস্থিতি সতর্কভাবে খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। তাঁদের মতে, অনিচ্ছাকৃত স্পর্শের ক্ষেত্রে শান্তভাবে কথা বলে সমাধান খোঁজা যেত। কেউ কেউ আবার নিরপেক্ষ মন্তব্য করে লিখেছেন, "যদি অভিযোগ সত্যি হয় তবে তরুণীর বিচার পাওয়া উচিত, আর যদি মিথ্যা হয় তবে ওই ব্যক্তির ক্ষমা পাওনা। সত্য না জেনে আমাদের কারও বিচারক হওয়া উচিত নয়।"
















