সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Tollywood: ‘বাঘ বিধবা’দের দুয়ারে ‘বনবিবি’! সুন্দরবনে প্রিমিয়ার রানা সরকারের ছবির

নিজস্ব সংবাদদাতা | ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২১ : ২৭


দর্শক যদি সিনেমা হলে না যেতে পারে সিনেমা আসবে আপনার ঘরে...

সেটাই যদি হয় তা হলে কী হয়? অনেক কিছু হয়। এক, পুরনো দিনের মতো মাটিতে সতরঞ্চি বিছিয়ে বড় পর্দা খাটিয়ে ছবি দেখা যায়। দুই, বিদায়বেলার শীত উপেক্ষা করে চাদরমুড়ি দিয়ে, গায়ে গা ঠেকিয়ে নানা বয়সের মহিলারা বসে পড়েন সেখানে। তিন, ছবি দেখার পর বাড়তি পাওনা সেই ছবির অভিনেতাদের সঙ্গে নিজস্বী তোলার সুযোগ। চার, নিজেদের জীবনযন্ত্রণার গল্প জন্মভিটেয় বসে দেখা সুযোগ। প্রযোজক রানা সরকারের ভাষায়, ‘দুয়ারে সিনেমা’! ফলাফল কী? উপচে পড়া ভিড়। আবারও ছবি দেখার বায়না।



এই সব কটিই হয়েছে রাজদীপ ঘোষ পরিচালিত ‘বনবিবি’কে ঘিরে। সুন্দরবনের মানুষদের গল্প সেখানেই দেখানোর ব্যবস্থা করেছিলেন রানা। কারণ, ক্যানিংয়ে গিয়ে দামি টিকিট কেটে ছবি দেখার সামর্থ্য নেই এঁদের। ২৬ ফেব্রুয়ারি টিম "বনবিবি" পৌঁছে গিয়েছিলেন সেখানে। মুম্বই থেকে উড়ে এসেছিলেন ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য। ছিলেন ছবির নায়িকা পার্নো, নায়ক আর্য, প্রযোজক, পরিচালক এবং কলাকুশলীরা। আজকাল ডট ইনকে অনুষ্ঠানের বর্ণনা দিতে গিয়ে রানা বলেছেন, ‘‘স্থানীয় মেয়েদের স্কুলপ্রাঙ্গনে ছবি দেখানোর ব্যবস্থা হয়েছিল। পুরনো দিনের মতো দেওয়াল জুড়ে ছবির পোস্টার পড়েছিল। আস্তে আস্তে ভিড় বাড়তে বাড়তে স্কুলের গেট পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। এটাই আমাদের প্রাপ্তি।’’

স্থানীয় প্রথা মেনে সুন্দরী গাছের পাতা ব্যাজ হিসেবে প্রত্যেকের জামায় আটকে বরণ করা হয়। ভাষণে টিমের প্রত্যেকে স্থানীয়দের কাছে জানতে চান, কবে তাঁরা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে শেষ ছায়াছবি দেখেছেন? কেউ দেব তো কেউ মিঠুন চক্রবর্তীর ছবি শেষ দেখেছেন। যাওয়ার সামর্থ্য নেই বলে তারা ঘরে বসে ছোটপর্দার ধারাবাহিক দেখেই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছেন। বহু যুগ পরে খোলা আকাশের নীচে সবার সঙ্গে বসে ছবি দেখার সুযোগ তাঁদের স্মৃতিসফর করিয়েছে। এই জায়গা থেকেই তাঁদের অনুরোধ, এভাবেই যদি তাঁদের দুয়ারে সিনেমা এসে দাঁড়ায় তবে জীবনধারাই বদলে যায়। বিশেষ করে তাঁদের জীবন নিয়ে তৈরি ছবি তাঁরা আরও বেশি করে দেখতে চান।



এটা বাসিন্দাদের কথা। টিম ‘বনবিবি’ কী বলছে? পার্নো জানিয়েছেন, শহরের মাল্টিপ্লেক্সে তারকাখচিত প্রিমিয়ারে অভ্যস্ত তাঁরা। সুন্দরবনে তাঁদের ছবিমুক্তি অন্য অনভূতির জন্ম দিয়েছে। যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। হয়তো রুপোলি পর্দার তারাদের চোখধাঁধানো আলো ছিল না। সেই জায়গাজুড়ে ছিল হৃদয়ের উষ্ণতা। যা স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উপচে দিয়েছেন। এরকম অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে খুব খুশি বলিউড-টলিউডের জনপ্রিয় মুখ দিব্যেন্দু। প্রযোজককে জানিয়েছেন, আগামী এই ধরনের আয়োজন আরও হোক। তিনি পাশে থাকবেন। বাকি প্রযোজকের বক্তব্য। তিনি কি আগামীতে আরও এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন? তাঁর মতে, ‘‘শহরের জনসংখ্যা মাত্র দেড় থেকে দু’কোটি। রাজ্যের সিংহভাগ লোকের বাস গ্রামে। প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে বড়পর্দায় ছবি দেখার নেশা তাই গ্রামাঞ্চলে বাড়াতে হবে। তার জন্য এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। তখন ন্যূনতম দামের টিকিটের ব্যবস্থা করতে হবে। ইতিমধ্যেই বর্ধমান, বীরভূম, মেদিনীপুর থেকে ‘বনবিবি’ দেখানোর আমন্ত্রণ পেয়েছি। আমরা তাঁদের ডাকা সাড়া দেব।’’



বিশেষ খবর

নানান খবর

Earth day 2024 #Aajkaal #EarthDay2024 #EarthDay #aajkaalonline

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া