আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলন্ত ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কামরার আপার বার্থে প্রদীপ ও ধূপকাঠি জ্বালিয়ে এক যাত্রীর পূজা আর্চনা করার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ট্রেনের কামরার মতো আবদ্ধ জায়গায় উন্মুক্ত আগুন ও ধোঁয়া নিয়ে এই চরম গাফিলতির দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি নজরে আসার পরেই অভিযুক্ত যাত্রী ও নির্দিষ্ট ট্রেনটিকে চিহ্নিত করতে বড়সড় অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় রেল।
ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেনের বার্থে বসে এক ব্যক্তি প্রদীপ ও ধূপকাঠি জ্বালিয়ে পূজা করছেন। চলন্ত ট্রেনে এ ধরনের বিপজ্জনক কাজ দেখে উপস্থিত সহযাত্রীরা তাঁকে তৎক্ষণাৎ বাধা দেন এবং তা বন্ধ করার অনুরোধ জানান। ভিডিওতে এক যাত্রীকে স্পষ্ট সতর্ক করে বলতে শোনা যায়, "এতে সবার জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে, যেকোনও মুহূর্তে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।" তবে যাত্রীদের বারণ সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি নিজের ধর্মীয় আচার চালিয়ে যান।
রেল সূত্রে জানা গেছে, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এক প্রবীণ রেল কর্মকর্তা জানান, সাইবার টিম ও রেল পুলিশ যৌথভাবে প্রথমে সেই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটিকে ট্র্যাকিং করার চেষ্টা করছে, যেখান থেকে ভিডিওটি প্রথম আপলোড করা হয়েছিল। অ্যাকাউন্টটি ট্রেস করা সম্ভব হলেই নির্দিষ্ট ট্রেন, যাত্রার তারিখ এবং অভিযুক্ত যাত্রীকে চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সম্প্রতি ট্রেনে নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক দ্রব্যাদি বহনের ওপর জরিমানা ও শাস্তির নিয়ম আরও কড়া করেছে রেল মন্ত্রক। জন বিশ্বাস (সংস্থান সংশোধনী) আইনের আওতায় রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এর ধারা সংশোধনের মাধ্যমে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।
রেলওয়ে আইনের ৬৭, ১৫৪, ১৬৪ এবং ১৬৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী ট্রেনে যেকোনও ধরনের দাহ্য বা বিস্ফোরক পদার্থ পরিবহন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ধারা ১৬৫-এর অধীনে নিষিদ্ধ সামগ্রী ট্রেনে আনা বা বহনের জন্য সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া এর ফলে রেলের কোনও ক্ষতি হলে সেই ক্ষতিপূরণও অভিযুক্তের থেকেই আদায় করা হবে। জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত করা হতে পারে।
রেল কর্তৃপক্ষের মতে, কামরার ভিতর গ্যাসে বা স্টোভে রান্না করা, কেরোসিন, পেট্রোল, বাজি, দেশলাই বা সিগারেট ব্যবহারের মতো অসচেতন পদক্ষেপই ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে এবং সব যাত্রীর নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতেই আইনি পদক্ষেপ জোরদার করছে প্রশাসন।
















