ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর নিবেদনে আসছে বাংলা ছবি 'জয়ীতা'। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন তিনি। এছাড়াও রয়েছেন রোহিত রায়, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, মানসী সিনহা, রত্না ঘোষাল প্রমুখ। এই ছবির পরিচালনার দায়িত্বে জিৎ দত্ত। এর আগে তিনি 'পটাদার কীর্তি' নামে একটি ছবি তৈরি করেছিলেন। গানের দায়িত্বে আছেন রণজয় ভট্টাচার্য। প্রযোজনায় আশা মাল্টিমিডিয়া।

 

 

'জয়ীতা'র গল্পে বিশাল ধন-সম্পদ আর আভিজাত্যের মাঝেও একাকীত্বে ডুবে থাকা এক মানুষ শুভেন্দু রায়চৌধুরী। স্ত্রী বিয়োগের পর কলকাতার বিশাল বাড়িতে তিনি একা, সঙ্গী কেবল একরাশ নিঃসঙ্গতা। এক বন্ধুর পরামর্শে তাঁর দেখাশোনার জন্য আসেন জয়ীতা। জয়ীতা খুব চটজলদি বুঝতে পারেন যে, শুভেন্দুবাবুর আসল অসুখ কোনও শারীরিক সমস্যা নয়, বরং মানুষের সান্নিধ্যের অভাব। নিজের সেবা আর মমতায় তিনি শুভেন্দুবাবুর বিষণ্ণ জীবনে নতুন করে বাঁচার রসদ জুগিয়ে দেন।

 

 

 

কিন্তু এই সুখ স্থায়ী হয় না। পরিবারের অন্য সদস্যদের প্ররোচনায় ভুল বুঝে শুভেন্দুর ছেলে রণজয় জয়ীতাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন। এই আকস্মিক বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে শুভেন্দুবাবু স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অনুতপ্ত রণজয় উন্নত চিকিৎসার জন্য বাবাকে আমেরিকায় নিয়ে গেলেও সেখানে নিঃসঙ্গতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

অবশেষে জয়ীতা যখন সবটা জানতে পারেন, তিনি আবারও শুভেন্দুবাবুর পাশে এসে দাঁড়ান এবং তাঁকে ফিরিয়ে আনেন নিজের বাড়িতে। বাবা ও ছেলের মাঝখানে এক আবেগের সেতু হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর কী হয়, সেটাই দেখাবে এই ছবি। জানা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই শুটিং শুরু হয়েছে‌।

 

 

 

ছবি প্রসঙ্গে রোহিত রায় বলেন, "আমার কাছে বাংলা ছবিতে কাজ করাটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। ২০১০ সালে আমি আমার প্রথম বাংলা ছবি করি এবং তারপর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ন'দশটি ছবি করেছি। তাই বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে আমি খুব বেশি নিয়মিত না হলেও, যখনই এখানে আসি আমি দারুণ উপভোগ করি। আমি মনে করি কলকাতা বিশ্বের অন্যতম সেরা শহর। অন্য কোনও শহরের পক্ষে বোঝা বা তার কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব নয়। আমি এখানকার মানুষ, খাবার এবং কলকাতার পরিবেশ খুব ভালবাসি। আর আমরা সবাই জানি যে বাঙালিরা অন্যতম সৃজনশীল জাতি। তাই টলিউডে কাজ করাটা সবসময়ই আনন্দের।"

 

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর কথায়, "জিৎ-এর পটাদার কীর্তি ছবিতে প্রযোজনায় ছিলাম। এখন জিৎ আবার পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন, কিন্তু এখানে আমি উপস্থাপক এবং আকাশ ও আশা মাল্টিমিডিয়া প্রযোজক। রোহিতের সঙ্গে কাজ করা সবসময়ই অনেক মজার কারণ ও খুব মজাদার একজন মানুষ এবং আমরা অনেক ছবিতে কাজ করেছি, মানে তিনটি বাংলা এবং দুটি হিন্দি। তাই, আমি সবসময়ই করেছি - আমি সবসময় ওর সঙ্গে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।"

 

 

পরিচালক বলেন, "এই ছবিটায় বাস্তবের সঙ্গে এতটা মিল আছে বলেই হয়তো আমার মনে ধরেছে। এছাড়াও ঋতুর সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য সবসময়ই একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। জয়ীতা একটি সম্পূর্ণ পারিবারিক ছবি। সত্যিই বিশ্বাস করি প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবার, প্রতিটি সাধারণ মানুষের এই ছবিটি দেখা প্রয়োজন।"