বছরের ৩৬০ দিন ব্যাঙ্কের লকারে থাকেন মা দুর্গা! ষষ্ঠীতে কড়া নিরাপত্তায় রাজবাড়িতে ফেরে সোনার প্রতিমা
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ২১ : ০৬
শেয়ার করুন
1
7
দুর্গাপুজো মানেই মণ্ডপে মণ্ডপে আলোর রোশনাই, ঢাকের আওয়াজ আর মায়ের দর্শন। কিন্তু বাংলারই এক রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর এমন এক রীতি রয়েছে, যা জানলে অবাক হবেন। বছরের প্রায় ৩৬০ দিন ব্যাঙ্কের লকারে সুরক্ষিত থাকেন মা দুর্গা! পুজোর সময় ষষ্ঠীর দিন কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় সেই সোনার প্রতিমাকে ফিরিয়ে আনা হয় রাজবাড়িতে। পুরুলিয়ার জয়পুর রাজবাড়ির এই পুজো প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
2
7
পুরুলিয়া জেলার জয়পুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ মা দুর্গার সোনার প্রতিমা। শুধু প্রতিমাই নয়, পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রুপোর চালচিত্রও। এই প্রতিমা সাধারণ মাটির প্রতিমার মতো নয়। দেবী এখানে দ্বিভুজা রূপে পূজিত হন। এই বিশেষ রূপ এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের টানেই পুজোর সময় বহু ভক্ত ও দর্শনার্থী জয়পুর রাজবাড়িতে ভিড় করেন।
3
7
রাজপরিবারের সূত্রে জানা যায়, জয়পুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস প্রায় চারশো বছরের পুরনো। কথিত আছে, রাজা কাশীনাথ সিংহের আমলে রাজবাড়ির মন্দিরে আগুন লাগার একটি ঘটনা ঘটে। তার পরেই সোনার দুর্গাপ্রতিমা প্রতিষ্ঠার সংকল্প করেন রাজা। রাজপরিবারের বিশ্বাস, স্বপ্নে মা দুর্গার কাছ থেকে সোনার প্রতিমা প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত পেয়েছিলেন তিনি।
4
7
এর পর বারাণসী থেকে কারিগরদের নিয়ে এসে সোনার প্রতিমা ও রুপোর চালচিত্র তৈরি করানো হয় বলে জানা যায়। রাজপরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই প্রতিমা তৈরি করতে প্রচুর সোনা ও রুপো ব্যবহার করা হয়েছিল।
5
7
তবে মূল্যবান প্রতিমা নিয়ে সব সময়ই নিরাপত্তার চিন্তা ছিল। রাজবাড়িতে একবার চুরির ঘটনা ঘটার পর প্রতিমার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। পুলিশের পরামর্শে পুজোর কয়েকটি দিন ছাড়া বছরের বাকি সময় সোনার প্রতিমা ব্যাঙ্কের লকারে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সেই রীতিই এখনও চলে আসছে।
6
7
দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন ব্যাঙ্কের লকার থেকে সোনার প্রতিমা বের করে আনা হয়। বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে প্রতিমাকে নিয়ে যাওয়া হয় জয়পুর রাজবাড়িতে। পুজোর দিনগুলিতে যাতে প্রতিমার নিরাপত্তায় কোনও খামতি না থাকে, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।
7
7
দশমীতে পুজো শেষ হলে ফের কড়া নিরাপত্তায় প্রতিমাকে ব্যাঙ্কের লকারে রেখে আসা হয়। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময় ভক্তরা এই প্রতিমার দর্শন পান না। পুজোর সময়ই মেলে সেই বিরল সুযোগ।