রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Valentine's Day: ভালবাসার মরশুমে প্রিয়াঙ্কা, ইন্দ্রজিৎ!

Reporter: নিজস্ব সংবাদদাতা | লেখক: শ্যামশ্রী সাহা ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২১ : ১৪



শ্যামশ্রী সাহা: প্রেম শুধুই সাতদিনের উদযাপন? ভালবাসা অটুট রাখার মন্ত্র জানেন তো? ভ্যালেন্টাইনস ডে-র আগে পরামর্শে মনোবিদ ড. অমিত চক্রবর্তী। অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন ইন্দ্রজিৎ বসু, প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল।
উদযাপনের রং কখনও লাল। কখনও হলুদ। এবার তো একই দিনে সরস্বতী পুজো, ভ্যালেন্টাইন্স ডে। মানে, এই ফাগুনে ভালবাসার জোড়া উদযাপন। কেউ পরবেন হলুদ রঙের শাড়ি। কেউ আবার আগুন লালে সাজবেন। প্রিয় জনের সঙ্গে সারাদিন। কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্ত।
বাঙালির সরস্বতী পুজো ভালবাসার দিন। প্রথম শাড়ি পরার আনন্দ, প্রথম অনুরাগের ছোঁয়া। ভ্যালেনটাইন্স ডের জন্ম পাশ্চাত্যে। এখন এই ঢেউয়ে গা ভাসিয়েছে বঙ্গজীবনও। এই দুই উৎসবের সঙ্গে গাঁটছড়া সম্পর্ক, ভালবাসার। যদিও শুধুমাত্র দুটো রঙে বাঁধা যায় না, প্রেমের প্যালেট যে রামধনুরঙা! সেই সাতরঙা উদযাপনের এমন সুযোগ কি ছাড়া যায়?
অনেকেই বিশ্বাস করেন ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট"। কেউ আবার একটু একটু করে গড়ে তোলেন ভালবাসার ইমারত। একপলকে একটু দেখা। সেখান থেকেই শুরু ভাললাগা। প্রিয় মানুষটার মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাওয়া। সারাজীবন কাটানোর অঙ্গীকার। এরই নাম ভালবাসা। ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’, শুধু এই তিনটে কথাই কি একটা সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট? শুধু দু’দিনের উদযাপনেই কি মজবুত থাকে ভালবাসার ভিত?
সম্পর্কের মূল কথা হল দুটো মানুষের একাত্ম হওয়ার ইচ্ছা। ভালবাসার বন্ধন মজবুত রাখতে গুরুত্ব দিতে হয় তিনটে বিষয়ে। কী সেই ভালবাসার সঞ্জীবনী?
প্রক্সিমিটি
কাছে আসার ইচ্ছা। প্রিয়জনকে রোজ দেখার ইচ্ছা, তার প্রতি আকর্ষণ। এখান থেকেই তৈরি হয় ভাললাগা। 

প্যাশন
মানসিক ও শরীরিক আকর্ষণ। প্যাশন না থাকলে ভালবাসা মজবুত হয় না।
কমিটমেন্ট
ভালবাসার সম্পর্ককে সজীব রাখতে কমিটমেন্ট খুব দরকার। অধিকাংশ সম্পর্কে কমিটমেন্টের জায়গাটাই তৈরি হয় না। তখন সম্পর্ক ভেঙে যায়। শুধু হাত ধরে ঘুরে-বেরিয়ে ভালবাসার উদযাপন নয়, একে অপরকে বেঁধে রাখতে হবে অঙ্গীকারের বন্ধনে। সম্পর্ককে যত্ন করতে হবে। লালন করতে হবে। একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল থাকতে হবে। সম্পর্কের বয়সের সঙ্গে কমিটমেন্টও বাড়ে। এটাই ভালবাসার বড় অঙ্গ। এটা না থাকলে কোনও সম্পর্ক টিকবে না।
‘ভালবাসি’ বলার আগে ভাবুন
কিছু না ভেবেই কথাটা বলে দেন অনেকে। সেখান থেকেই সমস্যার শুরু। ভাললাগা মানেই ভালবাসা নয়। যাকে ভালবাসি বলছেন, সে আপনাকে ভাল নাও বাসতে পারে। যেভাবে আপনি ভালবাসেন আপনার প্রিয়জনের ভালবাসার ধরণ অন্য হতে পারে। তার মানে এই নয়, সে কম ভালবাসে। ভালবাসা একটা অনুভূতি, তাকে দাঁড়িপাল্লায় মাপা যায় না।
বোঝাপড়া তৈরি করুন
রোজ দেখা করা বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলা মানেই ভালবাসা নয়। প্রিয়জনকে বুঝুন। ত্যাগ করতে শিখুন। দু’জনের কর্মজীবন আলাদা। কাজের জায়গাটাও ঠিক রাখতে হবে। তার মধ্যেই একে অপরের জন্য সময় বের করুন।
সম্পর্ককে যত্ন করুন
দু’জন ভালবাসার মানুষ যতক্ষণ না বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন ততক্ষণ একটাই লক্ষ্য, সম্পর্কে সিলমোহর দেওয়া। সেটা হয়ে গেলেই অনেক সময় মজবুত সম্পর্কও ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’। ফাটলের শুরু সেখান থেকেই। ভালবাসা বা সম্পর্ক অনেকটা চারাগাছের মতোই। তাকে জল দিতে হয়। লালন করতে হয়। যত্ন করতে হয়। তবেই ভালবাসার দখিন হাওয়ায় সুস্থ থাকবে সম্পর্ক।

প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল
ভ্যালেন্টাইন্স ডে মানে এক সপ্তাহের উদযাপন। এবার একই দিনে সরস্বতী পুজো। আজ চকোলেট ডে। আগে এই দুটো দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকতাম। স্কুল, কলেজে পড়ার সময় প্রচুর চকোলেট পেয়েছি। অনেকেই জানত, চকোলেট দিয়ে আমাকে ইমপ্রেস করা যায়। বড় বড় চকোলেট বার গিফট পেয়েছি। আমার প্রথম প্রেমিককে চকোলেট উপহারও দিয়েছি। খুব মিষ্টি অভিজ্ঞতা। এখনও ভাবলে বেশ মজা লাগে। চকোলেট তো এখন খাওয়াই হয় না। তবে চকোলেট কেক খাইয়ে এখনও আমাকে ইমপ্রেস করতে পারেন কেউ। সরস্বতী পুজোও আমার কাছে খুব স্পেশ্যাল। শাড়ি পরা, খুব ভোরে ঠাণ্ডা জলে স্নান সেরে বন্ধুদের সঙ্গে অঞ্জলি দিতে যাওয়া। মা-বাবাকে লুকিয়ে সারাদিন ঘুরে বেড়ানো, আর হালকা প্রেম। এবার দিনটা কাটবে কাজের মধ্যে। ওইদিন একটা ইভেন্টে আমার গেস্ট হিসাবে যাওয়ার কথা।
ইন্দ্রজিৎ বসু
ছোটবেলায় পড়াশোনা আর খেলা নিয়েই আমার জগৎ। যখন প্রেম বা ভালবাসা কী বুঝলাম, তখন পড়াশোনা শেষ। তাই সরস্বতী পুজোয় প্রেম হয়নি। পুজোর দিন সকালে স্কুলে যেতাম, অঞ্জলি দিতাম-- ব্যস এটুকুই। তবে চকোলেট ডে-তে অনেক চকোলেট পেয়েছি প্রিয়জনের থেকে। এখনও পাই। সব ফ্রিজে জমাই। ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে খেতে পারি না। ভ্যালেন্টাইন্স ডে মানেই সারাদিন প্রেমিকার সঙ্গ। অন্য দিন সময় পাই না। তাই এই দিনটা শুধু দু’জনের। দু’জনে ছুটি পেলে ছবি দেখতে যেতে পারি। এখনও ‘ফাইটার’ দেখা হয়নি। তারপর একসঙ্গে ডিনারে, কোনও পছন্দের রেস্তোরাঁয়।

মডেল: ইন্দ্রজিৎ বোস ও প্রিয়াঙ্কা মন্ডল
পোশাক ও গয়না: অনুশ্রী মালহোত্রা
মেকআপ অ্যান্ড হেয়ার: রুদ্রজিৎ দাস
ছবি ও ভিডিও: আবির রিঙ্কু হালদার
সেলিব্রিটি ম্যানেজমেন্ট: রুদ্রাক্ষ
লোকেশন: রাহি টি টাইম
ভাবনা: শ্যামশ্রী সাহা
শুট কো-অর্ডিনেটর: অঙ্গনা ঘোষ



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া