আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাতের শহরে আবারও সাত বছরের নাবালিকা ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অভিযোগে গ্রেপ্তার বিহার বাসিন্দা। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের দুর্দান্ত সাফল্য মাত্র দু'ঘণ্টার মধ্যে। 

এই ঘটনায় নাবালিকার পরিবার কসবা থানায় মামলা দায়ের করে গতকাল রবিবার রাতে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৫(২)/৩৫১(২), সহ পকসো আইনের ৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এক নাবালিকার উপর গুরুতর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কসবা ও সংলগ্ন এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার রাতে কসবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওই দিন সন্ধ্যার পর অভিযুক্ত মনোজ কুমার রায় তাঁর নিজ বাসভবনে অভিযোগকারীর অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার উপর জোরপূর্বক এবং লাগাতার ভয়াবহ যৌন নির্যাতন করেন। ঘটনার পর পরিবার তৎক্ষণাৎ থানায় যোগাযোগ করে।

অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কসবা থানার পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে। সমস্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এফআইআর রুজু করা হয়। তদন্তকারীরা প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ ও স্থানীয় সূত্রে অনুসন্ধান চালিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। কসবা থানার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

ধৃত ব্যক্তির নাম মনোজ কুমার রায় (৪৪)। বিহারের বৈশালী জেলার হাজিপুর থানার অন্তর্গত দৌলতপুর চান্দি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বর্তমানে কলকাতার কসবা থানার অন্তর্গত নস্করহাট, দক্ষিণপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। বাড়িতে বাবা-মা কাজ করতে গিয়েছিল দিনমজুর হওয়ার কারণে। আর সেই সুযোগেই এই ব্যক্তি নাবালিকার উপরে পাশবিক নির্যাতন করেন বলেই অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর। 


এই এলাকায় আরও একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে কয়েক ঘণ্টা আগে। কসবা থানা এলাকায় এক যুবতীকে অপহরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কসবা থানায় মামলা ১৪ ফেব্রুয়ারি রুজু হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৪০(৩)/৭৪/১১৫(২)/৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত আরিয়ান সিং, আকাশ এবং আরও তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

পুলিশ সূত্রে আরও খবর, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ১১টা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার জাহাজবাড়ি এলাকার কাছ থেকে একটি কালো রঙের চারচাকা গাড়িতে করে অভিযুক্তরা তাঁকে জোরজবরদস্তি তুলে নিয়ে যান। অভিযুক্ত যুবতীর পূর্ব পরিচিত ছিলেন আরিয়ান সিং, এবং তাঁর সম্পর্কে ভাই ও বন্ধু আকাশ। 

আরিয়ান ও যুবতী একই আবাসনে থাকতেন বলেই জানা যাচ্ছে। আরিয়ান তাঁকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে বাড়ি থেকে নিয়ে যান বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। গাড়িতে ওঠার পরে যুবতী দেখতে পান আরও একাধিক অজ্ঞাত পরিচয়ের যুবক গাড়িতে রয়েছেন। চলন্ত গাড়িতে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। 

এরপর ওই যুবতী নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে কোনওরকমে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। সেখান থেকে পালিয়ে আসার সময় তাঁর এক ভাইকে ফোন করেন এবং তারপর তিনি সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে আসেন। তবে এই ঘটনায় যুবতী পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন একদিন পার হয়ে যাওয়ার পর। তরুণীর বয়ানে যথেষ্ট অসঙ্গতি পর্যন্ত পেয়েছে বলেই পুলিশ সূত্রে খবর।

অভিযোগকারীর দাবি, তাঁকে অপহরণ করে জোরজবরদস্তি আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। পাশাপাশি শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটানো হয়। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কোনওভাবে তিনি পালিয়ে এসে বিষয়টি থানায় জানান বলে জানা গেছে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলেই জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, ঘটনাটির সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।