আজকাল ওয়েবডেস্ক: হামিম-অর্পিতার টার্গেট ছিল দিল্লির যন্তর-মন্তরও? উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বেঙ্গল এসটিএফ জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে শনিবার ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামিম মণ্ডলকে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করে বেঙ্গল এসটিএফ। এসটিএফ সূত্রে খবর, হামিম মণ্ডলের মোবাইল সূত্র ধরেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধিতে কীভাবে নজর রাখত সেই সমস্ত বিষয় নিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এইসব তথ্য তিনি কোথায় থেকে পেতেন, কার মাধ্যমে কি পদ্ধতিতে পৌঁছে দেওয়া হতো এই সব কিছুই জিজ্ঞাসাাবাদ করা হয়েছে।। ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় হামিম মন্ডলকে রাতে রাখা হয়েছে।
হামিম মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, পাকিস্তানের একাধিক হ্যান্ডলারদের খোঁজ পেয়েছিল এসটিএফ। সেই সমস্ত তথ্য নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাকিস্তানি হ্যান্ডলার পুলিশের পোশাক জোগাড় করা নির্দেশ দিয়েছিল সেই সমস্ত তথ্য জানার জন্যই হামিমকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেক্ষেত্রে পুলিশের পোশাক জোগাড় করার জন্য কার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল ,কে সাহায্য করেছিল সেই বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে। রেল স্টেশন থেকে শুরু করে একাধিক জনবহুল এলাকা টার্গেট ছিল সেই কারণেই একাধিক জায়গায় রুট ম্যাপ পাওয়া গিয়েছে মোবাইলে তথ্য থেকে হামিমের। মূলত অল্প বয়সী যুবকদের এই জঙ্গি কার্যকলাপ করার কাজে লাগানোর জন্য টার্গেট করা হচ্ছিল বলে তথ্য। মূলত যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সক্রিয়, সেই যুবকদেরই টার্গেট করা হয়েছিল এই কাজে যুক্ত করার জন্য, এই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বেঙ্গল stf এর পক্ষ থেকে, তথ্য তেমনটাই।
হামিম মণ্ডল এবং অর্পিতা সরকারকে মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে, এমনটাই সূত্রের খবর। তথ্য, অর্পিতা সরকারের সঙ্গে সরাসরি কথা হত "আবিদ জাট333" এবং হামাদ নামে দুটি এক্স হ্যান্ডলের। গতকালই এসটিএফ আইজি জানান পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে অর্পিতার সরাসরি যোগ রয়েছে। সূত্রের খবর এই দুটি হ্যান্ডলের সঙ্গে অর্পিতা টানা কথা বলতেন, মূলত হানিট্র্যাপে ফেলা নিয়েই বিভিন্ন ধরনের চ্যাট পেয়েছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে এসটিএফ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দিল্লির যন্তর-মন্তরের ধর্না শেষ হওয়ার ফলে বিপাকে পড়ে হামিম ও শাহজাদ ভাটি গ্যাং। যেদিন ধর্না শেষ হয় তার কদিন আগেই পুলিশের উর্দি জোগাড় করে দিল্লিতে যাবার প্ল্যান করে হামিম কিন্তু উর্দি জোগাড় করার আগেই ধর্না শেষ হয়ে যায়। ফলে পাক হ্যান্ডলাররা হামিমকে তার অতি সক্রিয়তা কিছুটা কমাতে নির্দেশ দেয়।
উল্লেখ্য, হামিম মণ্ডলকে জেরা করার সময়ই অর্পিতার নাম সামনে আসে। এরপর প্রযুক্তিগত নজরদারি ও তথ্য যাচাই করে সাহেবগঞ্জে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালায় এসটিএফ। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজিং থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, হামিমের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এবং পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের যোগাযোগের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। সেই তদন্তেরই ধারাবাহিকতায় অর্পিতার গ্রেপ্তারিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।
















