আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের প্রাক্তন বাঁহাতি পেসার মহম্মদ আমিরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্য হান্ড্রেডে প্রথমে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ড্রাফটে নাম দিলেও, এখন তিনি ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে ট্রেন্ট রকেটসের হয়ে দেশীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলছেন। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে - এবার কি তাহলে আইপিএলেও দেখা যেতে পারে আমিরকে? ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক সম্পর্কের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলার সুযোগ নেই। তবে কোটিপতি লিগের নিয়ম অনুযায়ী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর আমির এখন টুর্নামেন্টে নাম নথিভুক্ত করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
সম্প্রতি দ্য হান্ড্রেড চলাকালীন নিজের ভবিষ্যৎ এবং আইপিএলে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন আমির। জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, এই মুহূর্তে তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য পাকিস্তান সুপার লিগ। পাশাপাশি আইপিএলে অংশ নেবেন কি না, সেই বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। আমির বলেন, 'আমি ২০২৭ সালে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে পিএসএলে খেলব। আইপিএলের ব্যাপারে এখনও কিছু ঠিক করিনি। অংশ নেব কি না, সেটা ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেব।' উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেও পাকিস্তানের প্রাক্তন অলরাউন্ডার আজহার মাহমুদ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আইপিএলে খেলেছিলেন। তিনি পাঞ্জাব কিংসের হয়ে খেলেন। পরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সিতেও পাক তারকাকে দেখা যায়।
২০২৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন আমির। পাকিস্তানের হয়ে তিনি ৩৬টি টেস্ট, ৬১টি একদিনের আন্তর্জাতিক এবং ৬২টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন। নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা বাঁহাতি পেসার হিসেবে পরিচিত আমির এখনও বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন ক্রিকেটার। ট্রেন্ট রকেটসের হয়ে আমিরের চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে কিছু বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। একাধিক সমালোচকের দাবি ছিল, বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ড্রাফটে নাম নথিভুক্ত করার পর তাঁকে দেশীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। যার ফলে অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে দলে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। শুধুমাত্র ইনজুরি রিপ্লেসমেন্ট খোঁজা দলগুলিই তাঁকে নেওয়ার সুযোগ পায়। তবে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড শেষপর্যন্ত জানিয়ে দেয়, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর আমির ডোমেস্টিক ক্রিকেটারের সব যোগ্যতা পূরণ করেছেন। তাই দ্য হান্ড্রেডে দেশীয় ক্রিকেটার হিসেবেই তাঁর অংশগ্রহণ বৈধ।
















