বাজারের অনিশ্চয়তা এবং শেয়ারবাজারের ওঠানামার মধ্যে অনেক বিনিয়োগকারী এখন স্থির আয়ের বিকল্প খুঁজছেন। বিশেষ করে যাঁরা ঝুঁকি এড়িয়ে নিজেদের জমানো টাকা থেকে নিয়মিত আয় করতে চান, তাঁদের কাছে পোস্ট অফিসের মাসিক আয় প্রকল্প বা মান্থলি ইনকাম স্কিম (MIS) এবং ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (FD) গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে।
2
10
বর্তমানে পোস্ট অফিসের MIS প্রকল্পে বার্ষিক সুদের হার ৭.৪ শতাংশ। অন্যদিকে, তুলনার সুবিধার জন্য যদি কোনও সাধারণ বিনিয়োগকারী ব্যাঙ্কের FD-তে বার্ষিক ৬.৫ শতাংশ সুদ পান, তা হলে কোন প্রকল্পে বেশি লাভ হবে, তা হিসাব করে দেখা যাক।
3
10
পোস্ট অফিসের MIS প্রকল্পে একক অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৯ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। যৌথ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ লক্ষ টাকা। এই প্রকল্পের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং প্রতি মাসে সুদের টাকা পাওয়া যায়।
4
10
৯ লক্ষ টাকা ৭.৪ শতাংশ বার্ষিক সুদের হারে বিনিয়োগ করলে এক বছরে সুদ হবে ৬৬,৬০০ টাকা। অর্থাৎ, কর দেওয়ার আগে প্রতি মাসে পাওয়া যাবে ৫,৫৫০ টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হলে নিয়ম অনুযায়ী মূল বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।
5
10
এবার ধরা যাক, কোনও সাধারণ বিনিয়োগকারী ৯ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কের FD-তে বার্ষিক ৬.৫ শতাংশ সুদের হারে জমা রেখেছেন। সে ক্ষেত্রে এক বছরে সুদ হবে ৫৮,৫০০ টাকা। মাসিক ভিত্তিতে হিসাব করলে সুদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪,৮৭৫ টাকা।
6
10
অর্থাৎ, এই উদাহরণে পোস্ট অফিসের MIS থেকে মাসে ৬৭৫ টাকা বেশি আয় হবে। বার্ষিক হিসাবে এই ব্যবধান ৮,১০০ টাকা। তবে FD-তে প্রকৃত মাসিক পেমেন্ট ব্যাঙ্কের সুদ দেওয়ার পদ্ধতি ও শর্তের উপর নির্ভর করবে।
7
10
যাঁরা পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত মাসিক আয় চান এবং নির্দিষ্ট সুদের হার পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে পোস্ট অফিসের MIS আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে টাকা তুললে নিয়ম অনুযায়ী মূলধন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হয়।
8
10
তিন বছরের আগে বন্ধ করলে ২ শতাংশ এবং তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পর, পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বন্ধ করলে ১ শতাংশ কেটে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
9
10
অন্যদিকে, FD-তে বিভিন্ন মেয়াদ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রবীণ নাগরিকরা নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কে বিশেষ সুদের হারও পেতে পারেন। কিছু স্মল ফিন্যান্স ব্যাঙ্কে নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রবীণদের সুদ ৮ শতাংশের বেশি হতে পারে।
10
10
তবে মনে রাখতে হবে, এখানে FD-র ৬.৫ শতাংশ সুদের হারটি উদাহরণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগের আগে বর্তমান সুদের হার, করের প্রভাব, মেয়াদ এবং টাকা তোলার শর্ত তুলনা করা জরুরি। প্রয়োজন হলে আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভাল।