বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাঁর গোটা কেরিয়ার জুড়ে একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। কখনও বিনা জামায় ফটোশুট করে হইচই ফেলে দেন, কখনও মাদক মামলায় জড়িয়ে পড়েন। কখনও আবার সব ছেড়ে বিদেশ চলে যান, ফিরে এসেই সন্ন্যাস নিয়ে কিন্নর আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর হয়ে ফের বিতর্কে জড়ান। হ্যাঁ, ঠিকই আন্দাজ করেছেন, কথা হচ্ছে মমতা কুলকার্নির।
১৯৯৩ সালে একটি ফিল্ম ম্যাগাজিনের কভার ফটোর জন্য তিনি বিনা জামায়, কেবল জিন্স পরে ফটোশুট করেছিলেন। বলাই বাহুল্য, সেই সময় যেখানে সিনেমায় ঠিকঠাক চুমু খাওয়ার দৃশ্য দেখানো হতো না, সেখানে এভাবে খোলামেলা ভাবে ছবি তুলে অনেকের বিষ নজরে পড়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করা হয়।
এই ঘটনার পর একাধিক সমাজসেবী, বা সমাজসেবী সংগঠনের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে কেস করা হয়। তাঁরা দাবি করতে থাকেন মমতার এই সাহসী ছবি সমাজের ক্ষতি করছে। বিপথে চালিত করবে যুবকদের। কিন্তু যতই বিতর্ক থাকুক, তাঁর সেই ফটোশুট আজও বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সাহসী ফটোশুট হয়ে আছে।
কেরিয়ারের প্রায় মধ্য গগনে থাকাকালীন বলিউডকে বিদায় জানান তিনি। চলে যান বিদেশে সেই সময় আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। কেউ কেউ যেমন ব্যক্তিগত কারণ অনুমান করেন, কারও মতে পেশাগত কারণেই তিনি বলিউড ছেড়েছিলেন। তবে অনেকে আবার এও দাবি করেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নাকি তাঁর নিবিড় যোগ তৈরি হয়েছিল, যোগ তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে। সেই জল্পনা আরও গাঢ় হয় যখন তিনি চর্চিত মাদক পাচারকারী ভিকি গোস্বামীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি বিদেশ ছিল যান। ২০১৬ সালে একটি ২০০০ কোটি টাকার আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের মামলায় নাম জড়ায় তাঁর। ভিকির সঙ্গে তিনি একাধিক মিটিংয়ে গিয়েছিলেন বলেই দাবি করেন তদন্তকারীরা। যদিও প্রাক্তন অভিনেত্রী এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন, জানান তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
এই বিতর্কের রেশ ফিকে হতে না হতেই ২০২৫ সালের মহাকুম্ভের ঠিক আগে তিনি দেশে ফেরেন। সন্ন্যাস গ্রহণ করে কিন্নর আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর হন। গেরুয়া বসন ধারণ করেন। কিন্তু ধর্মীয় নেতারা তাঁকে কিছুতেই মহামণ্ডলেশ্বর হিসেবে মেনে নিতে পারে না। বিতর্ক চরমে পৌঁছতে তিনি সেই পদ ত্যাগ করেন।
তিনি অতীতে 'বাজি', 'করণ অর্জুন', 'আশিক আওয়ারা', 'চায়না গেট', 'বেকাবু', ইত্যাদির মতো ছবিতে কাজ করেছেন।
















