আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দগ্ধ হল একটি শিশু। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ভাঙড়ের পোলেরহাট থানার স্বরূপনগর এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, কেন্দ্রে চরম গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাধুনি এবং শিক্ষিকার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার প্রতিবাদে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো এদিনও শিশুটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গিয়েছিল। অভিযোগ, ঘটনার সময় কেন্দ্রের নির্দিষ্ট রাধুনি ও শিক্ষিকা কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের পরিবর্তে এক প্রতিনিধি একই সঙ্গে শিশুদের পড়ানো, দেখাশোনা এবং রান্নার কাজ করছিলেন। সেই সময় রান্নার জন্য রাখা ফুটন্ত গরম জলের পাত্র থেকে জল শিশুটির শরীরে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে শিশুটি।
পরিবারের দাবি, গরম জলে শিশুটির বুক, হাত-সহ শরীরের একাধিক অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে জিরেনগাছা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। পরিবারের দাবি, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সামনে জড়ো হন বহু গ্রামবাসী। তাঁদের অভিযোগ, শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতাই এই দুর্ঘটনার কারণ। একই ব্যক্তিকে শিশুদের দেখাশোনা ও রান্নার মতো দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়াকেও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন তাঁরা। বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে পোলেরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সময় কারা দায়িত্বে ছিলেন, কেন নির্দিষ্ট রাধুনি ও শিক্ষিকা অনুপস্থিত ছিলেন এবং কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছিল কি না, তাও তদন্তে দেখা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের একাংশের প্রশ্ন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা যে কেন্দ্রে, সেখানে কীভাবে এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটল? যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এখন সকলের প্রার্থনা, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক আহত শিশুটি।
















