আজকাল ওয়েবডেস্ক: কমনওয়েলথে সাফল্যের পর ভারতের তরুণ জুডোকা অস্মিতা দে এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। কিন্তু তাঁর পথ মোটেও সহজ নয়। কমনওয়েলথ গেমসের আগে লোন নিয়ে জার্মানিতে ট্রেনিংয়ে যান। লাভবান হয়েছেন। জুডোয় প্রথম ভারতীয় হিসেবে সোনা জেতেন। এবার লক্ষ্য এশিয়ান গেমস। যা সেপ্টেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আরও একটি বড় টুর্নামেন্টের আগে বিদেশে প্রস্তুতি নিতে যাওয়ার আর্থিক সামর্থ্য নেই তাঁর। এটাই এশিয়ান গেমসের আগে তাঁর সামনে বড় বাধা। 

একটি সাক্ষাৎকারে অস্মিতা বলেন, 'কমনওয়েলথে সোনা জেতার পর, এবার আমার ফোকাস এশিয়ান গেমসে। বিশেষ ট্রেনিংয়ের জন্য আমি বিদেশে যেতে চাই। ১৭ থেকে ২২ আগস্ট স্পেনের ভ্যালেন্সিয়াতে ট্রেনিং করতে চাই। সেখানে অনেক আন্তর্জাতিক কোচ এবং প্লেয়াররা থাকবে। তারপর এশিয়ান গেমসের আগে আমি জাপানে ট্রেনিং করতে চাই। কিন্তু আমার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই। কমনওয়েলথ গেমসের আগে মে থেকে জুনে জার্মানিতে একটা বিশেষ ট্রেনিং ক্যাম্পে যোগ দিতে লোন নিয়েছিলাম। আমি সংসারের দায়িত্বও বহন করি।' 

ত্রিপুরার এই প্রতিভাবান খেলোয়াড় কমনওয়েলথ গেমসের সাত মাস আগে বাবাকে হারান। ব্রেন স্ট্রোকে প্রয়াত হন অস্মিতার বাবা। সাইকেল মেকানিক ছিলেন। দিনে ৩০০ টাকা উপার্জন ছিল। ত্রিপুরার প্রত্যন্ত গ্রামে একটি মাটির বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস ছিল তাঁর। সোনা জয়ের পর অস্মিতা জানিয়েছিলেন, এই পদক সবার আগে তিনি বাবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান। বাবার অনুপস্থিতি তাঁকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তুললেও, খেলাধুলার প্রতি অদম্য ভালবাসা তাঁকে লড়াই চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। পরিবারের সীমিত আয় এবং আর্থিক সংকটের কারণে এশিয়ান গেমসের আগে বিদেশে প্রশিক্ষণ নেওয়া নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেতে বিদেশে উন্নত সুবিধা সহ প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। তাই তিনি বর্তমানে স্পনসরশিপ এবং সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করছেন। যাতে বিদেশে গিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারেন। অস্মিতাদের গল্প শুধু একজন খেলোয়াড়ের সংগ্রাম নয়, বরং ভারতের ক্রীড়া কাঠামোর বাস্তব চিত্র। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় অনেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেন না। বাবাকে হারানোর শোক, আর্থিক সংকট এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য অর্থের অভাব, সবকিছুর মাঝেও অস্মিতা দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।