আজকাল ওয়েবডেস্ক: তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন জি’ (Gen Z) ও ‘জেন আলফা’র (Gen Alpha) কাছে পৌঁছাতে এক বড়সড় জনসংযোগ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)। আগামী ৬ আগস্ট মুম্বাইয়ের নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারে (NMACC) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের ১০০টিরও বেশি শহরের প্রায় দুই হাজার ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীর মুখোমুখি হতে চলেছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত।

সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন বা যুব রাজনীতির পরিসরে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ও ছাত্র আন্দোলনের পটভূমিতে সঙ্ঘ প্রধানের এই সরাসরি ছাত্র সংলাপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিজেপি এবং আরএসএসের শীর্ষ নেতৃত্ব। ২০২১ সালের পর থেকে এত বড় পরিসরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সঙ্ঘ প্রধানকে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়নি।

সম্প্রতি বিতর্কিত নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত ইস্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তীব্র ছাত্র আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনা সঙ্ঘ পরিবারকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে দূরত্ব বা যোগাযোগের ঘাটতির বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়।

আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ার সময় নতুন প্রজন্মের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়ার কথা প্রকাশ্যেই তুলে ধরেছিলেন মোহন ভাগবত। নতুন দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে একতরফা নির্দেশ নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানো প্রয়োজন। তাঁর মতে, আগের মতো অন্ধ অনুগতির যুগ এখন আর নেই; আজকের তরুণরা প্রশ্ন করতে পছন্দ করে। তাই তাদের যুক্তি, ভালোবাসা এবং প্রয়োজনীয় সময় দিয়েই বোঝাতে হবে।

সঙ্ঘ প্রধানের এই বার্তা যে সংগঠনকে গভীরভাবে আত্মপর্যালোচনার দিকে ঠেলে দিয়েছিল, তা স্বীকার করে নিচ্ছেন বিজেপির অভ্যন্তরীণ নেতারাও। এক প্রবীণ দলীয় আধিকারিক জানান, সঙ্ঘ প্রধানের সেই মন্তব্যের পরেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রক্রিয়া দ্রুত গতি পায় এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে হালকাভাবে না নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। 

এরপর থেকেই আরএসএস ও বিজেপির যুব সংগঠনগুলির কাজের ধারায় বদল আনার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসবলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে যুগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান, অন্যদিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অতুল লিমায়ে ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-কে বামপন্থী সংগঠনগুলির আন্দোলনমুখী কৌশলের পাল্টা নিজেদের ভাবমূর্তি ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দেন।

একইসঙ্গে বিজেপির শীর্ষ মহল থেকেও ছাত্র সংগঠন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা ও এবিভিপি-কে নিছক সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়নকারী না থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পক্ষকালব্যাপী বিশেষ জনসংযোগ অভিযান চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে, পাশাপাশি তরুণদের লক্ষ্য করে মাদকবিরোধী প্রচারও শুরু করা হচ্ছে।

৬ আগস্টের ঘটনাটি মূলতঃ ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস’ (I.I.M.U.N.)-এর ১৫তম বর্ষপূর্তির বার্ষিক চ্যাম্পিয়নশিপ কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে ১০০টিরও বেশি শহরের ২,০০০ শিক্ষার্থী একত্রিত হবে, যেখানে মূল আলোচনার বিষয় নির্ধারিত হয়েছে— "ভারতীয় উপায়ে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে যুব সমাজের ভূমিকা"। আয়োজক সংস্থার মতে, দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের প্রবীণ নেতৃত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক গঠনমূলক চিন্তাভাবনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতেই সঙ্ঘ প্রধানকে এই বিশেষ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।