সাপের বিষের চিকিৎসায় যুগান্তকারী সম্ভাবনার সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। বিষধর সাপের শরীরেই রয়েছে এমন কিছু প্রোটিন, যা তাদের নিজেদের বিষের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
2
11
এবার সেই প্রাকৃতিক প্রোটিন ব্যবহার করেই আরও কার্যকর, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী অ্যান্টিভেনম তৈরির পথ দেখালেন আমেরিকার মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। গবেষণাগারে পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রোটিনের সংমিশ্রণ প্রচলিত ভেড়ার অ্যান্টিভেনমের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী হতে পারে।
3
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা সফল হলে সাপের কামড়ের চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষত গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে, যেখানে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া কঠিন, সেখানে উন্নত প্রতিষেধক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
4
11
গবেষণাটিতে পশ্চিমী ডায়মন্ডব্যাক র্যা টলস্নেকের রক্তে থাকা একাধিক সুরক্ষামূলক প্রোটিনের উপর নজর দেন বিজ্ঞানীরা। এর আগে ২০২২ সালে গবেষক শন বি ক্যারলের নেতৃত্বাধীন দল একটি প্রোটিন শনাক্ত করেছিল। এই প্রোটিন বিষের একটি গুরুত্বপূর্ণ টক্সিন পরিবারের কার্যকলাপ প্রতিরোধ করতে পারে।
5
11
নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রোটিন পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, আলাদাভাবে ব্যবহার করলে প্রতিটি প্রোটিনের সুরক্ষার ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু একাধিক প্রোটিন নির্দিষ্ট অনুপাতে মেশালে বিষ নিষ্ক্রিয় করার ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যায়।
6
11
গবেষণাগারের পরীক্ষায় এই উন্নত প্রোটিনের মিশ্রণ র্যা টলস্নেকের বিষ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছিল। পাশাপাশি, বিবর্তনের ধারায় বহু লক্ষ বছর ধরে আলাদা হয়ে যাওয়া কয়েকটি প্রজাতির ভাইপার সাপের বিষের বিরুদ্ধেও সুরক্ষা মিলেছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।
7
11
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিষধর সাপের কামড়ে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। আরও কয়েক লক্ষ মানুষ স্থায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন।
8
11
বর্তমানে অ্যান্টিভেনম তৈরির জন্য সাধারণত ঘোড়া বা ভেড়ার শরীরে অল্প পরিমাণে সাপের বিষ প্রবেশ করিয়ে তাদের তৈরি অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করা হয়। এই পদ্ধতি কার্যকর হলেও উৎপাদন ব্যয়বহুল এবং সব প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে সমান কার্যকর নয়। কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।
9
11
মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শন বি ক্যারলের মতে, প্রকৃতির মধ্যেই এই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান লুকিয়ে রয়েছে। গবেষকরা এখন ভাইপার সাপের বিষের প্রধান তিনটি টক্সিন পরিবারের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর প্রতিষেধক তৈরির কাজ করছেন।
10
11
গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে পরীক্ষাগারে তৈরি পুনঃসংযোজিত প্রোটিন ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করা সম্ভব হবে। তবে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে আরও গবেষণা, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।
11
11
প্রাথমিক বাণিজ্যিক প্রয়োগ পশুচিকিৎসার ক্ষেত্রে হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। অর্থাৎ, আবিষ্কারটি আশাব্যঞ্জক হলেও এখনই প্রচলিত অ্যান্টিভেনমের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার সময় আসেনি।