আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্তমান যুগে পড়াশোনা শেষ করেই গ্রাম বা মফস্বলের একদল তরুণ প্রজন্ম বড় বড় শহর কিংবা বিদেশের কর্পোরেট চাকরির স্বপ্ন দেখেন। অন্যদিকে ঠিক এই সময়েই সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বিহারের বিপিন কুমার ঝা।
ভালো মাইনের সরকারি চাকরি ছেড়ে নিজের জন্মভিটেতেই আধুনিক কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন মধুবাণী জেলার এই যুবক। প্রধানমন্ত্রীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর ডাকে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করা তাঁর এই কৃষি খামার থেকে আজ বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, জানা গিয়েছে, গ্রামের আরও ২৫ জন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি।
রাজনগর ব্লকের খৈর গ্রামের বাসিন্দা বিপিন পড়াশোনায় বরাবরই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি এমবিএ করেন। এখানেই শেষ নয়। এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফিশারিজেও তাঁর উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার জোরেই উদ্যানপালন বিভাগে ব্লক স্তরের মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাঁধা ধরা গণ্ডির মধ্যে মন টেকেনি তাঁর। নিজে কিছু করার এবং অন্যকে অনুপ্রাণিত করার তাগিদেই একসময় সেই 'নিরাপদ' চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।
চাকরি ছাড়ার পর নিজের গ্রামেই ‘এইচসি ফার্ম’ নামে একটি স্টার্টআপ রেজিস্টার্ড করান বিপিন। বর্তমানে প্রায় ২ একর জমিতে বড় পরিসরে আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁপে চাষ শুরু করেছেন তিনি।
বিপিনের মতে, কৃষিক্ষেত্রে কম সময়ে সবচেয়ে লাভজনক ফসলগুলির অন্যতম হল পেঁপে। অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় বাজারে সারা বছরই এর বিপুল চাহিদা থাকে। পেঁপের পাশাপাশি তাঁর খামারে চাষ হচ্ছে নানা জাতের কলা ও অন্যান্য ফলও।
জলসঙ্কটের এই আবহে দেশের তরুণ প্রজন্মের একাংশ যেভাবে শুধু ডক্টরেট, ইঞ্জিনিয়ারিং বা সরকারি চাকরির পিছনে দৌড়চ্ছেন, তা নিয়ে চিন্তিত বিপিন। তাঁর আশঙ্কা, এই প্রবণতা আগামী দিনে দেশে বড়সড় খাদ্য সঙ্কট ডেকে আনতে পারে।
সেই বিপর্যয় এড়াতে শিক্ষিত যুবকদের আধুনিক চাষবাসের দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সঠিক পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে কাজ করলে কৃষিক্ষেত্র থেকেও যে লক্ষ লক্ষ টাকা মুনাফা করা সম্ভব, তা তিনি নিজে হাতে-কলমে প্রমাণ করে দিয়েছেন।
আপাতত কৃষি বিজ্ঞানীদের পরামর্শ মেনে ‘জি-৯’ জাতের কলার ফলন বাড়িয়ে চলেছেন বিপিন। মাত্র ৭ একর জমি নিয়ে শুরু হওয়া তাঁর এই খামার আজ ২৩ একর জমিতে বিস্তৃত। উৎপাদিত ফসল স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি স্কুলেও সরবরাহ করা হচ্ছে।
















