আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, বিনিয়োগের যাত্রা শুরু করতে হলে প্রচুর অর্থ বা এককালীন বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন। অথচ সম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণের চেয়ে ধারাবাহিকতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন খরচ মেটানোর পর যদি আপনি প্রতি মাসে মাত্র ৫০০ টাকার মতো আলাদা করে রাখতে পারেন, তবেই 'সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান' বা এসআইপি-এর মাধ্যমে আপনার বিনিয়োগের যাত্রা শুরু করা সম্ভব।
এসআইপি বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত বিরতিতে মিউচুয়াল ফান্ডে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়। তাই বেতনভোগী চাকরিজীবী, যারা প্রথমবারের মতো বিনিয়োগ করছেন এবং যারা ধীরে ধীরে সম্পদ গড়ে তুলতে চান- তাদের সবার জন্যই এটি অত্যন্ত উপযোগী।
তবে মূল প্রশ্নটি হল: মাসে ৫২০ টাকার বিনিয়োগ কি আপনাকে ধনী করে তুলতে পারে?
মাসিক ৫২০ টাকার এসআইপি কি আপনাকে ধনী করতে পারে?
শুধুমাত্র মাসিক ৫২০ টাকার এসআইপি আপনাকে ধনী করে তুলবে, এমনটা আশা করা কঠিন। ৫ বছরের মেয়াদে আপনার বিনিয়োগ বেড়ে প্রায় ৪২,৮০০ টাকায় দাঁড়াবে। আর ২০ বছরে আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে প্রায় ১.২৪ লক্ষ টাকা।
বার্ষিক ১২ শতাংশ রিটার্ন বা মুনাফা ধরা হলে, 'কম্পাউন্ডিং'-এর (চক্রবৃদ্ধি সুদের) প্রভাবে এই বিনিয়োগ বেড়ে প্রায় ৫.১৯ লক্ষ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
একনজরে, এসআইপি-র মাধ্যমে বিভিন্ন সময়সীমার মধ্যে ৫২০ টাকার বিনিয়োগ কীভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে:
বিনিয়োগ: মাসে ৫২০ টাকা
সময়কাল: ৫ বছর
সুদের হার: বার্ষিক ১২ শতাংশ
মোট বিনিয়োগের মূল্য: ৩১,২০০ টাকা
আনুমানিক রিটার্ন: প্রায় ৪২,৮০০ টাকা
একই পরিমাণ বিনিয়োগ ১০ বছরে বেড়ে ১.২০ লক্ষ টাকায় দাঁড়াবে।
বিনিয়োগ: মাসে ৫২০ টাকা
সময়কাল: ১০ বছর
সুদের হার: বার্ষিক ১২ শতাংশ
মোট বিনিয়োগের মূল্য: ৬২,৪০০ টাকা
আনুমানিক রিটার্ন: প্রায় ১.২০ লক্ষ টাকা
আর যদি আপনি এটি ২০ বছরের জন্য বিনিয়োগ করে রাখেন, তবে তা থেকে ৫.১৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।
বিনিয়োগ: মাসে ৫২০ টাকা
সময়কাল: ২০ বছর
সুদের হার: বার্ষিক ১২ শতাংশ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ: ১.২৪ লক্ষ টাকা
প্রত্যাশিত রিটার্ন: প্রায় ৫.১৯ লক্ষ টাকা
কীভাবে আরও বড় তহবিল গড়ে তুলবেন?
যদিও বিনিয়োগকৃত অর্থের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, তবুও বড় আকারের সম্পদ গড়ে তোলার জন্য সাধারণত আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়ানো প্রয়োজন।
এর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল 'স্টেপ-আপ' (বা 'টপ-আপ') এসআইপি-তে বিনিয়োগ করা। এই ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারীরা প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট হারে (যেমন ১০ বা ১৫ শতাংশ) তাদের মাসিক এসআইপি-র পরিমাণ বাড়াতে পারেন।
উল্লেখ্য, আপনি যত আগে বিনিয়োগ শুরু করবেন এবং যত নিয়মিতভাবে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াবেন, আপনার দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা ততটাই বাড়বে।
















