আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির পাওয়ার হাউসে ভাঙন ধরেছিল বছরখানেক আগেই। দেশের রাজনীতিতে 'কাকার ভাইপো' বলে পরিচিত অজিত রাতারাতি  শিন্ডে–ফড়নবিশ সরকারের শরিক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পাওয়ার হাউস ভাঙে। অজিতের মৃত্যু হয় বিমান দুর্ঘটনায়। সুনেত্রা দায়িত্ব তুলে নেনে এনসিপি অজিত গোষ্ঠীর।

অজিত-সুনেত্রার ছেলে পার্থ, আগেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। মাস খানেক আগে পর্যন্ত রাজনীতিতে তিনি কেবল শরদ পাওয়ারের নাতি কিংবা অজিত পাওয়ারের ছেলে হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ভোটের টিকিট পেলেও জয় পাননি, দিতে পারেননি বিচক্ষণতার পরিচয়ও। তিনি দেখেছেন এনসিপির পাওয়ার সেন্টার পরিবর্তিত হয়ে যেতে। শরদ পাওয়ারের হাত থেকে অজিত পাওয়ারকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে দেখেছেন। তবে ভাঙন, পারিবারিক বিপর্যয় সামলে, পার্থ কি দিনে দিনে এনসিপির পাওয়ার সেন্টার হচ্ছেন? দেশের রাজনীতিতে এখন জল্পনা তা নিয়েই।

পার্থ পাওয়ার রাজ্যসভার সাংসদ। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পরে, সুনেত্রা পাওয়ারকে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হয় এবং তারপর তিনি এনসিপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রায় একই সময়ে পার্থ পাওয়ারকে দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত করা হয়, এবং তাঁর ভাই জয় পাওয়ারকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও জয় তার আগে সেভাববে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। অজিত পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব তুলে নেওয়া দেখেই একপ্রকার স্পষ্ট হয়েছিল, অজিতের অনুপস্থিতিতে, তাঁর রাজনৈতিক শূন্যস্থান পূরণ করতে চাইছেন তাঁর পরিবারের লোকেরাই। 

মহারাষ্ট্রের রাজনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, অজিত-শূন্য এনসিপিতে দিনে দিনে প্রভাব বাড়াচ্ছেন পার্থ। যদিও এখনও তিনি সেভাবে জনসমক্ষে আসছেন না। তবে ধীরে ধীরে দলের ভিতরের নকশা আঁকছেন তিনিই। মা সুনেত্রা পাওয়ারের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন বহু ক্ষেত্রে। মহারাষ্ট্রে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে ইদানিং, পার্থর কাজের ধাঁচ খানিকটা অজিত পাওয়ারের মতোই। কথা বলেন কম, কাজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন কঠোর। প্রফুল্ল প্যাটেল ও সুনীল তটকরের মতো  দীর্ঘদিনের রাজনীতির নেতাদের সঙ্গে মনোমালিন্যও প্রকাশ্যে আসছে। দলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, সেই ইঙ্গিত অজিত-পুত্র মাঝে মাঝেই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দিয়ে থাকেন বলে গুঞ্জন বাণিজ্য নগরীতে। তবে পার্থর এহেন উত্থান আবার বহু এনসিপি নেতার জন্য বেশ অস্বস্তির হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেও মত একাংশের।