আজকাল ওয়েবডেস্ক: চাঁদের গায়ে তৈরি হবে নতুন 'দাগ'! জল্পনা তেমনটাই। তবে কীভাবে ঘটতে পারে? গোটা ঘটনা প্রক্রিয়া দেখতেই এবার মুখিয়ে বিজ্ঞানীরা। অপেক্ষা পাঁচ তারিখের। তবে চাঁদের গায়ে এই নতুন 'দাগ' তৈরি হতে পারে কী থেকে? তথ্য, ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের পরিত্যক্ত একটি রকেট আছড়ে পড়তে চলছে। আর তাতেই চন্দ্রপৃষ্ঠে তৈরি হতে চলেছে নয়া ক্ষত। গর্ত হতে পারে ২০ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত।
মাসের সংস্থার এই রকেট কেন মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল? কেনই বা এটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে? ২০২৫ সালে এই রকেট পাঠানো হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল দুটি বাণিজ্যিক লুনার ল্যান্ডার নির্দিষ্ট স্থানে পাঠানো। নির্দিষ্ট কাজ শেষ করার পর, ফেরার পথের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি শেষ হয়ে যায় ওই রকেটের। মহাকাশে ঘোরাঘুরি করতে করতেই সেটি ঢুকে পড়ে চাঁদের মধ্যাকর্ষণে।
সম্ভাবনা, বুধবার রকেটটির ওপরের অংশটি অনিচ্ছাকৃতভাবেই চাঁদের গায়ে আছড়ে পড়ার। এর ফলে সেখানে একটি গর্ত বা ক্রেটার তৈরি হবে এবং ধুলো ও ধ্বংসাবশেষের একটি মেঘ বা কুণ্ডলী উপরে উঠে আসবে। চাঁদের বুকে রকেট আছড়ে পড়ার পরে সেই মুহূর্তে তৈরি হওয়া ধুলো ঝড় কেমন হতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে বিজ্ঞানীদের।
মহাকাশ পর্যবেক্ষণ বিশেষজ্ঞ বিল গ্রে-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাঁদের আলোকিত পশ্চিম প্রান্তের ‘আইনস্টাইন ক্রেটার’-এর কাছে রকেটটি ঘণ্টায় ৫,৪০০ মাইল (বা ৮,৭০০ কিলোমিটার) গতিতে—যা শব্দের গতির চেয়ে সাত গুণ বেশি—আছড়ে পড়বে। যেহেতু ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটবে, তাই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ এলাকা থেকে এটি সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাওয়ার কথা।
কিন্তু এই পরিত্যক্ত রকেট যখন আছড়ে পড়বে চাঁদের বুকে, সেটি জমা হবে মহাকাশ-বর্জ্য হিসেবে। রকেটের ওই অংশটিকে মহাকাশ বর্জ্য হিসেবে খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন না বিজ্ঞানীরা, তবে কক্ষপথে ক্রমশ বাড়তে থাকা বিভিন্ন বস্তুর ভিড় যে একটি ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে বলে মত। মহাকাশ গবেষোণা সংস্থাগুলি কাজ করার সময়, তাতে চাঁদ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর রাখার কথা সেই দেশেরই। এক্ষেত্রে আমেরিকা যদিও এই প্রসঙ্গে এখনও কিছু জানায় নি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে একটি চীনা রকেটের অংশ চাঁদের দূরবর্তী পৃষ্ঠে দুটি গর্ত বা ক্রেটার তৈরি করেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট আলোর ঝলকানিটি এক সেকেন্ডেরও কম সময় স্থায়ী হবে। তবে সংঘর্ষের ফলে ছিটকে পড়া ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ মহাকাশে কয়েক মাইল (বা কিলোমিটার) পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং টেলিস্কোপের মাধ্যমে তা দৃশ্যমান হতে পারে। তবে চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকায়, এই ক্ষত চাঁদের গায়ে থেকে যাবে হাজার হাজার বছর।
















