সঞ্চার সাথী নামক অ্যাপ সব স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলকভাবে প্রি-ইনস্টলড থাকতে হবে। এটি ফোন থেকে ডিলিট বা ডিসেবল করা যাবে না! কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তই ভাবাচ্ছে সকলকে।
2
8
পেগাসাস বিতর্কেও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত পরিসরে উঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এই অ্যাপ নিয়েও সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দাবি করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত তথ্য হাতাতেই এই অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। কেন্দ্র যুক্তি, নাগরিকদের চুরি যাওয়া ফোন কিনে ফেলা রোধ করতেই সঞ্চার সাথী অ্যাপকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
3
8
তাও এই অ্যাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আসলে অ্যাপটি ফোনে ইনস্টল হলে এটি ক্যামেরা অ্যাক্সেস, কল ও মেসেজ মনিটরিং, নেটওয়ার্ক স্টেট পড়া, লোকেশন অ্যাক্সেসের অনুমতি চাইবে। ফোন ফাইন্ডার হিসেবে কাজ করতে এগুলো প্রয়োজন হতে পারে, তবে একইসঙ্গে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার জন্যও বড় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
4
8
একনজরে সঞ্চার সাথী নিয়ে উদ্বেগের কারণ? প্রথমত: সরকার বলছে সঞ্চার সাথী মূলত চুরি যাওয়া বা ভুয়ো ফোন শনাক্ত করার কাজে লাগবে। কিন্তু ব্যবহারকারী কোনওভাবেই এটি মুছতে পারবেন না-এই বিধানই উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার কোনও অ্যাপকে অপারেটিং সিস্টেমের গভীরে ঢুকতে দিলে সেটি ভবিষ্যতে যে সর্বক্ষণ লোকেশন ট্র্যাকার বা আরও বিস্তৃত নজরদারি টুলে পরিণত হবে না- তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
5
8
একবার কোনও অ্যাপকে এমন সার্বক্ষণ নজরদারির অধিকার দিলে এনক্রিপ্ট না-করা ডেটা বা ফোনের অভ্যন্তরীণ তথ্য সরকারের নজরে পড়বে না—এই নিশ্চয়তা কোথায়? ভবিষ্যতের কোনও আপডেটে অ্যাপের ক্ষমতা বাড়ানো হবে না—সেটাই বা কে বলবে? এই কারণেই অনেকেই বলছেন, এটি সরাসরি ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
6
8
নতুন ডেটা প্রোটেকশন আইনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে কঠোর নিয়মের মুখোমুখি হতে হয়, কিন্তু সরকারি সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে বহু ছাড় রয়েছে। ফলে ডেটা অপব্যবহার হলে নাগরিকের প্রতিকার পাওয়ার রাস্তা সীমিত।
7
8
স্মার্টফোনে বাণিজ্যিক বা অপ্রয়োজনীয় কিছু অ্যাপ আগে থেকেই প্রি-ইনস্টল থাকা নতুন কিছু নয়। তবে এবার সরকার নিজেই এমন একটি অ্যাপ চাপিয়ে দিচ্ছে—যা মুছতেও দেওয়া হবে না। এতে ফোনের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ব্যবহারকারীর হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।
8
8
সঞ্চার সাথীকে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তেও জনপরামর্শ নেওয়া হয়নি, প্রকাশ করা হয়নি কোনও খসড়াও। হঠাৎই সরাসরি নির্দেশ জারি হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই একতরফা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয় বলে দাবি করেছেন।