আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে ভয়াবহ টারব্যুলেন্স-এর ঘটনা ঘটে। মাঝ আকাশে বিমানে হঠাৎ মারাত্মক ঝাঁকুনিতে মুহূর্তের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সেই প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু এই ঘটনার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। জানিয়েছেন, বিমানে প্রায় একটানা চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে ঝাঁকুনি বজায় ছিল। সেই ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের পাশাপাশি আহত ক্রু সদস্যরাও।
ফ্লাইট নম্বর AI2379 বিমানে ১৩৭ জন যাত্রী ছিল। বিমানে ছিলেন ৮ জন ক্রু সদস্যও। তাঁদের নিয়েই ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ওই বিমান। হঠাৎই বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা নীচে নেমে যায়। তবে শেষমেশ সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে বিমানটি দিল্লির বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, মারাত্মক ওই ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের পাশাপাশি কয়েকজন কেবিন ক্রু সদস্যও আহত হয়। তাঁদেরও মেরুদণ্ড ও ঘাড়ে গুরুতর চোট লাগে। তা সত্ত্বেও তাঁরা দমে যাননি। এ দিন মন্ত্রী আরও বলেন, "বিমানটিকে আরও এক ঘণ্টা রাস্তা পেরিয়েছিল। ওই এক ঘণ্টার মধ্যে আহত হয়েও ক্রু সদস্যরা যাত্রীদের সমস্ত প্রয়োজনীয় সাহায্য জুগিয়ে গিয়েছেন। যা অত্যন্ত সাহসিকতার কাজ। তাঁরা যে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, সে জন্য আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।"
এয়ার ইন্ডিয়ার প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, গত বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে ওই ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৩ জন যাত্রীকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এখনও বিমানের চার ক্রু সদস্য ভর্তি হাসপাতালে। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু, সিভিল এভিয়েশন সেক্রেটারি সমীর কুমার সিনহা এবং ডিজিসিএ ডিরেক্টর জেনারেল বীর বিক্রম যাদব দিল্লির ফোর্টিস হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)। বিমানের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR) সুরক্ষিত রাখা হয়েছে তদন্তের স্বার্থে। সে জন্য বিমানটিকে বর্তমানে একটি হ্যাঙ্গারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নির্মাতাদের সাথে যোগাযোগ করে তদন্ত চালাচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া।
















