জামিন পেলেন না রাজপাল যাদব, সময় মতো ঋণ শোধ না করায় অভিনেতাকে ভর্ৎসনা দিল্লি হাইকোর্টের
নিজস্ব সংবাদদাতা
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ : ৫৪
শেয়ার করুন
1
9
সম্প্রতি ৯ লাখ টাকা ধার এবং চেক বাউন্সের কেসে আত্মসমর্পণ করেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদব। আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং বারবার শর্ত ভঙ্গের প্রেক্ষিতে তাঁকে ছ’মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি তিহার জেলে রয়েছেন।
2
9
মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে রাজপালের জামিন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে আদালত মামলাটি আগামী সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
3
9
এদিন দুপুর আড়াইটে শুনানি শুরু হলে রাজপালের আইনজীবী বলেন যে তিনি তাঁর মক্কেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এরপরই মামলাটি সোমবার পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
4
9
আদালত সোমবার রাজপালের জামিন আবেদন পুনরায় শুনবে এবং সিদ্ধান্ত জানাবে। জামিন আবেদন নিয়ে আদালতে উত্তর জমা দিতে অভিযোগকারীকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
5
9
এদিন মামলায় বিচারপতি স্বরনা কান্তা শর্মা বলেন, “আপনি জেলে গিয়েছেন কারণ নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আপনি নিজেই চুক্তি করেছিলেন যে টাকা দেবেন।” তিনি আরও বলেন, “আপনি বিদেশ গেলে আয় করবেন এবং টাকা জমা দেবেন বলে বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পালন করেননি। এজন্যই আজ এই পরিস্থিতি।”
6
9
উচ্চ আদালত উল্লেখ করেছে, রাজপাল ২৫–৩০ বার আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী, যিনি তার পক্ষে বক্তব্য রাখতেন। কিন্তু কোনও বারই নিজের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি অভিনেতা।
7
9
প্রসঙ্গত, এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত ২০১০ সালে। নিজের পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’-র অর্থ জোগাড় করতে এম এস মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন রাজপাল যাদব। কিন্তু বক্স অফিসে ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন অভিনেতা-পরিচালক।
8
9
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুদ, জরিমানা ও বার বার দেরি করার কারণে সেই ঋণের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকায়। বকেয়া মেটানোর জন্য রাজপাল যাদব একাধিক চেক ইস্যু করেছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু সেই সব চেক বাউন্স হওয়ায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু হয়।
9
9
২০১০ সাল থেকে চলা এই চেক বাউন্স ও ঋণ সংক্রান্ত মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্ত একাধিকবার সুযোগ পেয়েও নির্দেশ মানেননি।