আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রের সঙ্গে শনিবার তৃতীয় দফার আলোচনার কয়েক ঘণ্টা আগে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) তাদের অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরল। এদিন সকালে সিজেপি-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সরকার যদি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে রাজি না হয়, তবে আর আলোচনার কোনও মানে হয় না। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ একটি অপরিহার্য শর্ত (নন-নেগোশিয়েবল)। সরকার যদি এতে 'না' বলে, তবে আর আলোচনার কোনও অর্থ নেই।" 

শুক্রবার বিকেলে কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা করেছিলেন। শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রীরা সিজেপি-র দুই প্রতিনিধিকে জানিয়েছিলেন যে- তাঁরা দুটি দাবি মেনে নিলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দাবির বিষয়টি নিয়ে পরে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।

সিজেপি তিনটি দাবি জানিয়েছে- ১) ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, ২) বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা। ৩) নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

শুক্রবার আলোচনায় কেন্দ্র বিক্ষোভকারীদের দু'টি প্রধান দাবি, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত বা বিরোধের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার আলোচনার পর নাড্ডা বলেন, "বৈঠকটি প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে হয়েছিল। তাদের তিনটি প্রধান দাবি এবং পরীক্ষার বিষয়ে পাঁচটি সংস্কার প্রস্তাব ছিল। আমরা তাদের বলেছি যে আগামীকাল বিকেলে (শনিবার) আমরা আবার দেখা করব এবং সরকারের অভ্যন্তরে যে আলোচনা হয়েছে তা তাদের জানাব।"

বিক্ষোভকারীরা যখন বলছেন যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ একটি "অপরিহার্য শর্ত", তখন সরকারি সূত্র সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে জানিয়েছে যে- কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের কোনও সম্ভাবনাই নেই। এক্ষেত্রে সরকার মনে করছে, সরকারের মতে 'পদত্যাগ করাটা সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত এবং মন্ত্রিসভা মন্ত্রীর পাশে আছে। সরকারের একটি সূত্র এনডিটিভি-কে বলেছে, "জনগণ আমাদের রায় দিয়েছে এবং আমরা তা পূরণ করব।"

এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্যা মোকাবিলায় গত দুই দিনে কেন্দ্র বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলাগুলোর বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা করেছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস-বিরোধী আইনে কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান যুক্ত করতে সরকার সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে।

কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা সচিবকে পরিবর্তন করেছে এবং পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা এনটিএ-র ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করেছে। পাশাপাশি সংস্থাটিতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এনটিএ-র ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সিজেপি-র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, "কেবল এই পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়।"

আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, "আমাদের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে, তবে আমরা আবারও সেই একই বিষয়ের কথা বলছি। চূড়ান্ত দায়ভার শিক্ষামন্ত্রীরই। কারণ প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, তার জন্য তিনিই সরাসরি দায়ী। তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।"