শহরে জাঁকিয়ে শীত। তার মধ্যেই গোবিন্দপুরে আকাশ আট চ্যানেলের নতুন ধারাবাহিক ‘স্বয়ংসিদ্ধা’র শুট চলছে। চণ্ডীর বিয়ে গ্রামের জমিদারের বড় ছেলে গোবিন্দর সঙ্গে। একমাত্র নিমন্ত্রণ ছিল আজকাল টেলিভিশনের। ভরপেট ভূরিভোজ আর বিয়ের খুঁটিনাটির সাক্ষী উপালি মুখোপাধ্যায়
গ্রামের বাড়ির বিয়ে। মধ্যবিত্ত পরিবার। মাটির বাড়ি, তুলসী মঞ্চ। শোলার কদমফুল, আমপাতা, মঙ্গলঘট, কলাগাছ। সব মিলিয়ে ভীষণ আন্তরি পরিবেশ। যতটা সাজানো যায় মেয়েকে ততটাই চণ্ডীকে সাজিয়ে দিয়েছেন তার বাবা। বিয়ে নির্বিঘ্নে মিটেছে। এবার বরকনের বিদায় নেওয়ার পালা। মাটির দাওয়ায় ছেলের বাবা, নায়েব মশাই, গোবিন্দ, চণ্ডী। চণ্ডীর কপালে চওড়া সিঁদুর। শট দিতে দিতে হাল্কা ধেবড়ে গিয়েছে। গোবিন্দ কিন্তু গোড়ের মালা, ধুতি-পাঞ্জাবি, কপালে চন্দনের ফোঁটায় বেশ ধোপদুরস্ত। বাইরে পালকি দাঁড়িয়ে। কনকাঞ্জলির পালা মিটলেই মেয়ে শ্বশুরবাড়ি রওনা দেবে। গ্রাম ঝেঁটিয়ে সবাই এসেছেন। কেউ কেউ গোবিন্দর অপরিণতমনস্কতা নিয়েও মুখ বাঁকিয়েছেন। গোবিন্দ ছোট থেকে সৎ মায়ের কাছে অযত্নে মানুষ। তাই তার মন এখনও বাড়েনি। চণ্ডী অবশ্য সে সবে কান দিতে রাজি নয়। সে কথা সে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পড়শিদের।
এই নিয়ে পাঁচ বার...!!
বিয়ের একপ্রস্থ আচার মিটতেই ‘গোবিন্দ’ ওরফে বিশ্বাবসু বিশ্বাসের মুখোমুখি। এই নিয়ে কত বার? প্রশ্ন রাখতেই হেসে ফেলে বললেন, ‘‘এটা নিয়ে পাঁচবার বিয়ে হয়ে গেল! বিয়ে করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম। নিজের বিয়ের সময় কোনও ভুল করব না।’’ এও দাবি, প্রত্যেকবার প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিয়ের অনুষ্ঠান। আর কিছু না কিছু ঘটনা। কখনও বৌ ফুলশয্যার দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে খাটের তলায় লুকিয়ে পড়েছেন। একবার একটি ধারাবাহিকের বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে বৌ অসুস্থ হয়ে গেলেন। পিঁড়িতে বসে টেকনিশিয়ান দাদা! তিনি প্রক্সি দিলেন। বিশ্বাবসু বেজার মুখে তাঁকেই বিয়ে করেছিলেন। ফলে, কোন বিয়েটা আগে আর কোনটাকে পরে রাখবেন, মাঝে মাঝে সেটাই গুলিয়ে ফেলেন।
এত কিছুর পরেও কিন্তু নতুন বৌয়ের সিঁথি কিন্তু নিখুঁত ভাবে সিঁদুরে রাঙা...! ঝটিতি জবাব, ওই যে বললাম, ‘‘আমি অভ্যস্ত। তারই হাতেগরম ফলাফল।’’ তারপরেই সিরিয়াস গলায় জানালেন, না, প্রত্যেক পরিচালক এই ব্যাপারটা নিয়ে সজাগ থাকেন, খুঁতখুঁতেও। এই ধারাবাহিকের পরিচালক অনিন্দ্য সরকারও তাই। ফলে, সিঁদুরদানের সময় নাকি বেশি মনোযোগ ছিল তাঁর! সত্যিকারের সিঁদুর? সম্মতিসূচক ঘাড় নেড়েই মুখে দুষ্টু হাসি।এও জানালেন, বিয়ে করতে কিন্তু গোবিন্দ খুবই মজা পাচ্ছে। নতুন বৌ, এত নিয়মকানুন তো সে আগে দেখেনি। তাই সব কাজ ভীষণ উৎসাহ নিয়েই করছে। শুটের অবসরেও বিয়ে নিয়ে দেদার হাসিঠাট্টা হচ্ছে।
বাড়ি থেকে পালিয়ে...
বাড়ির চাপ বিয়ে করতে হবে। কিছুতেই বিয়ে করবেন না ছোটপর্দার ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ ওশনি দাস। সাতপাক ঘোরার ভয়েই হাওড়ায় নিজেদের বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতায়! অভিনয় দুনিয়ায়। তবু রেহাই পেলেন কই? মুখোমুখি হয়েই বললেন, ‘‘আমায় না পেয়ে মা-বাবা মেজ বোনের বিয়ে দিয়ে দিলেন। এখন সেটে হইহই করে বিয়ে করছি!’’ লাল বেনারসি, সিঁদুর, গয়নায় ঝলমল করছেন নায়িকা। বলতেই সলজ্জ হেসে জানালেন, প্রথম বিয়ে। পর্দার বর বেশ ভাল। চণ্ডী তার বৌ কাম শিক্ষিকা।
পর্দায় প্রথম বিয়ে করতে এসে অনেক কিছু শিখলেন ওশনি। ‘স্বয়ংসিদ্ধা’র ‘চণ্ডী’ হতে গিয়ে কী কী শিখতে হল? বড়পর্দায় ইতিমধ্যেই বাংলা-হিন্দিতে দর্শক দেখেছেন। ছবি আর মিঠু মুখোপাধ্যায়ের নাম এখনও একসঙ্গে উচ্চারিত হয়। ওশনির কথায়, ‘‘পরিচালক অনিন্দ্যদার কাছে নতুন করে অভিনয় শিখছি। বাংলা ছবিটি আমিও দেখেছি। তবে কাউকে অনুসরণ করছি না। ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল শিখছি। লাঠি, চাবুক ধরা— সব।’’ কুস্তিও শিখেছেন। একদিনে! অনায়াসে নাকি ‘ধোবিপাট’ দিচ্ছেন। জানিয়ে রসিকতাও করেছেন, কেউ একটু দুষ্টুমি করুক। তিনি শায়েস্তা করে দেবেন।
অযথা লম্বা হবে না...
আকাশ আট চ্যানেল পরিচালককে অনুরোধ জানিয়েছিল, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ মেগা ধারাবাহিক হলে কেমন হয়? পরিচালক তখনই বলে নিয়েছেন, সাহিত্যরস ক্ষুণ্ণ না করে যতটা তুলে ধরা যায় সেটাই হবে। অনিন্দ্য এর আগেও সাহিত্য থেকে ধারাবাহিক তৈরি করেছেন। যেমন, সুবোধ ঘোষের ‘শ্রেয়সী’। তাই ‘স্বয়ংসিদ্ধা’র দায়িত্ব পাওয়ার পরে খুব ভাবনায় পড়েননি। পাশাপাশি, বিশ্বাবসু, ওশনি প্রচণ্ড পরিশ্রম করছেন। ইতিমধ্যেই তাই ধারাবাহিকটি দর্শকমনে জায়গা করে নিয়েছে, জানিয়েছেন তিনি।
গ্রামের বাড়ির বিয়ে। মধ্যবিত্ত পরিবার। মাটির বাড়ি, তুলসী মঞ্চ। শোলার কদমফুল, আমপাতা, মঙ্গলঘট, কলাগাছ। সব মিলিয়ে ভীষণ আন্তরি পরিবেশ। যতটা সাজানো যায় মেয়েকে ততটাই চণ্ডীকে সাজিয়ে দিয়েছেন তার বাবা। বিয়ে নির্বিঘ্নে মিটেছে। এবার বরকনের বিদায় নেওয়ার পালা। মাটির দাওয়ায় ছেলের বাবা, নায়েব মশাই, গোবিন্দ, চণ্ডী। চণ্ডীর কপালে চওড়া সিঁদুর। শট দিতে দিতে হাল্কা ধেবড়ে গিয়েছে। গোবিন্দ কিন্তু গোড়ের মালা, ধুতি-পাঞ্জাবি, কপালে চন্দনের ফোঁটায় বেশ ধোপদুরস্ত। বাইরে পালকি দাঁড়িয়ে। কনকাঞ্জলির পালা মিটলেই মেয়ে শ্বশুরবাড়ি রওনা দেবে। গ্রাম ঝেঁটিয়ে সবাই এসেছেন। কেউ কেউ গোবিন্দর অপরিণতমনস্কতা নিয়েও মুখ বাঁকিয়েছেন। গোবিন্দ ছোট থেকে সৎ মায়ের কাছে অযত্নে মানুষ। তাই তার মন এখনও বাড়েনি। চণ্ডী অবশ্য সে সবে কান দিতে রাজি নয়। সে কথা সে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পড়শিদের।
এই নিয়ে পাঁচ বার...!!
বিয়ের একপ্রস্থ আচার মিটতেই ‘গোবিন্দ’ ওরফে বিশ্বাবসু বিশ্বাসের মুখোমুখি। এই নিয়ে কত বার? প্রশ্ন রাখতেই হেসে ফেলে বললেন, ‘‘এটা নিয়ে পাঁচবার বিয়ে হয়ে গেল! বিয়ে করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম। নিজের বিয়ের সময় কোনও ভুল করব না।’’ এও দাবি, প্রত্যেকবার প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিয়ের অনুষ্ঠান। আর কিছু না কিছু ঘটনা। কখনও বৌ ফুলশয্যার দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে খাটের তলায় লুকিয়ে পড়েছেন। একবার একটি ধারাবাহিকের বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে বৌ অসুস্থ হয়ে গেলেন। পিঁড়িতে বসে টেকনিশিয়ান দাদা! তিনি প্রক্সি দিলেন। বিশ্বাবসু বেজার মুখে তাঁকেই বিয়ে করেছিলেন। ফলে, কোন বিয়েটা আগে আর কোনটাকে পরে রাখবেন, মাঝে মাঝে সেটাই গুলিয়ে ফেলেন।
এত কিছুর পরেও কিন্তু নতুন বৌয়ের সিঁথি কিন্তু নিখুঁত ভাবে সিঁদুরে রাঙা...! ঝটিতি জবাব, ওই যে বললাম, ‘‘আমি অভ্যস্ত। তারই হাতেগরম ফলাফল।’’ তারপরেই সিরিয়াস গলায় জানালেন, না, প্রত্যেক পরিচালক এই ব্যাপারটা নিয়ে সজাগ থাকেন, খুঁতখুঁতেও। এই ধারাবাহিকের পরিচালক অনিন্দ্য সরকারও তাই। ফলে, সিঁদুরদানের সময় নাকি বেশি মনোযোগ ছিল তাঁর! সত্যিকারের সিঁদুর? সম্মতিসূচক ঘাড় নেড়েই মুখে দুষ্টু হাসি।এও জানালেন, বিয়ে করতে কিন্তু গোবিন্দ খুবই মজা পাচ্ছে। নতুন বৌ, এত নিয়মকানুন তো সে আগে দেখেনি। তাই সব কাজ ভীষণ উৎসাহ নিয়েই করছে। শুটের অবসরেও বিয়ে নিয়ে দেদার হাসিঠাট্টা হচ্ছে।
বাড়ি থেকে পালিয়ে...
বাড়ির চাপ বিয়ে করতে হবে। কিছুতেই বিয়ে করবেন না ছোটপর্দার ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ ওশনি দাস। সাতপাক ঘোরার ভয়েই হাওড়ায় নিজেদের বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতায়! অভিনয় দুনিয়ায়। তবু রেহাই পেলেন কই? মুখোমুখি হয়েই বললেন, ‘‘আমায় না পেয়ে মা-বাবা মেজ বোনের বিয়ে দিয়ে দিলেন। এখন সেটে হইহই করে বিয়ে করছি!’’ লাল বেনারসি, সিঁদুর, গয়নায় ঝলমল করছেন নায়িকা। বলতেই সলজ্জ হেসে জানালেন, প্রথম বিয়ে। পর্দার বর বেশ ভাল। চণ্ডী তার বৌ কাম শিক্ষিকা।
পর্দায় প্রথম বিয়ে করতে এসে অনেক কিছু শিখলেন ওশনি। ‘স্বয়ংসিদ্ধা’র ‘চণ্ডী’ হতে গিয়ে কী কী শিখতে হল? বড়পর্দায় ইতিমধ্যেই বাংলা-হিন্দিতে দর্শক দেখেছেন। ছবি আর মিঠু মুখোপাধ্যায়ের নাম এখনও একসঙ্গে উচ্চারিত হয়। ওশনির কথায়, ‘‘পরিচালক অনিন্দ্যদার কাছে নতুন করে অভিনয় শিখছি। বাংলা ছবিটি আমিও দেখেছি। তবে কাউকে অনুসরণ করছি না। ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল শিখছি। লাঠি, চাবুক ধরা— সব।’’ কুস্তিও শিখেছেন। একদিনে! অনায়াসে নাকি ‘ধোবিপাট’ দিচ্ছেন। জানিয়ে রসিকতাও করেছেন, কেউ একটু দুষ্টুমি করুক। তিনি শায়েস্তা করে দেবেন।
অযথা লম্বা হবে না...
আকাশ আট চ্যানেল পরিচালককে অনুরোধ জানিয়েছিল, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ মেগা ধারাবাহিক হলে কেমন হয়? পরিচালক তখনই বলে নিয়েছেন, সাহিত্যরস ক্ষুণ্ণ না করে যতটা তুলে ধরা যায় সেটাই হবে। অনিন্দ্য এর আগেও সাহিত্য থেকে ধারাবাহিক তৈরি করেছেন। যেমন, সুবোধ ঘোষের ‘শ্রেয়সী’। তাই ‘স্বয়ংসিদ্ধা’র দায়িত্ব পাওয়ার পরে খুব ভাবনায় পড়েননি। পাশাপাশি, বিশ্বাবসু, ওশনি প্রচণ্ড পরিশ্রম করছেন। ইতিমধ্যেই তাই ধারাবাহিকটি দর্শকমনে জায়গা করে নিয়েছে, জানিয়েছেন তিনি।
















