হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু গান রয়েছে, যা শুধু সুরের জন্য নয়, অভিনয় আর অভিব্যক্তির জন্যও কিংবদন্তি হয়ে উঠেছে।
2
14
১৯৬৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'পড়োসন' ছবির 'এক চতুর নার' ঠিক তেমনই একটি গান। আজও এই গান শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিশোর কুমারের দুরন্ত মুখভঙ্গি, অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানা আর মেহমুদের সঙ্গে তাঁর দুর্দান্ত কমেডি দ্বৈরথ।
3
14
ছবিতে কিশোর কুমার অভিনয় করেছিলেন বিদ্যাপতি নামে এক অদ্ভুত স্বভাবের সঙ্গীতগুরুর চরিত্রে। অন্যদিকে মেহমুদ ছিলেন দক্ষিণ ভারতীয় শাস্ত্রীয় গায়ক মাস্টার পিল্লাই।
4
14
ছবিতে কিশোর কুমার অভিনয় করেছিলেন বিদ্যাপতি নামে এক অদ্ভুত স্বভাবের সঙ্গীতগুরুর চরিত্রে। অন্যদিকে মেহমুদ ছিলেন দক্ষিণ ভারতীয় শাস্ত্রীয় গায়ক মাস্টার পিল্লাই।
5
14
গল্পের মোড় ঘোরে যখন প্রিয় মানুষকে জেতার লড়াইয়ে শুরু হয় দুই গায়কের সুরের দ্বন্দ্ব। আর সেই প্রতিযোগিতাই রূপ নেয় ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা কমেডি দৃশ্যে।
6
14
মজার বিষয় হল, গানটির পরিকল্পনাতেই ছিল অভিনয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের নিখুঁত গাম্ভীর্যের বিপরীতে কিশোর কুমার ইচ্ছাকৃতভাবে এনে দেন দুষ্টুমি, অঙ্গভঙ্গি, মুখভঙ্গি এবং তাৎক্ষণিক কৌতুক।
7
14
তাঁর প্রতিটি অভিব্যক্তি, চোখের ভাষা, হাতের ভঙ্গি আর শরীরী ভাষা গানটিকে শুধু শোনার নয়, দেখারও অভিজ্ঞতা করে তোলে।
8
14
শুটিংয়ের সময় কিশোর কুমার অনেক দৃশ্যই স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে করেছিলেন। হঠাৎ মুখ বিকৃত করা, অদ্ভুত নাচের স্টেপ, মেহমুদকে নকল করা কিংবা তাল ভেঙে মজার প্রতিক্রিয়া—এসবের অনেকটাই ছিল তাঁর তাৎক্ষণিক উদ্ভাবন।
9
14
পরিচালক জ্যোতি স্বরূপ সেই স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ই ক্যামেরাবন্দি করেন। ফলে দৃশ্যটি এতটাই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে যে আজও দর্শক একই রকম আনন্দ পান।
10
14
গানটির আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল কিশোর কুমার ও কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী মান্না দে-র কণ্ঠযুদ্ধ। বাস্তবেও মান্না দে ছিলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে অসাধারণ দক্ষ।
11
14
পরে তিনি মজার ছলেই বলেছিলেন, "আমি জীবনে অনেক গায়কের সঙ্গে গেয়েছি, কিন্তু কিশোর কুমারের কাছে 'এক চতুর নার'-এ হেরে গিয়েছিলাম।" অবশ্য সেটি ছিল পর্দার চরিত্রের প্রয়োজনে, বাস্তবের নয়।
12
14
'এক চতুর নার' আজ শুধু একটি জনপ্রিয় গান নয়, এটি প্রমাণ করে কিশোর কুমার কেবল অসাধারণ গায়কই ছিলেন না, একজন অনবদ্য কমেডি অভিনেতাও ছিলেন।
13
14
তাঁর নিখুঁত টাইমিং, স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় এবং গানের সঙ্গে অভিনয়কে একাকার করে দেওয়ার ক্ষমতাই এই দৃশ্যকে কালজয়ী করেছে।
14
14
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও 'পড়োসন'-এর এই গান আজও ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা মিউজিক্যাল কমেডি সিকোয়েন্স হিসেবে সমান জনপ্রিয়।