আজকাল ওয়েবডেস্ক: কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জিতেছেন। হাতছাড়া হয়েছে সোনা। আফশোস থাকলেও, নেই আক্ষেপ। কারণ মাঝের সময়টা ছিল অত্যন্ত কঠিন। ভারতের তারকা জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়া জানিয়েছেন, গত ১০ মাস তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম কঠিন সময় ছিল। একাধিক চোটের সঙ্গে লড়াই করে মাঠে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জয়ের পর নিজের দীর্ঘ পুনর্বাসন পর্বের অভিজ্ঞতা সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নেন দু'বারের অলিম্পিক পদকজয়ী। মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে কমনওয়েলথ গেমসের পারফরম্যান্সের একটি ভিডিও পোস্ট করে নীরজ লেখেন, 'কিছু থ্রো শুধু অনেক দূর যায় না, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘ এক যাত্রার গল্পও। গত ১০ মাস আমাকে এমনভাবে পরীক্ষা নিয়েছে, যা আমি কখনও কল্পনাও করিনি।'

২৮ বছরের নীরজ জানান, পেশির চোটের পাশাপাশি আরও কয়েকটি শারীরিক সমস্যায় ভুগতে হয়েছে তাঁকে। সেই কারণে মরশুমের শুরুটা করতে দেরী হয়। প্রতিদিন অনুশীলন করলেও শেষপর্যন্ত এই বছর প্রতিযোগিতায় নামতে পারবেন কিনা, সেটা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। এই প্রসঙ্গে নীরজ লেখেন, 'একাধিক চোট থেকে সেরে ওঠা, শরীরকে নতুন করে গড়ে তোলা, নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়া এবং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা, সবই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন অনুশীলন করেছি, কিন্তু জানতাম না এই বছর আদৌ কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারব কিনা।'

২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ৮৬.৪৭ মিটার থ্রো করে সোনা জিতেছিলেন নীরজ। তবে চোটের কারণে ২০২২ সালে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের ঠিক আগে পিঠের নিচের অংশে চোট পান। সেই চোটের কারণে কমনওয়েলথ গেমসের আগে মাত্র একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। গ্লাসগোতে কঠিন হাওয়ার মধ্যেও নীরজ মরশুমের সেরা ৮৫.৮৩ মিটার থ্রো করে রুপো জেতেন। তবে ৮৯.৭৫ মিটার বর্শা ছুঁড়ে সোনা জেতেন শ্রীলঙ্কার বর্তমান বিশ্বসেরা রুমেশ থারাঙ্গা পাথিরাগে। দীর্ঘ পুনর্বাসন পর্বে পাশে থাকার জন্য নিজের সাপোর্ট স্টাফদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন নীরজ। তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান ফিজিও ইশান মারওয়াহ, কোচ জয় চৌধুরী এবং পরিবারকে।