দীক্ষা ভুঁইয়া: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের পুলিশ সার্ভিস সেলের নির্দেশে গোয়েন্দা শাখা (আইবি)-র তিন জন শীর্ষ আইপিএস অফিসারকে পশ্চিমবঙ্গের দুর্নীতি দমন শাখা (অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ বা এসিবি)-তে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। সোমবার, ৩ আগস্ট এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, গোয়েন্দা শাখার আইজিপি আইপিএস মুরলিধর শর্মা, ডিআইজি আইপিএস আকাশ মাঘারিয়া এবং সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট আইপিএস কামনাশিস সেনকে এসিবি-তে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। তিনজনকেই নির্বাচনের আগে এবং পরে রাজ্য পুলিশের আইবি-তে বদলি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার নতুন নির্দেশিকা জারি করে তিন আইপিএস-কে এসিবি-তে পাঠানো হল।

তিন আইপিএসের পাশাপাশি দুর্নীতিদমন শাখায় আরও পুলিশ অফিসার এবং কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হল। পুলিশ সূত্রের খবর, তিন আইপিএস ছাড়াও ১৬ জনকে দুর্নীতিদমন শাখায় পাঠানো হল। রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন । মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরে শুভেন্দু অধিকারী বার বার বিভিন্ন জায়গায় জিরো টলারেন্স দুর্নীতির কথা বলছেন। মনে করা হচ্ছে, সেই কারনেই তিন আইপিএস অফিসার ছাড়াও আরও ১৬-কে এই শাখায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডেপুটেশনে যাওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি তথা ডিএসপি পদমর্যাদার বিশ্বজিৎ পাত্র। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ, সিআইডি, ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (আইবি), ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি গ্রামীণ, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলা, সুন্দরবন পুলিশ জেলা এবং হাওড়া জিআরপি-সহ বিভিন্ন ইউনিটের একাধিক ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবলকে এই ডেপুটেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মোট ১৬ জনের তালিকায় রয়েছেন ডিএসপি পদমর্যাদার ১ জন, ইন্সপেক্টর ৮ জন, সাব-ইন্সপেক্টর ৩ জন এবং কনস্টেবল ৪ জন। রাজ্য পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী, এই ডেপুটেশনের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে দুই মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত ও বিশেষ অভিযানে দক্ষ জনবল বাড়াতেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গে তামিলনাড়ুতেও বিধানসভা নির্বাচন ছিল। সেই সময় বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার পদে থাকা মুরলীধর শর্মা-সহ ১৫ জন আইপিএসকে তামিলনাড়ুতে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। পরে কমিশন জানিয়ে দেয় মুরলীধর শর্মাকে অন্য রাজ্য যেতে হবে না। আকাশ মাঘারিয়াকেও ভোট পর্যবেক্ষকের তালিকায় রাখা হয়েছিল। তাঁকে অন্য রাজ্যে যেতে হয়েছিল। মুরলীধর শর্মা ২০২৬ সালের জুন থেকে গোয়েন্দা শাখার আইজিপি পদে ছিলেন। এর আগে তিনি বিধাননগর পুলিশ কমিশনার পদে ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের সময় তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা প্রধান) পদে ছিলেন।

আকাশ মাঘারিয়া ২০০৯ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে তাঁকে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এর আগে তিনি কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডিসিপি এবং ডিআইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) পদে দায়িত্বে ছিলেন।  কয়লাপাচার কাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল আইপিএস অফিসার আকাশ মাঘারিয়ার। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন একাধিক বার আকাশ মাঘারিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। রাজ‍্য পুলিশের সদর দফতরের ডিআইজির পদ সামলেছেন। নির্বাচনের পর থেকে তিনি রাজ‍্য পুলিশের আইবিতে ছিলেন। তাঁকে পাঠানো হল রাজ‍্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখায়।

কামনাশিস সেন ২০১৪ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইপিএস  অফিসার। পূর্বে পূর্ব বর্ধমান ও বারুইপুরের পুলিশ সুপার এবং বিধাননগরের ডিসিপি (নিউ টাউন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি গোয়েন্দা শাখার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট পদে ছিলেন। তাঁকে দুর্নীতি দমন শাখায় ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে।