আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইএসএল আর খেলবে না জামশেদপুর এফসি। নাম তুলে নিয়েছে তারা। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য টাটা গোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তাঁর মতে, ভারতের শীর্ষ স্তরের ফুটবলে টাটার মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি দেশের ফুটবলের স্বার্থেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি টাটা গোষ্ঠী জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা আইএসএল থেকে জামশেদপুর এফসি-কে সরিয়ে নিয়ে তৃণমূল স্তরের ফুটবল উন্নয়নে আরও বেশি গুরুত্ব দেবে। টাটা স্টিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডি বি সুন্দরা রামমও স্পষ্ট করেছেন, আইএসএলের বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই এবং এটি পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনাও নেই।

তবে এআইএফএফ সভাপতি এখনও আশাবাদী। সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কল্যাণ চৌবে বলেন, ''টাটা যদি সিনিয়র স্তরের ফুটবলে থেকে যায়, এআইএফএফ অত্যন্ত খুশি হবে। আমাদের অনুরোধে যদি তাদের সিদ্ধান্ত বদলায়, তাহলে খেলোয়াড় ও ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে আমরা টাটাকে শীর্ষ লিগে থেকে যাওয়ার আবেদন জানাতে চাই।” 

তিনি আরও বলেন, “এআইএফএফ সব ধরনের পরামর্শকে স্বাগত জানায় এবং সেরা সমাধান বের করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।” 

টাটা স্টিল ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, জামশেদপুর এফসির বর্তমান ফুটবলারদের সঙ্গে করা সমস্ত চুক্তি সম্মান করা হবে এবং দল ছেড়ে যাওয়ার পর তাদের নতুন ক্লাব খুঁজে পেতেও সহায়তা করা হবে। 

তবে কল্যাণ চৌবের মতে, এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর কথায়, “এটি বোর্ডরুমের একটি সিদ্ধান্ত। এর পিছনে নিশ্চয়ই কারণ রয়েছে। কিন্তু মাত্র ১.১ কোটি টাকার অংশগ্রহণ বা ব্যবস্থাপনা ফি-এর জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আমি মনে করি না। টাটার মতো বড় সংস্থার ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধুমাত্র আর্থিক নয়।”

টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির প্রাক্তন ছাত্র কল্যাণ চৌবে ভারতীয় ফুটবলে টাটা গোষ্ঠীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “অনেক কর্পোরেট সংস্থা এসেছে, আবার হারিয়েও গিয়েছে। কিন্তু টাটা আলাদা। তারা ভারতীয়দের শ্রদ্ধা অর্জন করেছে। টাটা কখনও খেলাধুলাকে শুধুমাত্র ব্যবসা, লাভ বা ক্ষতির দৃষ্টিতে দেখেনি। ফুটবলে যুব উন্নয়নের বড় অংশটাই টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির হাত ধরে এসেছে।” 

জামশেদপুর এফসি আইএসএল ছেড়ে গেলে ভারতের শীর্ষ স্তরের ক্লাব ফুটবলে টাটা গোষ্ঠীর সরাসরি উপস্থিতিতে ইতি ঘটবে। তবে এআইএফএফের আশা, ভারতীয় ফুটবলে টাটার দীর্ঘদিনের অবদান ও ঐতিহ্যের কথা বিবেচনা করে সংস্থাটি শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।