আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের সড়কপথে কোনও বিমা না করিয়েই চলছে একাধিক গাড়ি। এ বার তাদের দাপট রুখতে এবং দুর্ঘটনাগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টের। মঙ্গলবার বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বেঞ্চ কেন্দ্র এবং বিমা নিয়ামক সংস্থা 'ইরডাই'-কে একটি পাইলট প্রকল্প খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। সেই প্রকল্পের অধীনে এ বার থেকে যে সমস্ত গাড়ির বিমা নেই, তাদের প্রযুক্তির সাহায্যে শনাক্ত করতে হবে। এরপর সেই অনুযায়ী, সেই গাড়িগুলিকে পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি দেওয়া হবে না। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকও শীর্ষ আদালতের নির্দেশকে নীতিগতভাবে সমর্থন করেছে। এমনটাই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

 

জানা গিয়েছে, দেশের প্রায় ৫৬ শতাংশ যানবাহনই বিমাহীন। এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত জানায়, মোটর যান আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্ঘটনাকবলিতরা যেন দীর্ঘ আইনি জটিলতায় না পড়েন। এই আইন প্রয়োগ জোরদার করতে কেন্দ্রের সড়ক পরিবরণ মন্ত্রক এবং ইরডাই-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা হাইওয়ে এবং শহরের এএনপিআর ক্যামেরাকে ভিএইচএএন পোর্টাল ও বিমা ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত করে সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিমাহীন গাড়ি সহজেই চিহ্নিত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'ই-চালান' কাটা যাবে। পাশাপাশি, ট্রাফিক পুলিশকেও রিয়েল-টাইম তথ্য যাচাইয়ের জন্য হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

 

নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। পথনিরাপত্তার স্বার্থে নতুন চারচাকা গাড়িতে থার্ড-পার্টি বিমার মেয়াদ ৩ থেকে বাড়িয়ে ৪ বছর এবং দু'চাকার গাড়িতে বিমার মেয়াদ ৫ থেকে বাড়িয়ে ৬ বছর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিমা নীতিতে স্বচ্ছতা আনতে চার স্তরীয় একক ফ্রেমওয়ার্ক গঠন এবং ক্রেতাদের জন্য একটি সহজ স্ট্যান্ডার্ড ফর্ম চালুর নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

 

১৯৯৬ সালের একটি পুরনো মামলার নিষ্পত্তির সময় আদালত স্পষ্ট জানায়, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সড়ক সুরক্ষা মানুষের জীবনধারণের অধিকারের অঙ্গ। ২০২২ সালের আগে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণের মীমাংসাহীন মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাজ্য পুলিশকে বিশদ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, সমস্ত সংস্থাকে ১৪ আগস্টের মধ্যে হলফনামা পেশ করতেও বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে, ১৮ আগস্ট মামলার পরবর্তী আলোচনা হবে।