ভালবাসা না কি নিঃশব্দে নারকীয় অত্যাচার? দাম্পত্যর আড়ালে লুকিয়ে থাকা চরম হিংস্রতার এক ভয়াবহ রূপ উন্মোচিত হল সামাজিক মাধ্যমে। সম্প্রতি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সমাজকর্মী দিয়া খানের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিও ক্লিপ নেটপাড়ায় আছড়ে ফেলল তীব্র শকের ঢেউ। যেখানে এক ব্যক্তি অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ক্যামেরার সামনে স্বীকার করছে যে, সে সপ্তাহে প্রায় পাঁচ দিন তার স্ত্রীর ওপর অমানুষিক শারীরিক অত্যাচার চালায়!

ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটি কোনও ডকুমেন্টারি বা সচেতনতামূলক প্রচারের অংশ বলে মনে হলেও, এতে থাকা ব্যক্তির বক্তব্য সাধারণ মানুষের গায়ের লোম খাড়া করে দিয়েছে। ভিডিওতে স্বামী নামের সেই ব্যক্তিটি জানায়, বিয়ের প্রথম দিকে সব স্বাভাবিক থাকলেও ধীরে ধীরে সামান্য পারিবারিক বচসা থেকেই মারধরের ঘটনা শুরু হয়। ওই ব্যক্তির কথায়— "যখন আমি ওর মুখে সজোরে ঘুষি মারি আর রক্ত গড়িয়ে পড়ে, তখন মাথায় আরও খুন চড়ে যায়। তবে এর কিছুক্ষণ পর যখন ওকে কাঁদতে দেখি, তখন খারাপ লাগে।"

?utm_source=ig_web_button_share_sheet

এই বিকৃত মানসিকতার কথা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) এবং স্থানীয় পুলিশকে ট্যাগ করে অবিলম্বে এই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন হাজার হাজার মানুষ। একাধিক নারী অধিকার রক্ষা সংগঠন এটিকে 'পারিবারিক হিংসাকে স্বাভাবিক করে দেখানোর' (Normalizing Domestic Violence) অপচেষ্টা বলে তোপ দেগেছেন।

ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "এটা ভালবাসা নয়, এটি জীবন্ত জেলখানা।" আবার অতীতে অত্যাচার সহ্য করা আরেক নারী লিখেছেন, "আমার স্বামীও ঠিক এমন করত। মুখ বুজে সহ্য করে অনেক কষ্ট পেয়েছি, অবশেষে লড়াই করে বেরিয়ে এসেছি।"

অনেকের মতে সচেতনতা তৈরির জন্য এমন কন্টেন্ট তৈরি করা হলেও, এটি ভুক্তভোগীদের মানসিক ট্রমাকে (Triggering content) বাড়িয়ে দেয়, তাই ইনস্টাগ্রাম থেকে এই ভিডিও অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া উচিত।

ভারতে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র তথ্য বলছে, প্রতি বছর হাজার হাজার নারী তাঁদের নিজ ঘরেই স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। আর্থিক পরাধীনতা, সামাজিক ভয় এবং সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে বেশিরভাগ নারী নীরবতা বজায় রাখেন।

মনোবিদদের মতে, অনেক অত্যাচারী পুরুষই রাগ নিয়ন্ত্রণে অক্ষম হয় এবং ধীরে ধীরে স্ত্রীকে মারধর করাটাকে 'স্বাভাবিক' মনে করতে শুরু করে। তবে ভারতের আইন এ ব্যাপারে অত্যন্ত স্পষ্ট— 'প্রোটেকশন অফ উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট, ২০০৫' অনুযায়ী যেকোনও ধরণের শারীরিক বা মানসিক অত্যাচার দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগীদের জন্য প্রটেকশন অফিসার, শেল্টার হোম এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।