আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরিয়ানার ফরিদাবাদে নৃশংসভাবে শিক্ষক হত্যার ঘটনা। এক অল্পবয়সি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকাকে খুন করা হয়েছে। গত সোমবার ঘটে গিয়েছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই শিক্ষিকার বয়স মাত্র ২৯ বছর। এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা চলেছিল গত দু'মাস ধরে। তদন্তে নেমে এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক ২১ বছর বয়সিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশি জেরায় ধৃত জানিয়েছে, দু'মাস ধরে স্কুল যাওয়ার পথেই শিক্ষিকাকে হামলার পরিকল্পনা করলেও ধরা পড়ার ভয়ে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি। এরপর স্কুল চত্বরের ভিতরেই ওই শিক্ষিকার উপর আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। এর জন্য বিশেষ ছুরিও কেনে সে।

 

জানা গিয়েছে, গত সোমবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ সিক্রোনা গ্রামের ওই বেসরকারি স্কুলে যায় অভিযুক্ত অমিত। সেখানে শিক্ষিকা সন্ধ্যা শর্মাকে তাঁর স্বামীর নাম করে ক্লাসরুম থেকে বাইরে ডেকে আনে সে। সন্ধ্যা নাগাদ স্কুলের বাইরে আসতেই তাঁকে চুলের মুঠি ধরে নৃশংসভাবে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে অমিত। শিক্ষিকার গলার ও বুকের অংশে ২৭ বারেরও বেশি ছুরি দিয়ে কোপানো হয় তাঁকে। যার ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শিক্ষিকার। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তের ক্ষোভ এতই বেশি ছিল ছুরি দিয়ে কোপানোর সময় ছুরি বেঁকে যাওয়ার পরেও সে হামলা চালিয়ে যেতে থাকে। এই পুরো হামলার ঘটনার দৃশ্যই স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এমনকি তিনি বাধা দিতে গেলে স্কুলের এক কর্মীকেও খুনের হুমকি দেয় অভিযুক্ত।

 

জানা গিয়েছে, ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তাঁকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অমিতের সন্ধ্যার প্রতি আগে থেকেই একতরফা ভালোলাগা ছিল। কিন্তু তাতে কখনওই সাড়া দেননি ওই শিক্ষিকা। এমনকি এর আগে অমিতের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির একটি অভিযোগও দায়ের করেছিলেন সন্ধ্যা। যদিও সেবার অমিত ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যা যখন তাঁর কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থান পরিবর্তন করেন, তখন থেকেই তাঁর ওপর ক্ষোভ ও আক্রোশ বাড়তে থাকে অমিতের। নিহত শিক্ষিকার স্বামী ভিকি গুর্জর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, শ্লীলতাহানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ যদি আগেই কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিত, তবে হয়তো আজ তাঁর স্ত্রী বেঁচে থাকতেন।

 

উল্লেখ্য, সন্ধ্যার একটি সাত বছরের ছেলে ও পাঁচ বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত অমিত বেকার ছিল। মোষ পুষে ও দুধ বিক্রি করেই সে জীবিকা নির্বাহ করত।