রক্তের এক ফোঁটাতেই ধরা পড়তে পারে লিভার ক্যানসার! নতুন প্রযুক্তিতে আশার আলো দেখাল গবেষণা
নিজস্ব সংবাদদাতা
২ আগস্ট ২০২৬ ১০ : ৫৮
শেয়ার করুন
1
11
লিভার ক্যানসার বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ক্যানসার।
বর্তমানে লিভার ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের জন্য সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ড এবং আলফা-ফিটোপ্রোটিন (AFP) নামে একটি রক্ত পরীক্ষার উপর নির্ভর করা হয়। কিন্তু এই পদ্ধতিতে প্রাথমিক পর্যায়ের বহু ক্যানসার ধরা পড়ে না। ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে ওঠে।
2
11
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগটি দেরিতে ধরা পড়ে, ফলে চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। তবে এবার রক্ত পরীক্ষার একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতে লিভার ক্যানসার দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা জাগিয়েছে নতুন গবেষণা।
3
11
গবেষকরা DELFI (DNA Evaluation of Fragments for Early Interception) নামে একটি লিকুইড বায়োপসি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। এই প্রযুক্তি রক্তে ভাসমান সেল-ফ্রি ডিএনএ (cell-free DNA)-র লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র অংশ বা ফ্র্যাগমেন্ট বিশ্লেষণ করে।
4
11
এর আগে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একই গবেষকদল দেখিয়েছিল যে, এই ধরনের জিনোম-ভিত্তিক ফ্র্যাগমেন্টোম প্রযুক্তি লিভার ফাইব্রোসিস এবং লিভার সিরোসিস-ও শনাক্ত করতে পারে। এই দুই রোগই পরবর্তীকালে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
5
11
গবেষণার সহ-প্রধান গবেষক ড. ভিক্টর ভেলকুলেস্কুর কথায়, আগের গবেষণাগুলি দেখিয়েছিল যে ফ্র্যাগমেন্টোম বিশ্লেষণের মাধ্যমে লিভার ক্যানসার এবং দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগ ধরা সম্ভব। নতুন গবেষণা প্রমাণ করেছে, বিভিন্ন দেশের মানুষের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি সমান দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে এবং রক্তে থাকা জৈবিক সংকেতগুলি শনাক্ত করতে সক্ষম।
6
11
নতুন গবেষণায় গুয়াতেমালা ও রোমানিয়ার মোট ৩৭৭ জন মানুষের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের মধ্যে কেউ লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন, আবার কেউ ছিলেন না। দুই দেশের মানুষের লিভার ক্যানসারের কারণও ছিল একেবারেই আলাদা।
7
11
রোমানিয়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাইরাল হেপাটাইটিস বা অতিরিক্ত মদ্যপান দায়ী ছিল। অন্যদিকে গুয়াতেমালায় স্থূলতা, ডায়াবেটিস, মেটাবলিক লিভার ডিজিজ এবং অনেকের ক্ষেত্রে আফলাটক্সিন নামের একটি প্রাকৃতিক বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা যায়।
8
11
এত ভিন্ন কারণ থাকা সত্ত্বেও DELFI প্রযুক্তি দুই দেশের রোগীদের ক্ষেত্রেই সফলভাবে লিভার ক্যানসার শনাক্ত করতে পেরেছে। গবেষকরা আরও দেখেছেন, এই পরীক্ষার ফলের সঙ্গে AFP পরীক্ষার রিপোর্ট এবং বয়স ও লিঙ্গের মতো সাধারণ ক্লিনিক্যাল তথ্য যুক্ত করলে প্রাথমিক ও শেষ—উভয় পর্যায়ের ক্যানসারই আগের পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুলভাবে ধরা সম্ভব।
9
11
গবেষকরা MethID নামে একটি নতুন পদ্ধতির সাহায্যে খুঁজে বের করেছেন, এই ডিএনএ ফ্র্যাগমেন্টগুলি শরীরের কোন অংশ থেকে আসছে। এতে দেখা যায়, DELFI শুধু ক্যানসার কোষের ডিএনএ-ই বিশ্লেষণ করে না; বরং লিভারের স্বাভাবিক কোষ, রক্তনালী এবং ক্যানসারের বিরুদ্ধে সক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে। ফলে রোগের উপস্থিতির পাশাপাশি ক্যানসারের জৈবিক আচরণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
10
11
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে শুধু লিভার ক্যানসার নয়, একাধিক রোগ শনাক্ত করার পথ খুলে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই একই প্রযুক্তির ভিত্তিতে FirstLook Lung নামে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তকরণের একটি রক্ত পরীক্ষা ক্লিনিক্যালি যাচাই করা হয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তা ব্যবহারও শুরু হয়েছে।
11
11
এখন গবেষকদের লক্ষ্য আরও বৃহৎ পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো এবং ফ্র্যাগমেন্টোম বিশ্লেষণের সঙ্গে প্রোটিন বায়োমার্কার ও অন্যান্য ক্লিনিক্যাল তথ্য যুক্ত করে এমন একটি নির্ভুল রক্ত পরীক্ষা তৈরি করা, যা প্রাথমিক পর্যায়েই লিভার ক্যানসার শনাক্ত করতে চিকিৎসকদের আরও কার্যকরভাবে সাহায্য করবে।