২২ বছর পর ইস্টবেঙ্গলকে ভরাতসেরা করার আসল কারিগর তিনি। লাল-হলুদকে শুধু সাফল্যই তিনি এনে দেননি, বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন দলের মানসিকতা, খেলার ধরন এবং পেশাদার কাঠামো। কিন্তু সাফল্যের শিখরে পৌঁছে থেমে গেল সেই পথচলা। ইস্টবেঙ্গলকে সাফল্য এনে দেওয়ার নেপথ্যের গল্প, ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত, নিজের আগামীর চ্যালেঞ্জ—সবকিছু নিয়েই মুখ খুললেন অস্কার ব্রুজোঁ। শুনলেন কৃশানু মজুমদার। 

 

ইস্টবেঙ্গলে আপনার দুই মরশুমকে কীভাবে সংক্ষেপে তুলে ধরবেন?

অস্কার-এই দুই মরশুম ছিল ধারাবাহিক উন্নতি এবং আমূল পরিবর্তনের গল্প। আমরা এমন একটি দলকে দায়িত্বে পেয়েছিলাম, যাদের খেলায় ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। সেখান থেকে আমরা এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলাম, যারা ২২ বছর পর আবার ভারতসেরা হয়েছে। আইএসএল জিতেছে, দুটি টুর্নামেন্টের  ফাইনালে উঠেছে এবং মহাদেশীয় ফুটবলেও আত্মবিশ্বাস ও নিজস্ব ব্যক্তিত্বের সঙ্গে লড়াই করেছে। যাত্রাটা ছিল কঠিন, কিন্তু এটি বিনিয়োগকারী সংস্থা, খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফ—সবার সম্মিলিত পরিশ্রমেরই প্রতিফলন।

২২ বছর পর ভারতসেরা হয়ে ট্রফি-খরা কাটানোর অনুভূতি আপনার কাছে কেমন ছিল?

অস্কার-এটি ছিল পুরো দলের একটি অসাধারণ সম্মিলিত অর্জন। তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সাফল্যটি সেই সমর্থকদের, যারা এই মুহূর্তটির জন্য দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করেছেন। তাদের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগ করে নিতে পেরেছি। এমন একটি গর্বের বিষয়, এমন একটি গর্বের মুহূর্ত  যা আমি সারাজীবন মনে রাখব।

East Bengal coach Oscar Bruzon opens up before facing South United in  Durand Cup

কোন স্মৃতিটা আপনার মনে বেশি গেঁথে আছে? আইএসএল জেতার আনন্দ, নাকি দুটি ফাইনালে টাইব্রেকারে (পেনাল্টিতে) হেরে যাওয়ার কষ্ট? 

অস্কার- অবশ্যই আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আইএসএল খেতাব জেতাটাই বেশি মনে থাকবে। কারণ আইএসএল জয় পুরো মরশুম জুড়ে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি। ফাইনালগুলোতে হার অবশ্যই কষ্ট দেয়, কারণ আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু একই মরশুমে প্রতিটি বড় প্রতিযোগিতার শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারা আমাদের দলের প্রতিযোগিতামূলক মান এবং সামর্থ্যেরই প্রমাণ। 


আপনি আধুনিকীকরণের কথা বলেছেন। আপনার মতে, ইস্ট বেঙ্গলের কী প্রয়োজন?

অস্কার-ইস্টবেঙ্গলের কাছে এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ক্লাব হয়ে ওঠার জন্য যা যা দরকার, সবই রয়েছে—সমৃদ্ধ ইতিহাস, অসাধারণ সমর্থকগোষ্ঠী এবং বড় কিছু করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এখন পরবর্তী ধাপ হলো ক্লাবের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা, সুস্পষ্ট ক্রীড়া পরিচালনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, দীর্ঘমেয়াদি খেলোয়াড় নিয়োগ পরিকল্পনা করা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ (ডেটা) ও স্পোর্টস সায়েন্সের আরও বেশি ব্যবহার, সমন্বিত পারফরম্যান্স বিভাগ গড়ে তোলা এবং স্থিতিশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত করা। টেকসই সাফল্য ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। 

Óscar Bruzón Leaves Behind a Transformed East Bengal Side - Sports News  Portal | Revsportz

আপনি স্থিতিশীলতার  বিষয়েও কথা বলেছেন...

অস্কার-ধারাবাহিকতাই সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের একটি মূল দলকে দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারলে একটি ক্লাব নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে পারে এবং বছর বছর উন্নতি করতে পারে। ফুটবলে অবশ্যই খেলোয়াড় বদল (ট্রান্সফার) হবে, কিন্তু স্থিতিশীলতাকেই সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলে গত মরশুম বাদ দিলে বহু বছর ধরেই বিষয়টি সেইভাবে করা হয়নি।


আপনার কি মনে হয়েছে যে সবসময়ে স্থিতিশীলতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি?

অস্কার-আমার মনে হয়েছে, ধারাবাহিকতাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারত। ঘন ঘন পরিবর্তন হলে একটি নির্দিষ্ট খেলার ধরণ  গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। আপনি যদি বিচ্ছিন্ন কিছু সাফল্যের বদলে টেকসই সাফল্য চান, তাহলে স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 


ক্লাবের ভিতরের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব বেশি নিয়ন্ত্রিত—এমন একটি ধারণা কিন্তু ছড়িয়ে রয়েছে। আপনারও কি এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে?

অস্কার- আমার বিশ্বাস, আধুনিক ফুটবলে ক্লাব, কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের মধ্যে স্বচ্ছ ও সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খোলামেলা সংলাপ পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলে এবং অপ্রয়োজনীয় জল্পনা-কল্পনা কমিয়ে আনে। এই দিকটিতে প্রতিটি ক্লাবেরই আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। 

 

Oscar Bruzon to leave East Bengal at season end; cites lack of long-term  planning - The Hindu


আপনি ক্লাব ছাড়লেন কেন? কী কারণে ছাড়লেন? সেটাই তো পরিষ্কার ভাবে  জানা গেল না। 

অস্কার-আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আমার খোলা চিঠির মাধ্যমে সমর্থকদের কাছে আমার বক্তব্য যেন স্পষ্টভাবে পৌঁছে যায়। এর বাইরে, কী ঘটেছে তা প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্বাধীনভাবে ব্যাখ্যা করতেই পারে।  

ইস্টবেঙ্গলের শিরোপাজয়ী দলকে কী ভাবে আপনি ব্যাখ্যা করবেন?

অস্কার- সমষ্টিগত সংগঠনই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা শক্তিশালী রক্ষণভাগকে ভিত্তি করে দল গড়েছিলাম, পাশাপাশি কৌশলগত নমনীয়তা এবং বল থাকুক বা না থাকুক—দুই পরিস্থিতিতেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা তৈরি করেছিলাম। খেলোয়াড়রা আমাদের ফুটবল-দর্শন ও নীতিগুলো খুব ভালোভাবে বুঝেছিল, আর সেই ধারাবাহিকতাই আমাদের চ্যাম্পিয়ন করতে সাহায্য করেছে।


কবে থেকে আপনার মনে হতে শুরু করেছিল যে এবার খেতাব জেতা সম্ভব?

অস্কার- মুম্বই সিটির বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে পাওয়া জয়টি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। শুধু পয়েন্ট পাওয়ার জন্য নয়, বরং এই কারণে যে খেলোয়াড়রা বুঝতে পেরেছিল তারা লিগের যে কোনও দলের সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। সেই মুহূর্ত থেকেই বিশ্বাস দৃঢ় প্রত্যয়ে পরিণত হয়েছিল। 

 

Red-and-Gold reborn: How East Bengal became ISL champion under coach Oscar  Bruzon - Sportstar


আইএসএল জেতার পর পেনাল্টি শুটআউটে দুটি ফাইনালে হারকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

অস্কার- পেনাল্টি শুটআউট খুবই সূক্ষ্ম ব্যবধানে নির্ধারিত হয়। এগুলো আমার পুরো মরসুমের মূল্যায়নকে বদলে দেয় না। প্রতিটি ট্রফির জন্য লড়াই করা দলের ধারাবাহিকতা ও মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে।

কৌশলগত কোন কোন সাফল্যের জন্য আপনি সবচেয়ে বেশি গর্বিত?

অস্কার- বেশ কয়েকটি বিষয় রয়েছে। আমাদের ফুটবল দর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই খেলোয়াড়দের দলে আনা, দলের ক্রমাগত নিজেদের বিল্ড-আপ কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, আমাদের ম্যাচ বিশ্লেষণের মান, এবং কোচিং স্টাফদের নেওয়া ম্যাচ চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো। এই ধারণাগুলোর প্রতি খেলোয়াড়দের প্রতিশ্রুতি ছিল অসাধারণ।

ক্লাব আপনাকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। আপনি কেন তা প্রত্যাখ্যান করলেন?

অস্কার-ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমার উপর যে আস্থা দেখিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এই সিদ্ধান্তের পিছনে আর্থিক কোনও বিষয় ছিল না। মূল বিষয় ছিল, ক্লাবকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত—এই ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। একটি চুক্তি নবীকরণ তখনই কার্যকর হয়, যখন উভয় পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও পরিকল্পনা একই থাকে। আর আমি মনে করেছি, সম্পূর্ণ ঐকমত্য ছাড়া এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে সরে দাঁড়ানোই বেশি সৎ সিদ্ধান্ত।

সেই পার্থক্যগুলো কী ছিল?

অস্কার- এগুলো ব্যক্তিগত কোনও বিষয় ছিল না। এগুলো ছিল কাঠামোগত পার্থক্য। আমি বিশ্বাস করি, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করে স্থিতিশীলতা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ফুটবল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো মূলত খেলাধুলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নেওয়ার ওপর। এসব বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গির কিছুটা পার্থক্য ছিল।

Has Oscar Bruzon decided to bring his tenure at East Bengal to a close at  the end of the season


কিছু মানুষ বলেন, ক্লাবের আশেপাশের কিছু ব্যক্তি ক্লাবের ক্রীড়াগত স্বার্থের চেয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেন। এই বিষয়টি কি আপনার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল?

অস্কার- যে কোনও ফুটবল ক্লাবে, প্রতিটি সিদ্ধান্তের শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত।  এটা কি ইস্টবেঙ্গলের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত? যখন খেলাধুলার অগ্রাধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে পুরোপুরি সমন্বয় থাকে না, তখন ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বিনিয়োগকারী সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী আমার দায়িত্ব ছিল সবসময় দলের স্বার্থ রক্ষা করা, এবং আমি আমার সমস্ত মনোযোগ সেখানেই দিয়েছি।

এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে ক্লাবের অন্যতম বড় সমস্যা হলো—ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত সমালোচনা আসা, যদিও প্রযুক্তিগত বা ফুটবল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাদের প্রকৃত কোনও প্রভাব ছিল না। তারা মূলত নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ পূরণের জন্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চান, ক্লাবের চূড়ান্ত লক্ষ্য পূরণের জন্য নয়।


আপনি কি বলতে চাইছেন যে কিছু ফুটবল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে খেলাধুলার দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা কঠিন ছিল?

অস্কার-কিছু ক্ষেত্রে খেলাধুলার দৃষ্টিকোণ থেকে আমি ভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত পছন্দ করতাম। প্রতিটি ক্লাবকেই ফুটবল সংক্রান্ত বিষয় এবং আর্থিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। তবে আমার বিশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি মূল্য তৈরি করে বলেই খেলাধুলায় সাফল্য সবসময়ই প্রধান চালিকাশক্তি হওয়া উচিত। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ক্ষেত্রে, মধ্যস্থতাকারী ক্লাবের খেলাধুলার দিকটিকে আরও উন্নত ও কার্যকর করার জন্য কোনওভাবেই তেমন সহায়তা করেন না। 


ইস্টবেঙ্গল আপনাকে কী ভাবে মনে রাখবে বলে মনে করেন? 

অস্কার-আমি আশা করি মানুষ শুধু ট্রফির জন্য নয়, তার চেয়েও বেশি কিছুর জন্য আমাকে মনে রাখবে। আমি চাই তারা এমন একটি দলকে মনে রাখুক, যার ছিল স্পষ্ট পরিচয়, পেশাদারিত্ব, বিনয় এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী। ইস্টবেঙ্গল যে কোনও ব্যক্তির চেয়ে অনেক বড়, এবং আমি আন্তরিকভাবে আশা করি ক্লাবটি স্থিতিশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং একটি আধুনিক ফুটবল কাঠামোর মাধ্যমে আরও উন্নতি করতে থাকবে। এর ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হতে পারে। 

 

Indian Super League winning East Bengal FC Head Coach Oscar Bruzon. Enough  said. #ISL12 #ISLChampion #JoyEastBengal

ইস্টবেঙ্গলে আপনি খুব ভালো কাজ করছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ক্লাবকে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। কিন্তু আপনি কলকাতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন? কেন ইন্দোনেশিয়ার একটি ক্লাবকে বেছে নিলেন? 

অস্কার-ইস্টবেঙ্গল সবসময়ই আমার হৃদয়ে একটি বিশেষ জায়গা দখল করে থাকবে। ২২ বছর পর আমরা একসঙ্গে যা অর্জন করেছি, তা আমি সারাজীবন সঙ্গে করে নিয়ে চলব। চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা অন্য কিছু পাওয়ার ইচ্ছা থেকে ছিল না। এই পেশায় প্রতিটি অধ্যায়েরই একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে, আর আমার মনে হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য এটাই ছিল সঠিক মুহূর্ত।

একজন কোচের জীবন সত্যিই একজন ভ্রমণকারীর মতো। আপনি একটি ক্লাব এবং সেখানকার মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন, তারপর নতুন কোথাও গিয়ে আবার শুরু করতে হয়। প্রতিবার শূন্য থেকে বিশ্বাস তৈরি করা কখনওই সহজ নয়। তবে আমি চেষ্টা করি সব জায়গায় একই মূল্যবোধ সঙ্গে নিয়ে যেতে—পরিশ্রম, বিনয়, আমার ক্লাবের প্রতি আনুগত্য এবং সম্মান। আর এই মূল্যবোধগুলোই প্রতিটি নতুন জায়গাকে শুধু নতুন শুরু নয়, বরং একজন কোচের যাত্রার ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করায়।

 

East Bengal coach Oscar Bruzon dedicates ISL victory to Subhas Bhowmick

আবার কি কখনও ইস্টবেঙ্গলে ফিরে আসবেন? 
অস্কার- ইস্টবেঙ্গল শুধু এমন একটি ক্লাব নয়, যেখানে আমি কাজ করেছি; এটি আমার পরিবারের মতো। আমি যেখানেই থাকি না কেন, আমার হৃদয়ের একটি  অংশ সবসময়ই এই ক্লাবের সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করবে।

ফুটবল নিজের মতো করে গল্প লেখে, আর যে জায়গাটি আমার কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার দরজা আমি কখনোই পুরোপুরি বন্ধ করতে পছন্দ করি না। এই মুহূর্তে আমার সম্পূর্ণ মনোযোগ আমার বর্তমান প্রকল্পের উপর রয়েছে। তবে ইস্টবেঙ্গল সবসময়ই আমার পরিচয়ের একটি অংশ হয়ে থাকবে।