আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থানার মনিগ্রাম বটতলা এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম লোকেশ রাজমল্ল (২৩)। তিনি মনিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল প্রায় তিনটে নাগাদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বচসার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান লোকেশ। এরপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ মিলছিল না।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা সারারাত বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও তাঁর সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরের একটি ঝোপের মধ্যে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে সাগরদিঘি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার পিছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, জঙ্গলের লতাপাতা ব্যবহার করে শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, লোকেশ একটি মুরগির মাংসের দোকানে কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি এলাকায় বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
বিজেপির জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সহ-সভাপতি ভবানীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, লোকেশ তাঁদের দলের ১০৯ নম্বর বুথের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
বহু খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার একটি ঝোপের মধ্যে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর অভিযোগ, লোকেশকে খুন করা হয়েছে। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তিনি আরও দাবি করেন, যেখানে দেহটি উদ্ধার হয়েছে সেখানে প্রচুর রক্তের দাগ ছিল এবং লোকেশের গলায় লতাপাতা পেঁচানো অবস্থায় দেখা যায়। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলেও জানান তিনি।
বিজেপির জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সহ-সভাপতি ভবানীপ্রসাদ চ্যাটার্জি বলেন, ‘লোকেশ আমাদের দলের ১০৯ নম্বর বুথের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সোমবার বিকেলে লোকেশ বাড়ি থেকে বেরোনোর পর তাঁকে আর পাওয়া যায়নি ফোনে। আমাদের ধারণা লোকেশকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে এই খুন তা আমরা বুঝতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে এলাকায় লোকেশের দেহ উদ্ধার হয়েছিল সেখানে অনেক রক্ত পড়েছিল এবং এলাকাটা একটু নির্জন। লোকেশের গলা লতা-পাতা দিয়ে পেঁচানো ছিল। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে এই খুনের ঘটনার পিছনে কে বা কারা জড়িয়ে রয়েছে।’
















