রিয়া পাত্র

বিধানসভার সই-জাল কাণ্ডে গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক নেতার বাড়িতে হানা দিয়েছে সিআই ডি। তদন্তকারী আধিকারিকেরা কখনও গিয়েছেন বেলেঘাটা, কখনও কালীঘাট। অভিষেকের বাড়ি থেকে মমতার বাড়ি সংলগ্ন অফিস, বাদ পড়েনি কোনও জায়গা। তল্লাশি চলছিল রেজলিউশন বুক-এর। শনিবার সেই তদন্তেই আধিকারিকেরা পৌঁছন, তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে। মমতা ব্যানার্জি এবার বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর নামের পাশেই সিলমোহর দিয়েছিলেন।

জানা যায়, সেখানে গিয়েই একটি খাতা মিলেছে। সেটি কি আসল রেজলিউশন বুক? এবার কি তবে সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে? জল্পনা তা নিয়েই। এই অবিস্থায় আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তাঁর মতে, তিনি নিজেই ডেকে পাঠিয়েছিলেন সিআইডিকে। রেজলিউশন বুক প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি সাফ জানান, 'ওই খাতা আইনজীবীর কাছে ছিল। সেখান থেকেই ফেরত  পাওয়ার পর, তিনি তুলে দিয়েছেন সিআইডি আধিকারিকদের হাতে।' যদিও তাতে ঠিক কী লেখা আছে, তা খোলসা করেননি বিধায়ক। 

উল্লেখ্য, সই জাল কাণ্ডে এর আগে অভিষেক ব্যানার্জি-সহ একাধিক তৃণমূল বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। এই ঘটনায় একাধিকবার ভবানী ভবনে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক। কুণাল এবং অভিষেককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়েছে।

বিধানসভার সই কাণ্ডের তদন্তে এর আগে হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেক ব্যানার্জির বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডি। হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেকের বাড়ি 188A শান্তিনিকেতন বিল্ডিংয়ে পৌঁছয় সিআইডির পাঁচ সদস্যের একটি দল। 

সেখানে তাঁরা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকক্ষণ পরে বাড়ির ভিতর থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে দাবি করেন, অভিষেক ব্যানার্জি বাড়িতে নেই। বাড়িতে বর্তমানে পরিবারের অন্য সদস্যরাও কেউ নেই। কোথায় গেছেন, তিনি জানেন না।

এরপর আধিকারিকরা ওই ব্যক্তির নাম, ঠিকানা নোট করেন। সিআইডি আধিকারিকরা তারপরেও বাড়ির বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিধানসভার সই কাণ্ডের তদন্তে অভিষেককে একটি নোটিশ দিতেই আধিকারিকরা গিয়েছিলেন।

সেখান থেকে সিআইডি আধিকারিকরা অভিষেকের কালীঘাট রোডের বাড়িতে যান। গিয়ে তৃণমূল সাংসদের হাতে নোটিশ দিয়ে আসেন। পরবর্তীকালে ভবানী ভবনে হাজিরাও দিয়েছেন অভিষেক।