তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলায় ৩২ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর ও হাড়হিম করা তথ্য। প্রথমবার  সিজারিয়ান ডেলিভারি হওয়ার পর থেকেই অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার ওপর চরম অনীহা তৈরি হয়েছিল মৃত শশীকলা-র। চিকিৎসকদের ধারণা, দ্বিতীয়বার যেকোনো মূল্যে সিজার এড়াতে এবং 'ন্যাচারাল বার্থ' বা স্বাভাবিক প্রসবের অন্ধ জেদ থেকেই সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের এড়িয়ে চলেছিল এই পরিবার। আর তাতেই ঘটল চরম বিপর্যয়!

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, মৃত শশীকলার প্রথম সন্তানটি সিজারের মাধ্যমে হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি অ্যালোপ্যাথি ওষুধ ও হাসপাতালের চিকিৎসার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। এবার যাতে কোনওভাবেই সিজার না করতে হয়, সেই কারণে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে সন্তান প্রসবের সিদ্ধান্ত নেন তিনি ও তাঁর পরিবার।

তদন্তকারী পুলিশ অফিসার জানান, "পরিবারটি যেকোনও  মূল্যে ন্যাচারাল ডেলিভারি চেয়েছিল। সেই কারণে সরকারি স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা নিয়মিত চেক-আপ বা শারীরিক পরীক্ষা করাতে রাজি হননি।" সন্দেহ করা হচ্ছে, এই জেদ বজায় রাখতেই ইন্টারনেটে ও ইউটিউবে থাকা তথ্যের ওপর অন্ধ ভরসা করা শুরু করেন তাঁরা।

গত ৩০শে জুন সামনে আসা এই ঘটনায় জানা গেছে, শশীকলা বাড়িতেই একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরেই শুরু হয় আসল জটিলতা। গর্ভফুল বা প্লাসেন্টা (Placenta) সংক্রান্ত গুরুতর সমস্যার কারণে তাঁর শরীর থেকে অনবরত রক্তক্ষরণ হতে থাকে।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক বুঝে তাঁকে প্রথমে পেরুনদুরাইয়ের সরকারি এরোড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে স্থানান্তরিত করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শশীকলা। তবে সদ্যজাত শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।

যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবুও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে শশীকলার স্বামী কোলান্থাইসামির বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার (Culpable Homicide not amounting to murder) মামলা রুজু করেছে। একই সঙ্গে ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (NMC) আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তর যৌথভাবে খতিয়ে দেখছে— নিয়মিত অ্যান্টিনেটাল চেক-আপ  এড়াতে পরিবারকে কারা উস্কানি দিয়েছিল এবং প্রসবের সময় কোনো অযোগ্য বা হাতুড়ে ডাক্তার উপস্থিত ছিল কি না।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সিজারিয়ান ডেলিভারি নিয়ে এক শ্রেণির মানুষের মনে যে অমূলক ভীতি এবং 'ন্যাচারাল ডেলিভারি'-র নামে অবৈজ্ঞানিক জিদ তৈরি হচ্ছে, এই ঘটনা তারই এক চরম ও মর্মান্তিক উদাহরণ।