তাঁদের ঝুলিতে ভরা সাফল্য। এ বছরে ওটিটি দর্শকদের চোখ যে তারকাদের দিকে, তাঁদেরই খুঁজলেন পরমা দাশগুপ্ত

সিনেমাপাড়া বলছে, দর্শকদের সিংহভাগ এখন ওটিটিমুখী। সিরিয়ালের রাজপাটেও অনেকটাই ভাগ বসিয়েছে ওয়েব সিরিজ। সেখানেই এখন আলোকবৃত্ত। কাজের সুযোগ থেকে দর্শকের চাহিদা-প্রত্যাশা, ওটিটি-তে আপাতত দুয়েরই পাল্লা ভারী। আর তাই ক্রমশ সিনেমা-সিরিয়াল-নাটক, সব অভিনেতারই পছন্দের জায়গা হয়ে ওটিটি পর্দা। সিরিজে দেখা মিলছে একের পর এক চেনা মুখের। কেউ নজর কাড়ছেন। কারও ঝুলি ভরছে সাফল্যে। কেউ বা পরপর কাজ করে আদায় করে নিচ্ছেন চর্চা। কিন্তু এ সময়কার কোন তারকাদের নিয়ে চড়ছে প্রত্যাশার পারদ? বছরের গোড়ায় দাঁড়িয়ে বরং দেখে নেওয়া যাক সেই তালিকা। 

দামিনী বেণী বসু– নাটক থেকে বড় পর্দায় তাঁর অবাধ গতিবিধি। তাঁর প্রশিক্ষণে সমৃদ্ধ হন অজস্র অভিনেতা। সম্প্রতি দেবও নাম লিখিয়েছেন সেই তালিকায়। এ হেন দামিনী ওটিটি দর্শককে চমকে দিয়েছেন ‘ছোটলোক’ সিরিজে। সিরিজের আকাশছোঁয়া সাফল্য অনেকটাই ভর করে তাঁর কাঁধে।

সত্যম ভট্টাচার্য এবং দেবরাজ ভট্টাচার্য - তাঁদের জনপ্রিয়তার স্বাদ প্রথম এনে দিয়েছিল বড় পর্দা। নাটকের মঞ্চের সহযোদ্ধা, ‘বল্লভপুরের রূপকথা’র দুই বন্ধু এখন ওটিটিতেও নজর কাড়ছেন পাল্লা দিয়ে। সদ্য ‘টুংকুলুং-এ একেন’ কিংবা ‘দ্য নন্দিনী মার্ডার কেস’-এর মতো সিরিজে জুটিতেই দেখা গিয়েছে। এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায়!

সোহিনী সরকার – বড় পর্দার ডাকসাইটে অভিনেত্রী। চিনেছে ছোট পর্দাও। সিরিজের ময়দানেও সেই একই প্রত্যাশা বহাল রেখে চলেছেন সোহিনী। সে ‘সম্পূর্ণা’ই হোক, আর ‘দুর্গ রহস্য’, তিনি পর্দায় মানেই চোখধাঁধানো অভিনয়।

টোটা রায়চৌধুরী– টলিউড থেকে বলিউড। বড় পর্দা তাঁকে নতুন করে চিনছে। আর তিনি আদায় করে নিচ্ছেন সম্ভ্রম। ওটিটি-ই বা বাদ যাবে নাকি! ‘নিখোঁজ’ কিংবা ‘যাহা বলিব সত্য বলিব’- টোটাকে ঘিরে ঊর্ধ্বমুখী জনপ্রিয়তা।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়– হিন্দি থেকে বাংলা, ওয়েব সিরিজে স্বস্তিকা মানেই এখন সাফল্যের ঝলকানি। সদ্য ‘নিখোঁজ’-এ তাঁর দুরন্ত অভিনয়ে মজে দর্শক এখন পরবর্তী সিজনের অধীর অপেক্ষায়। 

কৌশিক সেন– নাটক, সিরিয়াল, সিনেমা, যেখানেই গিয়েছেন, তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছে দর্শক। ওটিটিও ব্যতিক্রম হল না একেবারেই। ‘সম্পূর্ণা ২’, ‘মিস্টার কলকেতা’য় তাঁর অভিনয় চোখ ফেরাতে দেয়নি যথারীতি। 

মিমি চক্রবর্তী– তিনি এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। ‘যাহা বলিব সত্য বলিব’-তে প্রথম বার ওটিটি পর্দায় পা রেখেই দর্শকমন জয় করে ফেলেছেন মিমি। তাঁকে আরও বেশি করে সিরিজে পেতে অপেক্ষায় অনুরাগীকুল।    

গৌরব চক্রবর্তী– গত বছরের তিন-তিনটে জনপ্রিয় সিরিজ তাঁর ঝুলিতে। ‘আবার প্রলয়’, ‘ছোটলোক’ এবং ‘পর্ণশবরীর শাপ’। যার প্রতিটিতেই আলাদা করে নজর কেড়েছেন গৌরব। শোনা যাচ্ছে, এ বছরেও তাঁর ওটিটি-সফর জারি থাকবে সগৌরবে। 

প্রিয়াঙ্কা সরকার– বড় পর্দা তাঁর অভিনয়ের জৌলুস চিনেছে ঢের আগে। এবার চিনছে ওটিটি-ও। ‘ছোটলোক’-এ দামিনীর পাশাপাশি দাপুটে অভিনয়ে চোখ টেনেছেন তিনিও। তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশা যে বাড়বেই! 

লোকনাথ দে– ওটিটি জগতের রণে-বনে-জলে-জঙ্গলে সর্বত্রই এখন লোকনাথ-ময়। যে সিরিজই দেখুন, কোনও না কোনও চরিত্রে তাঁর দেখা মিলবেই। এবং সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিই হোক বা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, নাটকের ‘লোকাদা’ আলাদা করে চোখ টেনেই ছাড়েন!

ইশা সাহা– বড় পর্দায় পরপর ছবিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। চোখ টেনেছেন সহজ-সরল, প্রাণবন্ত অভিনয়ে। ওয়েব সিরিজের দুনিয়া তাঁকে চিনেছিল ‘ইন্দু’ হিসেবে। সদ্য ‘অন্তরমহল’ যেন আরও ভাল করে চেনাল ইশার অভিনয় ক্ষমতাকে। এ বছরেও সিরিজ রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

দেবজ্যোতি রায়চৌধুরী– তাঁকে চিনিয়েছিল ছোট পর্দা। ধারাবাহিকের সাফল্য ঝুলিতে নিয়েই ওটিটিতে আসা। ‘ফেলু মিত্তির লেন’-এর সহজ সরল ছেলে ‘বোধন ২’-তে রগরগে মানসিকতার ভিলেন চরিত্রে। স্রেফ চাউনি আর হাসিতেই গা ঘিনঘিনে অনুভূতি জাগিয়ে দেওয়া দেবজ্যোতি প্রত্যাশা বাড়িয়েছেন এক লাফে।

ওটিটিতে তারকার ভিড় যত বাড়ছে, তাঁদের ঘিরে চাহিদাও বাড়ছে সমানতালে। বছর সবে শুরু। বারো মাসে একের পর এক সিরিজে দেখা যাবে কাদের? কারাই বা নিয়ে যাবেন জনপ্রিয়তার সিংহভাগ? উত্তর সময়ের হাতে।