মোহনবাগান - ৮ (মনবীর-হ্যাটট্রিক, অ্যালবার্তো, রাহুল, সুহেল-২, নোয়েল - আত্মঘাতী)
সাউথ ইউনাইটেড - ০
সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: ডুরান্ড কাপে গোল উৎসব চলছেই। মোহনবাগানের আট গোল। মনবীরের হ্যাটট্রিক। সুহেলের জোড়া গোল। ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সবুজ মেরুন। ডার্বি জয়ের পর সাউথ ইউনাইটেডকে উড়িয়ে দিল প্যানোসের দল। মঙ্গলবার যুবভারতীতে বেঙ্গালুরুর সুপার ডিভিশনের দলকে নিয়ে ছেলেখেলা বাগানের। সাউথ ইউনাইটেডকে ৮-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপে একনম্বরে মোহনবাগান। দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট। ছাপিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলকে। শেষ আট পাকা। কয়েকদিন আগে সিআইএসএফ প্রটেক্টরসকে আট গোলে উড়িয়ে দেয় লাল হলুদ। এদিন ছিল সবুজ মেরুনের পালা। তিনটে শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। একাধিক সিটার মিস করেন সাহাল আব্দুল সামাদ। হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া করেন। নয়ত এদিন অনায়াসেই দুই অক্ষরের গোলে পৌঁছে যেত মোহনবাগান। অন্তত এক ডজন গোল বাধা ধরাই ছিল।
মোহনবাগানের কৃতিত্ব কোনও অংশে খাটো না করলেও, এইসব দলের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২০১৯ সাল থেকে ডুরান্ড কাপ কলকাতায় হচ্ছে। কিন্তু দিল্লি থেকে ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট সরে আসার পর দলগুলোর মান কমেছে। দিল্লিতে চলাকালীনও ছোট দলগুলো অংশ নিত। কিন্তু মান এর থেকে উন্নত ছিল। বর্তমানে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল এবং আইএসএলের একটি-দুটি দল ছাড়া বাকি দলগুলোকে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এদিন হ্যাটট্রিক করেন মনবীর সিং। জোড়া গোল সুহেল ভাটের। বাকি দুই গোল অ্যালবার্তো রডরিগেজ এবং রাহুল বেকের। অন্য গোলটি নোয়েলের আত্মঘাতী।
ডুরান্ডে গোলের উৎসব অব্যাহত। ম্যাচের আগের দিন প্যানোস জানিয়ে দিয়েছিলেন, আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবেন। কথা রাখলেন গ্রিসের কোচ। প্রথমার্ধে চার গোল। বিরতির পর আরও চার। এদিন ডার্বির দলে তিনটে পরিবর্তন করেন বাগান কোচ। প্রথম একাদশে ফেরেন ড্রাজিচ এবং অ্যালবার্তো। দলে ফেরেন দীপক টাংরি। এদিন আঠারো জনের দলে ছিলেন না জেমি ম্যাকলারেন। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেন। প্রতিপক্ষকে দেখে নিশ্চয়ই আফশোস করবেন। ম্যাচের ৪ মিনিটে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। জটলার মধ্যে অনিরুদ্ধ থাপার পাস থেকে গোল করেন মনবীর সিং। দ্বিতীয় গোলের জন্য ছয় মিনিটের অপেক্ষা। ম্যাচের ১০ মিনিটে ২-০। এবারও অ্যাসিস্ট থাপার। তাঁর কর্নার থেকে হেডে গোল অ্যালবার্তোর। ম্যাচের ১৯ মিনিটে ৩-০। ড্রাজিচের ক্রস থেকে হেড করেন রাহুল বেকে। পুরোপুরি একপেশে ম্যাচ। বল একটি অর্ধেই ঘোরাফেরা করে। চতুর্থ গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ২২ মিনিটে ৪-০। সাহালের পাস থেকে ডান পায়ের শটে গোল মনবীরের।
এদিন হ্যাটট্রিক করতে পারতেন সাহাল। কিন্তু পাঁচটি সুযোগ একাই হাতছাড়া করেন। প্রথমার্ধে চারটে মিস। বাঁ পায়ের জোরাল শট বাইরে যায়। ম্যাচের ৩২ মিনিটে আবার মিস। সাহালের শট পোস্টে লাগে। তার ৩ মিনিটের মধ্যে আবার সুযোগ হাতছাড়া। এবার সাহালের শট ক্রসপিসে লাগে। প্রথমার্ধে জোড়া সুযোগ সাউথ ইউনাইটেডের। ম্যাচের ২৯ মিনিটে হাওকিপের শট পোস্টে লাগে। ৩৭ মিনিটে আরও একটি সুযোগ বেঙ্গালুরুর দলের। দানিয়ালের শট বাঁচান বিশাল কাইত।
প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করতে পারতেন মনবীর। কিন্তু ড্রাজিচের ক্রস থেকে বাইরে মারেন। তার কিছুক্ষণ পরে অ্যালবার্তোর শট পোস্টে লাগে। তবে হ্যাটট্রিকের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৬০ মিনিটে থাপার কর্নার থেকে নীচু হেডে গোল। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে ষষ্ঠ গোল। এবার বিপক্ষের ভুলে। নোয়েল এসের আত্মঘাতী গোল। শেষদিকে নেমেই স্কোরশিটে নাম তোলেন সুহেল। ম্যাচের ৯০ মিনিট এবং সংযুক্তি সময় জোড়া গোল সুপার সাবের।
















