আজকাল ওয়েবডেস্ক: কিছু কিছু ম্যাচ আছে যা কেবল ম্যাচ নয়। তা ম্যাচের থেকেও আরও বেশি কিছু। ওই একটি ম্যাচ দিয়ে আইসিসি-র কোষাগার ভর্তি হয়। ভারত-পাক ম্যাচ সেরকমই একটি খেলা। যা নিছক কোনও খেলা নয়। খেলার থেকেও বেশি আরও কিছু। সেই ম্যাচ নিয়েই এখন যত আশঙ্কা। পাকিস্তান জানিয়ে দিয়েছে তারা বিশ্বকাপে খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে নামবে না কলম্বোয়। আর পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট করায় বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আইসিসি। 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইসিসির তরফে জানানো হয়েছে, ''পিসিবি নিশ্চয় বিষয়টা নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে। এই সিদ্ধান্ত পাক  ক্রিকেটের পাশাপাশি বিশ্বক্রিকেট ব্যবস্থার উপর দীর্ঘমেয়াদি এক প্রভাব ফেলতে পারে।'' 
 সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসর, টিকিট বিক্রি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয় যোগ করলে ভারত-পাক ম্যাচ থেকে আনুমানিক ৪৫০০ কোটি টাকার কাছাকাছি আয়। সেই অঙ্কই মিলবে না যদি পাকিস্তান সরে দাঁড়ায় হাইভোল্টেজ ম্যাচ থেকে।  


এই আর্থিক ক্ষতির চাপ শেষ পর্যন্ত এসে পড়বে আইসিসির উপরে। সদস্য দেশগুলোর উপরেও এসে পড়বে চাপ। 

ভারত ও পাকিস্তান দুই ক্রিকেট বোর্ডই এই ম্যাচ না হলে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। সব অর্থেই এই ম্যাচ না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে ক্রিকেটের ইকোসিস্টেম। 

এদিকে পাকিস্তান যদি না খেলে, তাহলে ভারত কী করবে? ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বল গড়াচ্ছে আইসিসি বিশ্বকাপের। মেগা টুর্নামেন্টের বল গড়ানোর আগে দু'টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। ৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচ নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে। 

 পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত-পাক মহারণ। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তো নামতেই চাইছে না ভারতের বিরুদ্ধে। 

এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান নিরেপক্ষে ভেন্যুতে সব ম্যাচ খেলবে। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটা না খেললে পাকিস্তান মাঠে উপস্থিত থাকবে না। 

অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচ বাদ দিলে ভারতের সব ম্যাচই কিন্তু ঘরের মাঠে। পাক ম্যাচের জন্যই ভারতকে যেতে হত দ্বীপরাষ্ট্রে। 
এখন পাকিস্তান ঘোষণা করে দিয়েছে তারা ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি নয়। এমন অবস্থায় ভারত কী করবে? 

ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের এক কর্তা বলেছেন, ভারত নির্ধারিত সূচি মেনেই সব কিছু করবে। ভারত ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কায় যাবে। আইসিসি-র সমস্ত প্রটোকল মেনে চলবে। 

টুর্নামেন্টে অনুশীলন ও সাংবাদিক বৈঠকের যা রীতিনীতি তা অনুসরণ করবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সূর্যকুমার যাদবরা অনুশীলনও করবে। সাংবাদিক বৈঠকও করবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে স্টেডিয়ামেও পৌঁছবে। এরপর ম্যাচ বাতিলের ঘোষণার জন্য ভারত অপেক্ষা করবে। 

ভারতের প্রথম ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তার আগে নিউ জিল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিধ্বস্ত করেছে ভারতীয় দল। বিশ্বকাপেও সূর্যর দলকেই ফেভারিট বলে মনে করা হচ্ছে।