‘স্বাস্থ্যই সম্পদ’ - এই প্রবাদটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। জীবনধারার রোগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ, অসুস্থতা যেন আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে মানবজীবন। তবে চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকা কিন্তু ততটা জটিল নয়। শুধু কিছু সাধারণ অভ্যাস যদি নিয়মিতভাবে অনুসরণ করা হয়, তবে তা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার চাবিকাঠি হতে পারে।
১. সকাল শুরু হোক ফোন ছাড়াঃ ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল দেখা অনেকের অভ্যাস। কিন্তু এতে মানসিক চাপ বাড়ে। সকালে দু–এক মিনিট চোখ বন্ধ করে কৃতজ্ঞতার কথা ভাবলে মন শান্ত থাকে এবং হজমও ভাল হয়।
২. রোজ একটু রোদে দাঁড়ানঃ সকালে ১০ মিনিট রোদে থাকলে শরীর ভিটামিন-ডি পায়। এতে ঘুম ভাল হয়, মুড ভাল থাকে এবং শরীরের ভেতরের ঘড়ি ঠিক থাকে।
৩. খাওয়ার পর হাঁটুনঃ খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়া ঠিক নয়। মাত্র ১০ মিনিট ধীরে হাঁটলে খাবার সহজে হজম হয়, গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৪. ফার্মেন্টেড খাবার খানঃ দই, ঘরে বানানো আচার, বা ইডলি-ডোসার মতো খাবার অন্ত্রের জন্য খুব উপকারী। এগুলো ভাল ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে পেট পরিষ্কার থাকে।
৫. রান্নায় মসলা ও শাক-সবজি বাড়ানঃ হলুদ, আদা, জিরা, ধনে, মৌরি-এই সাধারণ মশলাগুলো হজম শক্তিশালী করে। পাশাপাশি বিভিন্ন রকম শাক-সবজি খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।
৬. নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়াঃ দিনে ১২ ঘণ্টার মধ্যে সব খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে। এতে রাতে পেট বিশ্রাম পায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
৭. ফল, বিশেষ করে বেরি জাতীয় ফলঃ স্ট্রবেরি বা ব্লুবেরির মতো ফল শরীরের জন্য ভাল। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তবে ভাল করে ধুয়ে খাওয়া জরুরি।
৮. পর্যাপ্ত ঘুম খুব দরকারঃ প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ঠিকমতো ঘুম না হলে হজমের সমস্যা, অতিরিক্ত খিদে ও ক্লান্তি বাড়ে।
