মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Pullela Gopichand: অলিম্পিকে বাজি সাত্ত্বিক-চিরাগ, সিন্ধুতেও আশাবাদী গোপীচাঁদ

Sampurna Chakraborty | ০৪ মার্চ ২০২৪ ২৩ : ৪০


আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরপর দুটো অলিম্পিকে পদক এসেছে। রিওতে রুপো জেতার পর টোকিওতে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন পিভি সিন্ধু। দু"বারই হাতছাড়া হয়েছে সোনা। প্যারিস অলিম্পিকের বাকি সাড়ে চার মাস। এবার কি ব্যাডমিন্টনে সোনা আসবে? পদকের রং বদলাতে পারবেন সিন্ধু? প্রাক্তন ছাত্রীকে নিয়ে আশাবাদী হলেও, পুল্লেলা গোপীচাঁদের বাজি সাত্ত্বিক সাইরাজ রানকিরেড্ডি এবং চিরাগ শেট্টি। ফরাসি ওপেনে মঙ্গলবার কোর্টে নামবে ভারতীয় জুটি। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে সোমবার রাতের বিমানেই প্যারিসে পাড়ি দেবেন গোপীচাঁদ। তার আগে বোরিয়া মজুমদার আয়োজিত স্পোর্টস কনক্লেভ "ট্রেলব্লেজার্স ২.০" র সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছিলেন গোপীচাঁদ। সেই অনুষ্ঠানেই অলিম্পিকে নিজের বাজি বেছে নেন সাইনা, সিন্ধুদের কোচ। গোপীচাঁদ বলেন, "ভারতীয় শাটলাররা বড় মঞ্চে জেতার ক্ষমতা রাখে। সবাই তরুণ, প্রতিভাবান। তবে আমার মতে এবারের অলিম্পিকে সাত্ত্বিক-চিরাগকে হারাতে বেগ পেতে হবে। ওরা কঠিন প্রতিপক্ষ হবে। সিন্ধুও দুর্দান্ত। অতীতে সাফল্য এনে দিয়েছে। দুটো অলিম্পিক পদক পেয়েছে। ছন্দে আছে। বয়স ওর দিকে আছে। ফর্মে থাকলে ওরও পদক জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।" বাঁ হাঁটুর চোটের জন্য প্রায় চার মাস কোর্টের বাইরে ছিলেন সিন্ধু। মালয়েশিয়া ওপেন এবং ইন্ডিয়া ওপেনে খেলতে পারেননি। ফেব্রুয়ারির শেষে ব্যাডমিন্টন এশিয়া টিম চ্যাম্পিয়নশিপে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেন। বিশ্বের ১৭ নম্বর সুপানিদা কাটেথংকে হারান। ব্যাডমিন্টন এশিয়া টিম চ্যাম্পিয়নশিপে সিন্ধুর সঙ্গে গোপীর কথা হয়েছে। তিনি মনে করেন, সঠিক দিকেই এগোচ্ছে প্রাক্তন ছাত্রীর অলিম্পিক প্রস্তুতি। এই প্রসঙ্গে গোপীচাঁদ বলেন, "সিন্ধু খুব ভাল কামব্যাক করেছে। ফাইনালে কাটেথংকে হারিয়েছে। সঠিক দিশাতেই এগোচ্ছে। ব্যাডমিন্টন এশিয়া টিম চ্যাম্পিয়নশিপে টপ ব়্যাঙ্কিংয়ে থাকা প্লেয়ারদের হারিয়েছে। সেই টুর্নামেন্টে আমার ওর সঙ্গে কথা হয়েছে। আবার আগের ছন্দে ফেরার বিষয়ে ও আত্মবিশ্বাসী।" 

টোকিও অলিম্পিকে সাতটি পদক এসেছিল দেশে। এবার সেই সংখ্যা বাড়ার বিষয়ে আশাবাদী গোপীচাঁদ। তবে তীরে গিয়েও কেন বারবার তরী ডুবছে। ফাইনাল গণ্ডি কেন পার করতে পারছে না ভারতীয় শাটলাররা? কোথাও কী মানসিক সমস্যা হচ্ছে? এমন মনে করেন না গোপী। বরং, ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের উত্থানের ইতিহাস তুলে ধরলেন। একইসঙ্গে দাবি, গত ৩০ বছরে অনেক উন্নতি করেছে ভারতীয় ব্যাডমিন্টন। গোপীচাঁদ বলেন, "ব্যাডমিন্টনের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে ১৯৮০ তে প্রকাশ স্যার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ১৯৯১ সালে আমি জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হই। তারপর থেকে ভারতে ব্যাডমিন্টনের মান নেমে যায়। ১৯৯৪ সালে ভারতীয় দল যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সেখান থেকে ৩০ বছরে আমরা টমাস কাপ জিতেছি। ২০১১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রত্যেক টুর্নামেন্টে আমরা পদক পেয়েছি। পরপর দুটো অলিম্পিকে পদক এসেছে। ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে মিরাকেল হয়েছে বলা চলে। তবে জানি আমরা সোনা জিততে চাই। আশা করছি সাত্ত্বিক-চিরাগ সেই আশা পূরণ করতে পারবে।" কলকাতার স্টার ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমির সঙ্গে যুক্ত আছেন গোপী। মাঝেমধ্যেই সময় বের করে কলকাতার হরিনাভির এই অ্যাকাডেমিতে এসে প্রশিক্ষণ দেন। বাংলায় ব্যাডমিন্টনের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী। গোপীচাঁদ বলেন, "বাংলার ব্যাডমিন্টন প্লেয়ারদের পায়ের গঠন ভাল। স্ট্রোক প্লেতে স্বচ্ছন্দ, মুভমেন্ট ভাল, পরিকাঠামো আরও ভাল হলে অবশ্যই বাংলার প্লেয়াররাও এগিয়ে যাবে।" ঋতুপর্ণা দাসের নাম আলাদা করে উল্লেখ করেন গোপী। 

কাকতালীয়ভাবে, মেয়ে গায়েত্রীর জন্মদিনের দিনই শহরে হাজির ছিলেন তারকা ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার। মেয়ের বার্থডে কেক কাটতে চাননি। কিন্তু স্পোর্টস কনক্লেভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে শ্রাচি গ্রুপের কর্ণধার রাহুল টোডি,‌ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ এবং আয়োজক বোরিয়া মজুমদারের সঙ্গে কেক কাটেন গোপী। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেই ব্যাডমিন্টনে মেয়ে গায়েত্রী। তাঁকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় কোচ না বাবা? কোন সত্ত্ব প্রকাশ পায়? গোপীচাঁদ বলেন, "গায়েত্রীকে মেয়ে হিসেবে পেয়ে আমি গর্বিত। যদিও আমি আমার প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকেই নিজের ছেলে বা মেয়ে ভাবি। তাই খুব পার্থক্য নেই। তবে গায়েত্রীকে ট্রফি জিততে দেখলে খুব ভাল লাগে। লোকে প্রশ্ন করে, কবে গায়েত্রী একনম্বর হবে। এটা ওর প্রতি অন্যায়। ও আজ যেখানে পৌঁছেছে, সেই নিয়ে আমি গর্বিত। ওর ক্ষেত্রে আমি কোচ কম, বাবা বেশি বলতে পারেন। তবে ওর নিজস্ব জার্নি আছে। ওকেই সেই পথে চলতে হবে। তবে ও আমাকে আরও বেশি সংবেদনশীল করে তুলেছে।" কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে ৭ এবং ৮ মার্চ দু"দিনব্যাপী চলবে এই স্পোর্টস কনক্লেভ। যোগ দেবেন সৌরভ গাঙ্গুলি, লিয়েন্ডার পেজ, অভিনব বিন্দ্রা প্রমুখ। ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন নীরজ চোপড়া, পুল্লেলা গোপীচাঁদ, সাত্ত্বিক, চিরাগরা। 

ছবি: অভিষেক চক্রবর্তী



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর

সোশ্যাল মিডিয়া